ফুটওভার ব্রিজটি যেন এক মৃত্যুফাঁদ | daily-sun.com

ফুটওভার ব্রিজটি যেন এক মৃত্যুফাঁদ

ডেইলি সান অনলাইন     ৭ আগস্ট, ২০১৮ ১৮:২৬ টাprinter

 ফুটওভার ব্রিজটি যেন এক মৃত্যুফাঁদ

নওগাঁর রাণীনগর রেলষ্টেশনের ফুটওভার ব্রীজটি আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে ভেঙ্গে ফেলার কাজ শুরু করা হয়েছে। আসন্ন ঈদুল আযহায় ট্রেনের ছাদে ভ্রমণকারী যাত্রীদের দুর্ঘটনা এড়াতে এ পদক্ষেপ নিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

 

 

প্রতি ঈদেই ট্রেনের ছাদে বাড়ী ফেরা যাত্রীদের এই ফুটওভার ব্রীজের সাথে ধাক্কা লেগে হতাহতের ঘটনা ঘটতো।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, প্রতিটি ফুটওভার ব্রিজ প্রায় ১৭ ফিট থেকে সাড়ে ১৭ ফিট উঁচু হয়। সেই তুলনায় রাণীনগর ফুটওভার ব্রীজটি একটু কম উচু রয়েছে। এর উপর গত দু’বছর আগে এবং সম্প্রতি রেলের পাটাতন উঁচু করা হয়।

 

পাটাতন উঁচুর সাথে ফুটওভার ব্রীজটির উচ্চতা না বাড়ানোর কারণে বর্তমানে ব্রীজের উচ্চতা ১৫ ফিট ৩ ইঞ্চিতে নেমে এসেছে। পাশাপাশি আগের তুলনায় বর্তমানের কিছু কিছু রেলের বগিগুলো প্রায় একফুট বেশি উচ্চতা রয়েছে। এতে করে ট্রেন যখন এই ফুটওভার ব্রীজ অতিক্রম করছে ঠিক তখনি ট্রেনের ছাদে অবৈধভাবে ভ্রমণকারী যাত্রীরা ব্রীজের পাটাতনের সাথে ধাক্কা খেয়ে হতাহতের শিকার হয়।


 
স্থানীয়রা জানান, গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে তিনটার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা দিনাজপুরগামী আন্তঃনগর দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনটি রাণীনগর ষ্টেশন অতিক্রম করার সময় ওই ট্রেনের ছাদে থাকা যাত্রীদের মধ্যে ৭জন প্লাটফর্মের ফুটওভার ব্রীজের পাটাতনের সাথে ধাক্কা খায়। এতে ছাদ থেকে ছিটকে পরে ঘটনাস্থলেই চারজন এবং হাসপাতালে আরো একজনসহ মোট ৫জন নিহত হয়।

এ সময় আহত হয় আরো দু’যাত্রী। এক সাথে এতোগুলো প্রানহানির খবরে সাথে সাথে ছুটে আসেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা ঘটনাস্থলে এসে ফুটওভার ব্রিজটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংস্কার করার উদ্যোগের কথা জানান।

 

কিন্তু গত ঈদের আগে সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সর্তকতামূলক সাবধান নামক একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়। ব্রীজটি সংস্কার কিংবা পুনঃস্থাপন না করে এমন সাইনবোর্ড নিয়ে এলাকার জনমনে নানা রকম সমালোচনার ঝড় ওঠে। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিলেন ২/৩ মাসের মধ্যেই ব্রীজটি সংস্কারের মাধ্যমে উঁচু করা হবে কিন্তু কাজ শুরু না হলেও আসন্ন ঈদে ঘরমুখো ট্রেন যাত্রীদের হতাহতের ঘটনা এড়াতে মঙ্গলবার সকাল থেকে ফুটওভার ব্রীজটি ভেঙ্গে ফেলার কাজ শুরু করেছে।

 

 

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ রেলওয়ে পাকশি বিভাগীয় ব্রীজ প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান জানান, ঈদে ঘরে ফেরা যাত্রীরা ফুটওভার ব্রীজের সাথে ধাক্কা লেগে হতাহতের ঘটনা যেন আর না ঘটে সেই লক্ষ্যে ব্রীজের উপরের অংশটুকু ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে। তবে ঈদের পর দরপত্রের মাধ্যমে ফুটওভার ব্রীজটি সংস্কারের মাধ্যমে উঁচু করা হবে।

 


Top