আফগানিস্তান থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছেন ট্রাম্প! | daily-sun.com

আফগানিস্তান থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছেন ট্রাম্প!

ডেইলি সান অনলাইন     ২৯ জুলাই, ২০১৮ ১১:৩১ টাprinter

 আফগানিস্তান থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছেন ট্রাম্প!

 

গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউজ দেশের শীর্ষ কূটনীতিকদের তালেবানদের সাথে সরাসরি কথা বলার নির্দেশ দিয়েছে। শুরুর দিকে সেনা সমাগম বাড়ালেও এবং প্রচুর বোমা ফেলা হলেও এখন আফগানিস্তান থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছেন ট্রাম্প।

তালেবানরা পরাজিত হওয়া থেকে বহু দূরে। তবে তাদের সাথে আলোচনায় বসতে পারলে হয়তো অপ্রাসঙ্গিক এই দেশে অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার একটা সুযোগ পাবে আমেরিকা।


চলতি মাসের শুরুর দিকে কাবুলে আকস্মিক সফরে যান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। সেখানে তিনি বলেন, তালেবানরা এটা আশা করতে পারে না যে আমরা এখান থেকে সরে যাবো। কিন্তু পরিস্থিতি এখন ভিন্ন রকম মনে হচ্ছে।

 
যুদ্ধক্ষেত্রে তালেবানরা হারছে না। যদিও ২০১৬ সালের তুলনায় আমেরিকান সেনার সংখ্যা ২৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে এবং আমরা সেখানে আগের চেয়ে বেশি বোমা ফেলছি, তাই যুদ্ধটা অনেকটা একটা জায়গায় আটকে আছে। স্পেশাল ইন্সপেক্টর জেনারেল ফর আফগানিস্তান রিকন্সট্রাকশান (এসআইজিএআর) সম্প্রতি বলেছেন যে, আফগানিস্তানের ৪৩ শতাংশ অঞ্চল তালেবানদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে অথবা সেগুলো নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। ২০১৬ সালের নভেম্বর থেকে যে চিত্রের কোন রদবদল হয়নি।

এই পর্যালোচনা থেকে আশাবাদী হওয়া যেতে পারে কিন্তু লং ওয়্যার জার্নাল বলছে এর পরিমাণ আসলে ৪৯ শতাংশ। আর এর পরও আরও ৯.৫ শতাংশ এলাকা তালেবানদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ২০১৭ সালে আফগানিস্তানে পপি চাষের পরিমাণ রেকর্ড অতিক্রম করেছে। এ বছর সেটা আরও ছাড়িয়ে যেতে পারে।


কাবুলে অব্যাহতভাবে হামলা হচ্ছে। আফগানিস্তানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট জেনারেল রশিদ দোস্তাম যখন রবিবার বাড়ি ফেরেন, তখন এক আত্মঘাতি হামলায় ২০ জন নিহত হয়। এদের মধ্যে নয়জন দোস্তামের নিরাপত্তা বাহিনীর অংশ। রাজধানীতে যে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে, সেটা অকার্যকর হয়ে আছে। তালেবান, হাক্কানি নেটওয়ার্ক এবং আইসিস-কে অব্যাহতভাবে এখানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। আফগান নিরাপত্তা বাহিনী এমনকি বিমানবন্দর থেকে মার্কিন দূতাবাস পর্যন্ত দুই মাইল পথের নিরাপত্তাও দিতে পারছে না।


আফগানিস্তানে বর্তমানে মার্কিন কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করছেন লে. জেনারেল অস্টিন মিলার। এ দায়িত্বে তিনি ১৭তম ব্যক্তি। তার পূর্বসূরী সবাই এখান থেকে অবসরে চলে গেছে। এরপরও যুদ্ধের পরিস্থিতির কোন পরিবর্তন হয়নি। আফগান বাহিনীর সক্ষমতা বেড়েছে বলে এর প্রশংসা করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। কিন্তু কাবুল থেকে নিয়ে কান্দাহার পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিস্থিতির যে চিত্র, তাতে এই কথা ভিত্তিহীন মনে হয়।


