ড্রাইভারদের লেন মেনে চলতে হবে, অনিয়ম বরদাশত করা যাবে না: প্রধানমন্ত্রী | daily-sun.com

ড্রাইভারদের লেন মেনে চলতে হবে, অনিয়ম বরদাশত করা যাবে না: প্রধানমন্ত্রী

ডেইলি সান অনলাইন     ১২ আগস্ট, ২০১৮ ১৩:৫৬ টাprinter

ড্রাইভারদের লেন মেনে চলতে হবে, অনিয়ম বরদাশত করা যাবে না: প্রধানমন্ত্রী

- ফাইল ফটো

 

ওভারটেকিংসহ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের কারণে সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ড্রাইভারদের লেন মেনে চলতে হবে।

ওভারটেকিং বা কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা যাবে না। ডিজিটাল পদ্ধতিতে ক্যামেরা ফিট করে অনিয়ম বন্ধ করতে হবে। রবিবার (১২ আগস্ট) সকালে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে কুর্মিটোলায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের সামনে পথচারী আন্ডারপাস নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।


একই সঙ্গে তিনি বলেন, নিরাপদে গাড়ি চালানো নিশ্চিত করার জন্য সরকার চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলেও অনেক চালক এতে ফাঁকি দেয়। তারা ভালোভাবে ট্রেইনিং করে না। হেলপারদের হাতে গাড়ি দিয়ে দেয়। তারপরও নানা পদক্ষেপের কারণে সড়কে দুর্ঘটনা অনেকটা হ্রাস পেয়েছে।


বিমানবন্দর সড়কে রমিজ উদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থীকে চাপা দেয়া বাসের চালক নিয়ম-বহির্ভূতভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই ড্রাইভার যেটা করেছে, ক্ষমার অযোগ্য, কোনো মাফ পাবে না। এ ধরনের অপরাধ ক্ষমা পাবে না।

দায়ী চালকদের উপযুক্ত শাস্তি দেয়া হবে।


এসময় পথচারীদেরও রাস্তায় চলাফেরায় সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যতদিন আমাদের শিশুরা রাস্তায় ছিল অনেকে আইন-কানুন মেনেছে। আমাদের মন্ত্রীদেরও গাড়ি থেকে নামতে বলেছে, তখন ফোন এসেছিল- কী করবো। বলেছি ওরা যা বলে শোনেন। কিন্তু এখন আবার দেখি পাশে ফুটওভার ব্রিজ থাকলেও রাস্তায় নেমে হাত দেখিয়ে দেখিয়ে পারাপার হয়, যততত্র গাড়ি থামিয়ে ওঠেন যাত্রীরা। এটা মোটেই ঠিক নয়। পথচারীদের আন্ডারপাস ও ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।


গাড়িচালকদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেখানে-সেখানে বাস থামানো যাবে না, নির্ধারিত স্টপেজে গাড়ি থামতে হবে। লেন মেনে চলতে হবে। ওভারটেকিং বা কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা যাবে না। আইন না মানলে আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবস্থা নিতে হবে। যেখানে যেখানে হাসপাতাল-স্কুল-কলেজ আছে, সেখানে আন্ডারপাস, ফুটওভার ব্রিজ করে দিতে হবে। স্কুল-কলেজগুলো ছুটির সময় একজন ট্রাফিক পুলিশ সেখানে থাকতে হবে, তাদের নিরাপদ পারাপারের জন্য।


নগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতের জন্য প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জন ফেলা যাবে না। নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলতে হবে। এমনকি বাসেও বিন থাকতে হবে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার স্বার্থে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে থাকতে পারে বলেও অভিমত দেন প্রধানমন্ত্রী।


প্রসঙ্গত, গত ২৯ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হোটেল রেডিসনের বিপরীতে জাবালে নূর পরিবহনের একটি বেপরোয়া বাস চাপায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত ও অন্তত ১২ শিক্ষার্থী আহত হন। নিহতদের একজন ওই কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজিব (১৬), অন্যজন একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম (১৫)।   


এই দুর্ঘটনার দিন থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করে কলেজটির শিক্ষার্থীরা। এরপর নিরাপদ সড়ক, শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা, নৌমন্ত্রী ও সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী সভাপতি শাজাহান খানের পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবিতে টানা নয়দিন রাজপথে আন্দোলনে ছিল দেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী।


শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনে যখন দেখলাম স্কুলের ইউনিফর্ম বানিয়ে অনেকে ঢুকে পড়ছে, বুঝলাম তৃতীয় পক্ষ, যারা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে চায়। এটা দেখার পর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে চিন্তিত হয়ে পড়ি। তখন একটি অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরে যেতে বলি। আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই, তারা সময় মতো ঘরে ফিরে গেছে।


শেখ হাসিনা বলেন, ‘যখন আমাদের (ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের কার্যালয়) অফিস আক্রান্ত হলো, তখন সেখান থেকে ফোন আসছিল, বলা হচ্ছিলো- আমরা তো টিকতে পারছি না, শুধু পাথর ছোড়া হচ্ছে। তখন বলেছি শুধু ধৈর্য ধরতে। কারা করলো এটা? সেসময় গুজব ছড়ানো হয়েছে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে বিভিন্ন দর্জি দোকানে ইউনিফর্ম বানানোর হিড়িক পড়ে গেছে, এসব কারা করেছে?’


গুজবে কান না দেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে অনেকে গুজব ছড়িয়েছে। দয়া করে গুজবে কান দেবেন না। বিভিন্ন সময়ে যাদের পুরস্কৃত করেছি, সেই বয়স্কদেরও দেখলাম এ ধরনের গুজব ছড়াতে। এসব তো মানা যায় না।

 
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে দিয়েছি। সুশিক্ষা ও আধুনিক শিক্ষার জন্য। অশ্লীল কথা বা গুজবের জন্য নয়।


এদিকে বেপরোয়া বাসচাপায় ওই দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর প্রধানমন্ত্রী তার অঙ্গীকার অনুযায়ী এ আন্ডারপাস নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে ২০ লাখ টাকা করে সঞ্চয়পত্র প্রদান করেছেন। এছাড়া ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য পাঁচটি বাসও হস্তান্তর করেছেন প্রধানমন্ত্রী।


প্রসঙ্গত, ঘাতক ওই বাসের চালকের লাইসেন্স ছিলনা। এছাড়া বাসটির ফিটনেস সার্টিফিকেটও ছিল মেয়াদোতীর্ণ। বর্তমানে ঘাতক বাসটির চালক ও মালিক দুইজনই বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড শেষে কারাগারে রয়েছেন।

 


Top