বাসচাপায় নিহত দিয়ার বাসায় মির্জা ফখরুল | daily-sun.com

বাসচাপায় নিহত দিয়ার বাসায় মির্জা ফখরুল

ডেইলি সান অনলাইন     ৩ আগস্ট, ২০১৮ ১৩:২৮ টাprinter

বাসচাপায় নিহত দিয়ার বাসায় মির্জা ফখরুল

- নিহত দিয়ার বাসায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ

 

রাজধানীর বিমান বন্দর সড়কে বাস চাপায় নিহত শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিমের (১৫) শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে তার বাসায় গেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টা দিকে মহাখালীতে দিয়ার বাবা জাহাঙ্গীর ফকিরের বাসায় যান তিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দীন দিদার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।


তিনি জানান, দিয়ার বাসায় বিএনপি মহাসচিবসহ অন্যরা প্রায় ২০ মিনিট অবস্থান করেন এবং তিনি দিয়ার বাবা-মা, ভাইবোনের সঙ্গে কথা বলেন। মির্জা ফখরুল দিয়ার পরিবারকে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শোক এবং সমবেদনার কথা জানান।


বিএনপি মহাসচিব সাংবাদিকদের বলেন, কারাগারে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এ মর্মান্তিক নির্মম ঘটনার খবর জেনে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জেল থেকে খোঁজখবর নিচ্ছেন।


এ ব্যাপারে দিয়ার বাবা জাহাঙ্গীর ফকির জানান, কয়েকজন নেতাসহ মির্জা ফখরুল ইসলাম বাসায় এসে আমাদের সান্ত্বনা দিয়েছেন। প্রথমে আমি বাসায় ছিলাম না। তাদের আসার খবর শুনে বাসায় ফিরে দেখা করি। ফখরুল সাহেব বলেছেন, সন্তান তো ফেরত দিতে পারব না।

কিন্তু আমরা বিএনপির পক্ষ থেকে সবসময় আপনাদের পাশে আছি।


এ সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী ও প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, কেন্দ্রীয় নেতা ফরহাদ হোসেন আজাদ ও বনানী থানার সভাপতি আবুল কালাম আজাদ।  


প্রসঙ্গত, গত রবিবার (২৯ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হোটেল রেডিসনের বিপরীতে এমইএস বাস স্ট্যান্ডে জাবালে নূর পরিবহনের দুই বাসের চালকের রেষারেষির ফলে একটি বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত ও অন্তত ১২ শিক্ষার্থী আহত হন। নিহতদের একজন ওই কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম (১৬), অন্যজন একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম (১৫)।


ওই দিন থেকেই দোষী পরিবহনকর্মীদের বিচার, নিরাপদ সড়ক, শিক্ষার্থী বান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের পদত্যাগসহ ৯ দফা দাবি জানাচ্ছেন।


ওই দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনার বিষয়ে ওই দিনই সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকরা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি হিসেবে নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। এ সময় তিনি হেসে হেসে এ বিষয়ে দায়ীদের শাস্তির কথা জানানোর পাশাপাশি এ দুর্ঘটনার সঙ্গে ভারতের মহারাষ্ট্রে এক সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৩ জন নিহত হওয়ার তুলনা করেন। পরিবহন শ্রমিক ও মালিকদের নেতা হিসেবে নৌমন্ত্রীর প্রশ্রয়ে বাসের চালক ও হেলপাররা স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠছে–এমন অভিযোগে শাজাহান খান হেসে হেসে বলেন, ‘আজকের বিষয়ের সঙ্গে এটি রিলেটেড নয়। মহারাষ্ট্রে এক দুর্ঘটনায় ৩৩ জন নিহত হলেও কোনও হৈ চৈ হয় না। অথচ বাংলাদেশে সামান্য কিছুতেই হই চই হয়। ’ 


তার এই বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। প্রধানমন্ত্রীও তাকে তিরস্কার করেন।

 


Top