মিম ও করিমের পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা করে দিতে রাজি জাবালে নূর | daily-sun.com

মিম ও করিমের পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা করে দিতে রাজি জাবালে নূর

ডেইলি সান অনলাইন     ১২ আগস্ট, ২০১৮ ১৬:১৪ টাprinter

মিম ও করিমের পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা করে দিতে রাজি জাবালে নূর

 

রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে হোটেল রেডিসনের বিপরীতে জাবালে নূর পরিবহনের একটি বেপরোয়া বাস চাপায় নিহত শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থী মিম ও করিমের পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হয়েছে জাবালে নূর পরিবহনের মালিক। রবিবার (১২ আগস্ট) বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) হাইকোর্টকে এ তথ্য জানিয়েছে।

একই সঙ্গে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছে বিআরটিএ।


হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। পরে আদালত এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী ৭ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন।


এর আগে গত ৩০ জুলাই আজকের দিনে (১২ আগস্ট) বিআরটিএ-কে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের জন্য জাবালে নূর পরিবহন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।


এছাড়া ওই দুর্ঘটনায় জাবালে নূর পরিবহনের দায় নির্ধারণে তদন্ত প্রতিবেদন ২ মাসের মধ্যে দিতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালকের প্রতি নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এতে সহায়তা করবে পুলিশ কমিশনার ও বিআরটিএ।


জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ওই দিন এ আদেশ দেন। আদালতে রিটকারী আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল নিজেই শুনানি করেছিলেন।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ফরিদা ইয়াসমিন।


প্রসঙ্গত, গত ২৯ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হোটেল রেডিসনের বিপরীতে জাবালে নূর পরিবহনের একটি বেপরোয়া বাস চাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত ও অন্তত ১২ শিক্ষার্থী আহত হন। নিহতদের একজন ওই কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজিব (১৬), অন্যজন একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম (১৫)।   


ঘটনার দিনই নিহত দিয়া খানম মিমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। মামলা নং ৩৩ (৭) ১৮।


এছাড়া এই দুর্ঘটনার দিন থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করে কলেজটির শিক্ষার্থীরা। এরপর নিরাপদ সড়ক, শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা, নৌমন্ত্রী ও সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী সভাপতি শাজাহান খানের পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবিতে টানা নয়দিন রাজপথে আন্দোলনে ছিল দেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী।


এদিকে বেপরোয়া বাসচাপায় ওই দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর প্রধানমন্ত্রী তার অঙ্গীকার অনুযায়ী আজ সকালেই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের সামনে পথচারী আন্ডারপাস নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে ২০ লাখ টাকা করে সঞ্চয়পত্র প্রদান করেছেন। এছাড়া ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য পাঁচটি বাসও হস্তান্তর করেছেন প্রধানমন্ত্রী।


উল্লেখ্য, ঘাতক ওই বাসের চালকের লাইসেন্স ছিলনা। এছাড়া বাসটির ফিটনেস সার্টিফিকেটও ছিল মেয়াদোতীর্ণ। বর্তমানে ঘাতক বাসটির চালক ও মালিক দুইজনই বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড শেষে কারাগারে রয়েছেন।

 

আরও পড়ুন:

 

ঘাতক বাস মালিক শাহাদাৎ ৭ দিনের রিমান্ডে

 

করিম ও মিমের পরিবারকে ২০ লাখ করে টাকা দিলেন প্রধানমন্ত্রী


নতুন সড়ক পরিবহন আইনে যা থাকছে

 

ফিটনেসবিহীন গাড়ি শনাক্তে কমিটি গঠনের নির্দেশ


দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ

 


Top