দ্রুততম সময়ের মধ্যে বোমা মিজানকে দেশে আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী | daily-sun.com

দ্রুততম সময়ের মধ্যে বোমা মিজানকে দেশে আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেইলি সান অনলাইন     ১০ আগস্ট, ২০১৮ ১৪:৩৭ টাprinter

দ্রুততম সময়ের মধ্যে বোমা মিজানকে দেশে আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 

ভারতে আটক নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াত-উল-মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) শীর্ষ নেতা মিজান ওরফে জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমা মিজান ওরফে মুন্নাকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফেরত আনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। শুক্রবার (১০ আগস্ট) সকালে রাজধানীর তেজকুনিপাড়ার নিজ বাসায় তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের নিয়ে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।


তিনি বলেন, বোমা মিজানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আশা করছি, দ্রুততম সময়ের মধ্যেই তাকে দেশে ফেরত আনা সম্ভব হবে।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে বিভিন্ন চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা আশ্রয় নিয়েছে। তাদের ফেরত আনার ব্যাপারে আমাদের কথাবার্তা চলছে। তাদের ফেরত আনার বিষয়টি চলমান।


এর আগে গত ৬ আগস্ট ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াত-উল-মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সন্দেহভাজন তিন সদস্যকে গ্রেফতার করে। তাদের মধ্যে ময়মনসিংহের ত্রিশালে পুলিশ ভ্যানে হামলা চালিয়ে ছিনিয়ে নেয়া জেএমবি শীর্ষ নেতা মিজান ওরফে জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমা মিজান ওরফে মুন্নাও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

 


জেএমবির দুইজন সদস্যকে কেরালার মালাপ্পুরাম জেলা থেকে গ্রেফতারের পর জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ বোমারু মিজানের অবস্থান নিশ্চিত হয়। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিজানকে কর্নাটক থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।


ভারতের ইংরেজি দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিহারের বোধ গয়া বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত ছিল বাংলাদেশি এই দুর্ধর্ষ জঙ্গি। ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের খাগড়াগর বিস্ফোরণেরও মূল হোতা এই জঙ্গি।


মিজান ওরফে জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমা মিজান জঙ্গিগোষ্ঠী জেএমবির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা এবং বাংলাদেশের একটি আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়েছে।

 
এনআইএর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এনআইএর সদস্যরা তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিস্ফোরকের আলামত ছাড়াও কয়েকটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র পেয়েছে। সে ভারতে জেএমবির শীর্ষ নেতা এবং বুরদোয়ান বিস্ফোরণের মামলা ও বাংলাদেশের বিভিন্ন মামলার আসামি।

 


২০১৪ সালে বোমা বিস্ফোরণ মামলার চার্জশিটে কাউসারকে ‘নাম্বার ২৪’ ও ‘জেএমবির সিনিয়র লিডার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই বোমা হামলায় দুইজন নিহত হয়েছিল। কেরালায় তার সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের পর পুলিশ তাকে খুঁজে বের করতে সক্ষম হয়।


মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৌদ্ধদের নিপীড়নের প্রতিশোধ নিতে বোধ গয়ায় জেএমবি হামলা চালিয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।


এর আগে, ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি সকালের দিকে ময়মনসিংয়ের ত্রিশালে প্রিজন ভ্যানে গুলি ও বোমা হামলা চালিয়ে বোমারু মিজানসহ আরো দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেয় জঙ্গিরা। অন্য দুই জঙ্গি ছিলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সালাউদ্দিন সালেহীন ওরফে সানি ও রাকিবুল হাসান ওরফে হাফেজ মাহমুদ।


ওইদিন টাঙ্গাইলে স্থানীয় জনতার হাতে আটক হাফেজ মাহমুদ পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন। অন্যদিকে, তখন থেকেই নিখোঁজ ছিলেন বোমারু মিজান ও সালেহীন।

 

আরও পড়ুন:

 

জেএমবি শীর্ষ নেতা বোমা মিজান ভারতে গ্রেফতার

 


Top