মন্ত্রীদের নির্দেশে গণপরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে: রিজভী | daily-sun.com

মন্ত্রীদের নির্দেশে গণপরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে: রিজভী

ডেইলি সান অনলাইন     ৩ আগস্ট, ২০১৮ ১৪:২৬ টাprinter

মন্ত্রীদের নির্দেশে গণপরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে: রিজভী

 

কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের যৌক্তিক দাবিগুলোকে অগ্রাহ্য করার জন্যই মন্ত্রীদের নির্দেশে গণপরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, শুধু পরিবহন সেক্টর নয়, দেশের সব সেক্টরে ভোটারবিহীন সরকার ব্যর্থ হয়েছে।

ফলে বিএনপির পক্ষ থেকে সরকারের পদত্যাগ দাবি আজ গণদাবিতে পরিণত হয়েছে।  


শুক্রবার (৩ আগস্ট) বেলা সোয়া ১১টার দি‌কে নয়াপল্ট‌নে দলের কেন্দ্রীয় কার্যাল‌য়ে এক সংবাদ স‌ম্মেল‌নে এসব কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী।


তিনি বলেন, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘নিরাপত্তার জন্য পরিবহন মালিকরা বাস রাস্তায় নামাচ্ছেন না’। অথচ গতকাল বৃহস্পতিবার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা গাড়ি চলতে বাধার সৃষ্টি করেনি বরং তারা সুশৃঙ্খলভাবে গাড়ি চলতে সহায়তা করেছে। তারা গাড়ি ও চালকদের লাইসেন্স আছে কিনা, সেটি চেক করেছে। যেখানে মন্ত্রী-এমপি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কারও গাড়ির কাগজপত্র নেই। এটা জাতির জন্য লজ্জার।


এ সময় তিনি দেশ পরিচালনায় লাইসেন্সহীন সরকারের পদত্যাগ ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। রিজভী বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নাশকতার আশঙ্কা করে বক্তব্য দেয়ার পরপরই তাদের ওপর পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা আক্রমণ করেছে।

এসব দেখে সুস্পষ্ট হয়ে উঠছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্যাবোটাজের বক্তব্য মূলতঃ সরকারি নাশকতারই ইঙ্গিত। ’


বিএনপির এই নেতা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গত পরশু বলেছেন- শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নিয়েছে সরকার। তারপরও বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীরা মাঠে কেন? কারণ, এই কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও এই সরকারকে বিশ্বাস করে না।


এ সময় রিজভী স্কুল-কলেজ পড়ুয়া কিশোর-কিশোরীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীরা অপশাসন, দুঃশাসন ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে অভূতপূর্ব আন্দোলনে গড়ে তুলেছে। শিশু-কিশোররা মাত্র দু’দিনে সব সেক্টরে যে শৃঙ্খলার নজির স্থাপন করেছে, তাতে আমরা আশাবাদী, সুশাসন ও গণতন্ত্র কায়েম করা গেলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশকেও ইতিবাচক পথে পরিচালনা করা যাবে।


রিজভী সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু নিয়ে হাসি-তামাশা ও পরিবহন সেক্টরে অরাজকতা সৃষ্টিকারী নৌ পরিবহনমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানান।


প্রসঙ্গত, গত রবিবার (২৯ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হোটেল রেডিসনের বিপরীতে এমইএস বাস স্ট্যান্ডে জাবালে নূর পরিবহনের দুই বাসের চালকের রেষারেষির ফলে একটি বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত ও অন্তত ১২ শিক্ষার্থী আহত হন। নিহতদের একজন ওই কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম (১৬), অন্যজন একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম (১৫)।


ওই দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনার বিষয়ে ওই দিনই সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকরা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি হিসেবে নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। এ সময় তিনি হেসে হেসে এ বিষয়ে দায়ীদের শাস্তির কথা জানানোর পাশাপাশি এ দুর্ঘটনার সঙ্গে ভারতের মহারাষ্ট্রে এক সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৩ জন নিহত হওয়ার তুলনা করেন। পরিবহন শ্রমিক ও মালিকদের নেতা হিসেবে নৌমন্ত্রীর প্রশ্রয়ে বাসের চালক ও হেলপাররা স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠছে–এমন অভিযোগে শাজাহান খান হেসে হেসে বলেন, ‘আজকের বিষয়ের সঙ্গে এটি রিলেটেড নয়। মহারাষ্ট্রে এক দুর্ঘটনায় ৩৩ জন নিহত হলেও কোনও হৈ চৈ হয় না। অথচ বাংলাদেশে সামান্য কিছুতেই হই চই হয়। ’ 


তার এই বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। প্রধানমন্ত্রীও তাকে তিরস্কার করেন।


ওই দিন থেকেই দোষী পরিবহনকর্মীদের বিচার, নিরাপদ সড়ক, শিক্ষার্থী বান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবি জানাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি তারা সড়কে অবস্থান নিয়ে গাড়ি ও গাড়ির চালকের লাইসেন্স পরীক্ষা করছেন।  

 


Top