আগস্টে রাখাইন সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন গ্রুপ | daily-sun.com

আগস্টে রাখাইন সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন গ্রুপ

ডেইলি সান অনলাইন     ৩ আগস্ট, ২০১৮ ১৩:০৬ টাprinter

আগস্টে রাখাইন সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন গ্রুপ

 

চলতি আগস্টেই মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য পরিদর্শনে যাচ্ছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে গঠিত বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ। রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের নিরাপদে ফিরে যাওয়ার মতো স্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কিনা তা দেখবে এই গ্রুপটি।


গত বছর আগস্টে রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর দমন অভিযান শুরু হওয়ার পর সেখানে এটাই প্রথম সফর। সেনাবাহিনীর অভিযানে সাত লাখের বেশি সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা বাংলাদেশে গিয়ে আশ্রয় নেয়।

 
মঙ্গলবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র সচিব এম শহিদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরির জন্য তারা [মিয়ানমার] কি করেছে তা আমরা দেখতে চাই। তারা কি ধরনের বাড়ি তৈরি করছে, তাদের [রোহিঙ্গাদের] ব্যবসাপাতি, জমিজিরাত ফিরিয়ে জন্য তারা কি করেছে তা আমরা দেখবো। ’


মিয়ানমারে শরনার্থীদের ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে সার্বিক বিষয় তত্ত্বাবধানের জন্য গত বছর ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার ৩০ সদস্যের এই যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করে।


মে মাসের মাঝামাঝি দ্বিতীয়বার বৈঠকে বসে এই গ্রুপ। বৈঠকে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ফিরে যাওয়ার জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে মিয়ানমারের উপর চাপ দেয়। এর মধ্যে রোহিঙ্গাদের সম্পত্তির অধিকার প্রদান ও বাধাহীনভাবে চলাচলের সুযোগ দানের উপর জোর দেয়া হয়।


প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ শুরুর পর সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলমান পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

তারা কক্সবাজার ও বান্দরবানের ৩২টি শরণার্থী শিবিরে বাস করছে। সম্প্রতি শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক সার-সংক্ষেপে বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্র্রেশন সম্পূর্ণ হয়েছে ১০ লাখ ৯৭ হাজার ৭৭১ জন রোহিঙ্গার।


এদের মধ্যে পুরুষ হচ্ছে ৪৮ শতাংশ এবং মহিলা ৫২ শতাংশ। এছাড়া শিশু রয়েছে ৫৫ শতাংশ, এতিমের সংখ্যা ৩৬ হাজার ৩৭৩ জন, এর মধ্যে ৭ হাজার ৭৭১ জন তাদের বাবা-মাকে হারিয়ে ফেলেছে। ১৮ হাজার মহিলা রয়েছেন গর্ভবতী, এরই মধ্যে শিশুর জন্ম হয়েছে ২৯ হাজার ২৮৯টি। এতে আরও বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের কারণে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের মধ্যে স্থানীয় হাজারও কৃষক তাদের জমির ধান থেকে কোনো ফসল পাননি। অনেকেই তাদের জমি হারিয়েছেন।
 

এছাড়া ইতিমধ্যেই প্রায় ৫ হাজার ৮০০ হেক্টর সংরক্ষিত বন কেটে তৈরি হয়েছে রোহিঙ্গাদের ঘর। এছাড়া রোহিঙ্গাদের জ্বালানির চাহিদা পূরণে প্রতিনিয়ত বনের গাছ কাটা হচ্ছে।


সাড়ে ৪ হাজার একর জায়গার মধ্যে ৩৫ হাজার পায়খানা এবং ৭ হাজার টিউবওয়েল বসানো হয়েছে। ফলে উখিয়ার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার হুমকিতে রয়েছে। এ কারণে পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। হাতির বিচরণ ক্ষেত্র ও করিডরে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে তাদের খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে।


- সূত্র: দ্য ইরাবতি অবলম্বনে সাউথ এশিয়ান মনিটর ডট কম

 


Top