স্মারক জালিয়াতির মামলায় রাগীব আলী ও তার ছেলের ১৪ বছরের সাজা বহাল | daily-sun.com

স্মারক জালিয়াতির মামলায় রাগীব আলী ও তার ছেলের ১৪ বছরের সাজা বহাল

ডেইলি সান অনলাইন     ৯ আগস্ট, ২০১৮ ১৭:৪৪ টাprinter

স্মারক জালিয়াতির মামলায় রাগীব আলী ও তার ছেলের ১৪ বছরের সাজা বহাল

 

ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতির মামলায় সিলেটের ব্যবসায়ী রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাইয়ের ১৪ বছর কারাদণ্ডের রায় বহাল রেখেছেন জজ আদালত। বৃহস্পতিবার (৯ আগস্ট) সিলেটের জেলা ও দায়রা জজ বিশেষ আদালতের বিচারক মফিজুর রহমান নিম্ন আদালতের এ রায় বহাল রাখার আদেশ দেন।


ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতি করে তারাপুর চা-বাগান দখলের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাইকে সিলেটের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুজ্জামান হিরো ১৪ বছরের সাজা দেন।


২০১৭ সালে আদালত রায় ঘোষণার সময় পর্যবেক্ষণে বলেছিলেন- মানবিক মুখোশ পরে অবৈধ প্রক্রিয়ায় জনসম্পদ আত্মসাতের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলার এই রায়।


পর্যবেক্ষণে আরো বলা হয়, রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাই অর্থবিত্তে বলীয়ান দেশের অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি। এ ধরনের ব্যক্তিরা বর্তমান বাংলাদেশে তাদের অবৈধ প্রভাব ব্যবহার করে অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করছে।


সেটির বিরুদ্ধে করা আপিল শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার সকালে বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন।


রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও জননিরাপত্তা আদালতের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট নওশাদ আহমদ চৌধুরী আপিলে রায় বহাল রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


তিনি বলেন, বিশেষ দায়রা জজ আদালত রাগীব আলীর সাজার রায় বহাল রেখেছেন। ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতি করে নগরের তারাপুর চা-বাগান ৯৯ বছরের জন্য লিজ নেয়ার অভিযোগে বিগত ২০০৫ সালে সিলেটের কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন তৎকালীন সহকারী কমিশনার ভূমি এসএম আব্দুল কাদের। তদন্ত এবং বিচার শেষে এ মামলায় ২০১৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সিলেট জেলা আদালতের তৎকালীন মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরো পাঁচটি ধারায় রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাইকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন।


এ রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা আপিল করলে বৃহস্পতিবার নিম্ন আদালতের রায় বহাল রেখে রায় দেন বিশেষ জজ আদালতের বিচারক।


স্মারক জালিয়াতি ছাড়াও প্রতারণার মাধ্যমে ভূমি আত্মসাতের অপর মামলায় গত বছর ৬ এপ্রিল রাগীব আলীকে ১৪ বছর আর তার ছেলে আব্দুল হাইকে ১৬ বছরের সাজা দেয় আদালত।


আপিল শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট নওশাদ আহমদ চৌধুরী। আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন সাবেক আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু, অ্যাডভোকেট এটিএম মাসুদ টিপু ও অ্যাডভোকেট মঈনুল ইসলাম প্রমুখ।

 

প্রসঙ্গত, আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেবোত্তর সম্পত্তির তারাপুর চা-বাগান ১৯৯০ সালে ভুয়া সেবায়েত সাজিয়ে দখলে নেন রাগীব আলী। বাগানের একাংশে রাগীব আলী ও তার স্ত্রীর নামে মেডিক্যাল কলেজ ও নার্সিং কলেজ স্থাপন করেন। দেবোত্তর সম্পত্তির চা-বাগান বন্দোবস্ত নেওয়া ও চা-ভূমিতে বিধিবহির্ভূত স্থাপনা করার অভিযোগে ২০০৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেটের তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আবদুল কাদের বাদী হয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের স্মারক জালিয়াতি ও সরকারের এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুটো মামলা দায়ের করেন।


২০১৬ সালের ১৯ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ একটি বেঞ্চ রায়ে মামলা দুটো পুনরুজ্জীবিত করে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দেন। ওই বছরের ১০ জুলাই আদালতে সিলেটের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের অতিরিক্ত সুপার সারোয়ার জাহান অভিযোগপত্র দাখিল করলে ১২ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির মধ্যদিয়ে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ওই দিনই দেশ ত্যাগ করেন রাগীব আলী ও তার ছেলে। ২৩ নভেম্বর ভারতের করিমগঞ্জ ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে রাগীব আলী এবং এর আগে ১২ নভেম্বর ভারত থেকে জকিগঞ্জ এসে আবদুল হাই গ্রেফতার হন।  

 

এর পর ওই বছরেরই ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে রাগীব আলীকে হস্তান্তর করে ভারতের পুলিশ। রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাই বর্তমানে কারাবন্দী।

 

আরও পড়ুন:


রাগীব আলীর ১৪ বছর, ছেলেসহ ৪ জনের ১৬ বছর কারাদণ্ড


পলাতক থেকে পত্রিকা প্রকাশ: রাগীব আলী ও তার ছেলের ১ বছরের কারাদণ্ড


জালিয়াতি মামলায় রাগীব আলী ও তার ছেলের ১৪ বছর করে কারাদণ্ড


ভূমি আত্মসাতের মামলায় রাগীব আলীর বিচার শুরু


রাগীব আলীকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করল ভারত


পলাতক শিল্পপতি রাগীব আলী ভারতে আটক

 

 


Top