যৌক্তিক আন্দোলনকে অযৌক্তিক পথে উস্কানির চক্রান্ত লক্ষ্য করছি: কাদের | daily-sun.com

যৌক্তিক আন্দোলনকে অযৌক্তিক পথে উস্কানির চক্রান্ত লক্ষ্য করছি: কাদের

ডেইলি সান অনলাইন     ৩ আগস্ট, ২০১৮ ১৭:০৯ টাprinter

যৌক্তিক আন্দোলনকে অযৌক্তিক পথে উস্কানির চক্রান্ত লক্ষ্য করছি: কাদের

 

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন যৌক্তিক, সরকার স্বীকার করেছে। কিন্তু, এ যৌক্তিক আন্দোলনকে অযৌক্তিক পথে উস্কানি দিয়ে ভিন্ন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের অশুভ চক্রান্ত লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের মধ্যে অনুপ্রবেশ করে বিএনপি ও তার সাম্প্রদায়িক দোসররা সরকার হঠানোর নিরাপদ সড়ক খুঁজছে। এ নিয়ে আমরা একটু উদ্বিগ্ন, বিচলিত।  


শুক্রবার (৩ আগস্ট) দুপুরে গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথসভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন ওবায়দুল কাদের।


তিনি বলেন, আমরা এও লক্ষ্য করছি, এই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মিছিলে ঢুকে কিভাবে অশ্লীল, বিশ্রী, অশালীন স্লোগানের উস্কানি দিচ্ছে একটি রাজনীতিক মতলবি মহল। তারা এই শিশুদের সমাবেশে খাবার পানি সরবরাহ করছে এবং উস্কানি দিচ্ছে আরও উত্তেজিত হওয়ার জন্য।  


তিনি আরও বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি এই শিক্ষার্থীরা কিছু কিছু এলাকা থেকে এই কুচক্রি মহলদের বের করে দিয়েছে। এই মহলটি সন্ধ্যার পর বেশি তৎপর হয়। সন্ধ্যার পর এখানে অনেক ঘটনা ঘটেছে।

 
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি কোটা সংস্কার আন্দোলনে ভর করে ব্যর্থ হয়েছে।

তারা নয় বছরের নয় মিনিটও রাস্তায় বিক্ষোভ করতে পারেনি। সেই দগদগে ব্যর্থতার পরে তার দোসররা কোটা আন্দোলনে ভর করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছে। এখন তারা সোয়ার হয়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক দাবির আন্দোলনে। তার সাইন অ্যান্ড সিম্পটম আমরা বিগত ৫ দিন ধরে লক্ষ্য করছি। ’


আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘আমাদের মন্ত্রী-এমপি অনেকেই নাজেহাল হয়েছেন। আমরা মনে করি, শিক্ষার্থীরা তাদের নাজেহাল করেনি। অনুপ্রবেশ করে মতলবি মহল এই অপকর্ম করেছে। তারা পুলিশ, বিজিবি অফিসার ও ভদ্রলোককে অপমান-অপদস্ত করেছে। সন্ধ্যার পর রাতের অন্ধকারে কার্যকলাপ শুরু করেছে। আমরা আমাদের নেতাকর্মীদের ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা প্রদর্শনের অনুরোধ করেছি। কোনো প্রকার উস্কানির ফাঁদে না পড়ে সে ব্যাপারে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে বলেছি। শুধু তারা লক্ষ্য রাখবে কারা, কারা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে অনুপ্রবেশ করছে। অনুপ্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে শিশুদের যৌক্তিক আন্দোলনকে জনগণের কাছে ভুল মেসেজ দিতে চেষ্টা করছে। ’

 


মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন- রমিজউদ্দিন স্কুলের পাশে একটা আন্ডারপাস নির্মাণের যে দাবি, সেটা পূরণের বিষয়ে তড়িৎ ব্যবস্থা নিতে। অবশ্য এর আগে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার কোরকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন এর ডিজাইন করে সম্ভাব্যতা যাচাই করে মন্ত্রণালয়ে একটা প্রস্তাব পাঠানোর। সেনাবাহিনী সে প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে সেনাবাহিনী এই আন্ডারপাস নির্মাণের কাজ অচিরেই শুরু করবে। ’


সড়ক পরিবহন আইনের বিষয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নে আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি। এ কারণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আইন মন্ত্রণলয় আগামী সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে সড়ক পরিবহন আইন উত্থাপন করবে এবং সেটি বিল আকারে পাস হবে। এরপরে এই সরকারের শেষ অধিবেশন সম্ভবত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে, সেখানে আইনটি পাস হবে। ’


তিনি বলেন, ‘শিশুদের যৌক্তিক আন্দোলন যেন কোনোভাবে অযৌক্তিক দিকে না যায়, সেজন্য সবাই সচেতন থাকব, সতর্ক থাকব। ’


এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, বি এম মোজাম্মেল হক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এনামুল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক  অপু উকিল, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছার, ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন প্রমুখ।


প্রসঙ্গত, গত রবিবার (২৯ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হোটেল রেডিসনের বিপরীতে এমইএস বাস স্ট্যান্ডে জাবালে নূর পরিবহনের দুই বাসের চালকের রেষারেষির ফলে একটি বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত ও অন্তত ১২ শিক্ষার্থী আহত হন। নিহতদের একজন ওই কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম (১৬), অন্যজন একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম (১৫)।


ওই দিন থেকেই দোষী পরিবহনকর্মীদের বিচার, নিরাপদ সড়ক, শিক্ষার্থী বান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবি জানাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি তারা সড়কে অবস্থান নিয়ে গাড়ি ও গাড়ির চালকের লাইসেন্স পরীক্ষা করেন। আন্দোলনের পঞ্চম দিনে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর, বগুড়া, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় দিনভর বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।  

 


Top