এসপি গোল্ডেন লাইনের মালিক-চালক রিমান্ড শেষে কারাগারে | daily-sun.com

এসপি গোল্ডেন লাইনের মালিক-চালক রিমান্ড শেষে কারাগারে

ডেইলি সান অনলাইন     ৭ আগস্ট, ২০১৮ ১৮:২৫ টাprinter

এসপি গোল্ডেন লাইনের মালিক-চালক রিমান্ড শেষে কারাগারে

 

রাজধানীর মগবাজার ওয়্যারলেস গেটের কাছে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহতের ঘটনায় ঘাতক বাস এসপি গোল্ডেন লাইন পরিবহনের মালিক জুনায়েদ হোসেন লস্করের (৪৬) ও চালক ইমরান সরদারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৭ আগস্ট) তাদের দুইজনকে ঢাকা মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা রমনা থানার উপ-পরিদর্শক মিজানুর রহমান।

অপরদিকে তাদের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম ফাহাদ বিন আমীন চৌধুরী তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়ে জামিন শুনানির জন্য বুধবার (৮ আগস্ট) দিন ধার্য করেন।


এর আগে পলাতক হেলপারকে গ্রেফতার ও মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য গত ৪ আগস্ট ইমরান সরদারের দুদিন ও ৫ আগস্ট জুনায়েদ হোসেনের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।


এর আগে মালিক জুনায়েদ হোসেন লস্করকে (৪৬) সাতক্ষীরার লস্করপাড়া থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৩।


শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের মধ্যেই গত শুক্রবার (৩ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে রাজধানীর মগবাজার ওয়্যারলেস গেটের পাশে ‘এসপি গোল্ডেন লাইন’ নামে একটি মিনিবাসের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী সাইফুল ইসলাম রানা নিহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই উত্তেজিত জনতা বাসটিতে (ঢাকা মেট্রো ঝ ১৪-০২১৪) আগুন ধরিয়ে দেয়।

 


রানার পরিবার জানান, দ্রুতগতির বাসটি রানাকে চাপা দেয়। গুরুতর অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক বেলা সোয়া ২টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


রানা বরিশাল জেলার বানারিপাড়া তেতলা গ্রামের শাহজাহান আলীর ছেলে। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিন সবার বড় ছিলেন। খিলগাঁও গোড়ান হাড়ভাঙ্গা মোড় এলাকায় তিনি বসবাস করতেন। তিনি মগবাজারস্থ ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালের নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন।


দুর্ঘটনার পর বাসটির চালক ইমরান সরদার (২৫) পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু স্থানীয়রা ধাওয়া দিয়ে ধরে তাকে উত্তম-মধ্যম দেন। এরপর পুলিশে হস্তান্তর করেন। চালক ইমরানের বাড়ি পিরোজপুর সদরের কুমুড়িয়ায়। বাসটি কল্যাণপুর থেকে আরামবাগ যাচ্ছিল।


প্রসঙ্গত, প্রসঙ্গত, গত রবিবার (২৯ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হোটেল রেডিসনের বিপরীতে এমইএস বাস স্ট্যান্ডে জাবালে নূর পরিবহনের দুই বাসের চালকের রেষারেষির ফলে একটি বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত ও অন্তত ১২ শিক্ষার্থী আহত হন। নিহতদের একজন ওই কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম (১৬), অন্যজন একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম (১৫)।

 


ওই দুর্ঘটনার দিন থেকে গত রবিবার পর্যন্ত আট দিন ধরে দোষী পরিবহনকর্মীদের বিচার, নিরাপদ সড়ক, শিক্ষার্থী বান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবি জানাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।  পাশাপাশি তারা সড়কে অবস্থান নিয়ে গাড়ি ও গাড়ির চালকের লাইসেন্স পরীক্ষা করেন। এর মধ্যে বেশ কিছু যানবাহনের ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।


এর মধ্যেই মগবাজারে ঘাতক ওই বাসটির ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী সাইফুল ইসলাম রানা নিহত হন।  

 

 

আরও পড়ুন:

 

এসপি গোল্ডেন লাইনের মালিক ১দিনের রিমান্ডে

 

মগবাজারের সেই ঘাতক বাসের চালক আটক

 

মগবাজারে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত, বাসে আগুন

 

ঘাতক জাবালে নূরের বাস মালিক শাহাদাৎ ৭ দিনের রিমান্ডে

 

বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু: জাবালে নূরের চালক-হেলপারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

 

করিম ও মিমের পরিবারকে ২০ লাখ করে টাকা দিলেন প্রধানমন্ত্রী


নতুন সড়ক পরিবহন আইনে যা থাকছে

 

ফিটনেসবিহীন গাড়ি শনাক্তে কমিটি গঠনের নির্দেশ


দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ

 

 

 


Top