যুক্তরাষ্ট্র আর পাকিস্তানের উপর নির্ভরশীল থাকতে চাইছে না, নিরাপত্তা সহায়তায় আরও কাট-ছাট | daily-sun.com

যুক্তরাষ্ট্র আর পাকিস্তানের উপর নির্ভরশীল থাকতে চাইছে না, নিরাপত্তা সহায়তায় আরও কাট-ছাট

ডেইলি সান অনলাইন     ৬ আগস্ট, ২০১৮ ১৪:৪৭ টাprinter

যুক্তরাষ্ট্র আর পাকিস্তানের উপর নির্ভরশীল থাকতে চাইছে না, নিরাপত্তা সহায়তায় আরও কাট-ছাট

 

একদিকে আফগানিস্তানে নিজের ব্যর্থতা এবং অন্যদিকে অর্থনৈতিক, পরিকাঠামো ও নিরাপত্তা সহযোগিতার জন্য ইসলামাবদের ক্রমেই চীন ও রাশিয়ার দিকে ঝুঁকে পরার কারণে ক্ষুদ্ধ হয়ে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে নানাভাবে শাস্তি দেয়ার চেষ্টা করছে বলে মনে হচ্ছে। ওয়াশিংটন পাকিস্তানের জন্য আইএমএফ’র বেইলআউট প্যাকেজ অনুমোদন করবে না বলে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও হুশিয়ারি উচ্চারণ করার পরপরই কংগ্রেসে যে প্রতিরক্ষা বিল পাস হয় তাতে পাকিস্তানকে দেয়া নিরাপত্তা সহায়তার পরিমাণ আরো কমানোর পরামর্শ রয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই বিল অনুমোদন করলে পাকিস্তানকে দেয়া নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট সাহায্যের পরিমাণ মাত্র ১৫০ মিলিয়ন ডলারে নেমে আসবে। তবে এই আর্থিক সহায়তা প্রদানের শর্ত হিসেবে হক্কানি নেটওয়ার্ক বা লস্কর-ই-তাইবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণকে রাখা হয়নি।


পাকিস্তানকে সাহায্য কমিয়ে দেয়ার মানে যুক্তরাষ্ট্র আর পাকিস্তানের উপর নির্ভরশীল থাকতে চাইছে না। তাছাড়া এই সাহায্য কর্তন স্বল্প মেয়াদে হলেও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর উপর একটি চাপ সৃষ্টি হবে। ইসলামাবাদকে সামরিক সাহায্য বন্ধ করে দেয়ার মানে হলো সেনবাহিনীর তাৎক্ষণিক বস্তুগত সম্পদ ও জনবল আপগ্রেড করার পরিকল্পনা থমকে যাওয়া। কিন্তু এভাবে সামরিক সহায্য কমিয়ে দেয়ার পেছনে কংগ্রেসের কি কারণ তা এখনো স্পষ্ট নয়।

 
পিটিআই চেয়ারম্যান ইমরান খান যখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পাকিস্তানের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন তখনই মার্কিন কংগ্রেস দেশটিতে সাহায্য কমানোর উদ্যোগ নিলো। যদিও হোয়াইট হাউজের সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার ইংগিত দিয়েছেন ইমরান খান। ইসলামাবাদের বেসামরিক ও সামরিক মহল যুক্তরাষ্ট্রের এই বিলটিকে কিভাবে নেয় তা এখন দেখার বিষয়।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কার যে দুটি দেশই এমন পথ বেছে নিচ্ছে যা তাদেরকে পরস্পরের উপর কম নির্ভরশীল করে তুলবে।


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দক্ষিণ এশিয়া নীতিতে আকস্মিক পরিবর্তন ও তার টিম দেখিয়েছে যে আফগান প্রহেলিকা মোকাবেলার কোন সুস্পষ্ট ধারণা তাদের কাছে নেই। তাই ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা পাকিস্তানকে ‘বলির পাঠা’ বানানোর উপায় খুঁজছে। এরপরও ট্রাম্প প্রশাসনকে মনে রাখতে হবে যে পাকিস্তান সহযোগিতা না করলে আফগানিস্তানে শান্তি অধরাই থেকে যাবে।


- সূত্র: দ্য ন্যাশন অবলম্বনে সাউথ এশিয়ান মনিটর ডট কম

 


Top