ভারতের ঘনিষ্ঠ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, দুরত্ব বাড়ছে পাকিস্তানের সঙ্গে | daily-sun.com

ভারতের ঘনিষ্ঠ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, দুরত্ব বাড়ছে পাকিস্তানের সঙ্গে

ডেইলি সান অনলাইন     ৯ আগস্ট, ২০১৮ ২২:২১ টাprinter

ভারতের ঘনিষ্ঠ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, দুরত্ব বাড়ছে পাকিস্তানের সঙ্গে

 

অভ্যন্তরীণ আইন সংশোধনের পর, ভারতকে স্ট্র্যাটেজিক ট্রেড অথরাইজেশান-১ (এসটিএ-১) ভুক্ত দেশ ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রী উইলবার রস এক টুইটে বলেছেন, ভারতকে যে নতুন মর্যাদা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, এর মাধ্যমে মার্কিন কোম্পানি ও নির্মাতারা মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করবে।


ভারতকে এসটিএ-১ মর্যাদা দেয়ার বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে আসে ২০১৬ সালে যখন যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে তাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সহযোগী হিসেবে ঘোষণা করে। যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচকরা ওই পদক্ষেপকে স্বাভাবিকভাবে নেয়নি কারণ এর কারণে উচ্চ প্রযুক্তির পণ্যগুলো কেনার সুযোগ পাবে ভারত। এই উচ্চ প্রযুক্তির পণ্যগুলোর মধ্যে প্রতিরক্ষা ও বেসামরিক মহাকাশ খাতের সরঞ্জামাদিও রয়েছে।

 
বর্তমান আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিবেশে, এনএসজি সদস্যপদ নিয়ে বিতর্ক উঠেছে। এশিয়ার দেশগুলো এটাকে জরুরি হিসেবে দেখছে। এ ব্যাপারে ভারতের মর্যাদা বাড়িয়ে দেয়ার বিষয়টি হিতে বিপরীত হতে পারে কারণ ভারত এখনও এনএসজি সদস্য হয়নি।


তবে এনএসজি’র সদস্য হওয়ার ব্যাপারে ভারতের যে আগ্রহ রয়েছে, মার্কিন পদক্ষেপের কারণে সেটা সুবিধা পাবে। প্রথাগতভাবে যারা চারটি রফতানি নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা অস্ট্রেলিয়া গ্রুপ, মিসাইল টেকনোলজি কন্ট্রোল রেজিম, ওয়াসেনার অ্যারেঞ্জমেন্ট এবং এনএসজি’র সদস্য, তাদেরকে এসটিএ-১ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে ভারতই একমাত্র দেশ যারা ওই চারটি ফোরামের সদস্য না হওয়া সত্বেও এসটিএ-১ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে।


সংখ্যাক্রমের দিক থেকে এশিয়ায় জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার পর ভারত তৃতীয় দেশ যারা এসটিএ-১ মর্যাদা পেলো। সার্বিকভাবে, ভারত ৩৭তম দেশ হিসেবে শর্তহীনভাবে এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলো। এর আগে যে ৩৬টি দেশ এ মর্যাদা পেয়েছে, এরা মূলত ন্যাটোভুক্ত দেশ। এর আগে, আরও সাতটি দেশের সাথে এসটিএ-১ পর্যায়ভুক্ত দেশ ছিলো ভারত।


বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, পশ্চিমা সুযোগ সুবিধাগুলো ভারতকে এনএসজি ক্লাবের সদস্য হতে সাহায্য করবে। একই সাথে পাকিস্তানের জন্য এটা কঠিন হয়ে যাবে। যদি নীতিগতভাবে দেখা হয়, তাহলে যারা নিউক্লিয়ার ননপ্রলিফারেশান ট্রিটি (এনপিটি)তে স্বাক্ষর করেনি, তাদেরকে যদি এনএসজির সদস্য হিসেবে নেয়া হয়, তাহলে সেটা চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর জন্য স্বস্তির ব্যাপার হবে না।


কিন্তু মজার ব্যাপার হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং সামরিক খাতে কৌশলগত অংশীদারিত্বের চুক্তি হয়েছে। একই সাথে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সামরিক বাহিনীর সম্প্রসারণ এবং ভারত মহাসাগরকে পারমাণবিকীকরণের ব্যাপারেও উৎসাহ দিচ্ছে। যেহেতু ভারতের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি রয়েছে, তাই সেটাই এনএসজি সদস্য হওয়ার জন্য ভারতের প্রধান শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্র ভারতের দিকে ঝুঁকে পড়ায় মার্কিন নন-প্রলিফারেশান নীতিতে সেটা একটা বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই রকম বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের ‘রিয়ালিস্ট স্ট্র্যাটিজিক থিঙ্কিং’য়ের বহিপ্রকাশ। যুক্তরাষ্ট্র মূলত চীনের নীতি মোকাবেলার দিকে বেশি নজর দিচ্ছে। অন্যদিকে এনএসজিতে ভারতের সদস্যপদের বিরোধীতা করাটা চীনের অবস্থান হয়ে দাঁড়িয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্র ভারতের জন্য উচ্চ প্রযুক্তি রফতানির দুয়ার যে একতরফাভাবে খুলে দিলো, সেটার ব্যাপারে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পাকিস্তান। তারা এটাকে বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ আখ্যা দিয়েছে। পাকিস্তান পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র মোহাম্মদ ফয়সাল এটাকে বৈষম্যমূলক ও ব্যতিক্রমবাদী সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় গৃহীত একটি নেতিবাচক সিদ্ধান্ত হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন, যেটা নন-প্রলিফারেশানের নীতিকে আরও ক্ষতিগ্রস্থ করলো। পাকিস্তান বিশ্বাস করে সমস্ত রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থার অধীনে কোন ধরনের বৈষম্য ছাড়াই অত্যাধুনিক ও দ্বৈত ব্যবহারোপযোগী প্রযুক্তি অর্জনের অধিকার রয়েছে।


লেখক: বিনীশ আলতাফ, ইসলামাবাদের স্ট্র্যাটেজিক ভিশন ইন্সটিটিউটের সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট


- সূত্র: গ্লোবাল ভিলেজ স্পেস অবলম্বনে সাউথ এশিয়ান মনিটর ডট কম

 


Top