যে ইউএস আর্মি সিকিউরিটি ফোর্স অ্যাসিস্টেন্স ব্রিগেড (এসএফএবি) নিয়ে অনেক কথা শোনা গিয়েছিলে, সেটির এক ইঞ্চিও অগ্রগতি হয়েছে বলে মনে হয় না। তাদের সহযোগী আফগান বাহিনী যেভাবে সহায়তা দিয়েছে, তাতে ব্রিগেডের অভিযানের গতি প্রাথমিক পর্যায়েই থমকে গেছে। অভ্যন্তরীণ হামলা থেকে রক্ষার জন্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্বেও প্রথম এসএফএবি প্রথম কর্পোরাল জোসেফ ম্যাশিয়েল এ বছর ৭ জুলাই আফগান সেনার হাতে নিহত হয়েছেন।


২০১৭ সালের শেষের দিকে আফগানিস্তানে মোটামুটি সংখ্যায় মার্কিন সেনা বৃদ্ধির বিষয়টি অনুমোদন দিয়েছিলেন। এর আগে সেনা প্রত্যহারেরে যে প্রচারণা ছিল, তার বিরুদ্ধে গিয়ে তিনি এ সিদ্ধান্ত দেন। তবে এখন তিনি অনুশোচনায় আছেন বলে মনে হচ্ছে এবং যুদ্ধের কৌশল পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছেন। পাকিস্তান নিয়ে কঠোর কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট। তাদেরকে তালেবানদের পৃষ্ঠপোষক ও জঙ্গিদের আশ্রয়দাতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এমন কোন প্রমাণ নেই যে পাকিস্তান তাদের অবস্থান বদল করেছে। পাকিস্তান এমনকি তালেবানদের ব্যাপারে আরও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে পারে, যদি ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া ইমরান সরকার গঠন করেন।


আমরা যদি এটা ভাবতে থাকি যে তালেবানরা আত্মসমর্পণ করবে, তাহলে আমাদের চেয়ে বোকা আর কেউ নেই। আফগানিস্তানে যুদ্ধের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হলো সেখানকার সাধারণ মানুষ। গত মাসে হেলমন্দ থেকে কাবুলে কিছু মানুষ হেঁটে এসেছে শুধুমাত্র শান্তির দাবিতে।


এইসব নেতিবাচক চিত্রের ভিড়ে তালেবানরাও শান্তি চায় – হতে পারে সেটা সাময়িক। যদিও তারা স্থানীয় নেতাদের এবং সরকারী বাহিনীর উপর হামলা করতে সক্ষম, কিন্তু তারা কুন্দুজের মতো একটা ছোট শহর দখলের পরও সেটা ধরে রাখতে পারেনি। তালেবান সেনারা যখন একত্র হয়, তখন তারা মার্কিন হামলার মুখে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। তালেবানদের সিনিয়র এবং মধ্যম পর্যায়ের নেতারা মার্কিন ড্রোন হামলা ও বিশেষ অভিযানে মুখে নিহত হয়েছেন। এমনকি পাকিস্তানের কথিত নিরাপদ ঘাঁটিতেও তারা বেঁচে থাকতে পারেননি। তাছাড়া গত ঈদে স্বল্পকালিন অস্ত্রবিরতির কারণে একটা আশা তৈরি হয়েছে।


আলোচনা থেকে যদি দীর্ঘমেয়াদি অস্ত্রবিরতির সিদ্ধান্ত আসে এবং মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের একটা সুযোগ সৃষ্টি হয়, সেক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উচিত হবে এখানে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাকি ১৪০০০ মার্কিন সেনাকে ফিরিয়ে আনা। এ অঞ্চলে রাশিয়া ও ইরানের মতো অন্যান্য পক্ষও রয়েছে, যারা নিজেদের স্বার্থে তালেবানদের আফগানিস্তানের শাসনক্ষমতা থেকে দূরে রাখতে চায়। আফগানিস্তান যদি আবারও কোন ধর্মীয় চরমপন্থীদের হাতে পরে, তাহলে আমরা আবারও সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারি এবং ক্ষমতাসীনদের হটিয়ে দিতে পারি, ২০০২ সালে যেমনটা করা হয়েছিল।


প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধে একত্রে যতটা সময় জড়িত ছিল আমেরিকা, এক আফগানিস্তানেই তার চেয়ে বেশি সময় চলে গেছে। তালেবানদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সামান্যতম সুযোগও যদি থাকে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের অবশ্যই সেটা গ্রহণ করা উচিত।


লেখক: গিল বার্নডলার, সেন্টার ফর দ্য ন্যাশনাল ইন্টারেস্টের মিডল ইস্ট স্টাডিজের ডিরেক্টর।


- সূত্র: দ্য ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট অবলম্বনে সাউথ এশিয়ান মনিটর ডট কম

 


Top