মেগা প্রজেক্ট থাকলেই বেগম পল্লী বানানো যায়: রিজভী | daily-sun.com

মেগা প্রজেক্ট থাকলেই বেগম পল্লী বানানো যায়: রিজভী

ডেইলি সান অনলাইন     ২৭ জুলাই, ২০১৮ ১৫:৫২ টাprinter

মেগা প্রজেক্ট থাকলেই বেগম পল্লী বানানো যায়: রিজভী

 

আওয়ামী লীগ নিজেদের মান-সম্মান সম্পর্কে সচেতন নয় বলেই তারা মিথ্যা উন্নয়নের গলাবাজি করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, তাদের মুখে উন্নয়নের কথা শুনলেই মানুষের হাসি পায়।

এত মেগা প্রজেক্টের আওয়াজ কিসের জন্য, তা জনগণের বুঝতে আর বাকি নেই। কারণ, এগুলো থাকলেই সেকেন্ড হোম ও বেগম পল্লী বানানো যায়।


শুক্রবার (২৭ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে নয়াপল্টনের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী।  


দুদককে সরকারের দুর্নীতি ধোয়ার মেশিন উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ভোটারবিহীন আওয়ামী সরকারের আমলে ক্ষমতাসীনদের মুখে উন্নয়নের জোয়ার আর কাজে দুর্নীতির পাহাড়। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে এত বিশাল পরিমাণ কয়লা লুটপাটের পর দুদক তদন্ত শুরু করেছে- ‘যেন রোগী মরিবার পর ডাক্তার আসিলেন’। আসলে দুদক তো সরকারের দুর্নীতি ধোয়ার মেশিন। আর বিরোধীদলের জন্য দুদক টর্চারিং মেশিন। দুদকের তদন্ত আইওয়াশ মাত্র। আসলে এই অবৈধ সরকারের আমলে মহাদুর্নীতি, সুপারদুর্নীতি, মেগাদুর্নীতিরই জয়জয়কার।


দুর্নীতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির মাধ্যমে মানুষের সম্পদ লুটপাট না করার জন্য আহবান জানিয়েছেন। বিপুল পরিমাণ কয়লা গায়েব হওয়ার সময় তার মুখে এমন কথা মানুষকে হাসির খোরাক জুটিয়েছে। ক্ষমতাসীনদের মুখে উন্নয়নের জোয়ার, বাস্তবে দুর্নীতির পাহাড়।


দেশব্যাপী চলমান সরকারের মাদকবিরোধী অভিযানের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, আইন হাতে নিয়ে বেআইনিপন্থায় চালানো হচ্ছে দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযান। এই অভিযান জনমনে আতঙ্কের হিম শীতল স্রোত বইয়ে দিচ্ছে। প্রতিদিনই ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে চলছে মানুষ হত্যার উৎসব। মাদক অভিযানের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ প্রায় আড়াইশো ব্যক্তিকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে। সরকারের বাহিনীগুলো গর্বের সঙ্গে মাদকবিরোধী অভিযানের কথা বলছেন জোরেশোরে। কৃতিত্ব দাবি করছেন মাদক নির্মূলের, কিন্তু জনসমাজে মাদকের ব্যাপ্তি কতটুক হ্রাস পেয়েছে, তা সবাই টের পাচ্ছে। বেআইনি কর্মকাণ্ড বেআইনিপন্থায় দমন করা যায় না, প্রয়োজন হয় ন্যায়ভিত্তিক আইনের শাসনের প্রয়োগ। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ক্ষমতাসীনদের অনুগ্রহভাজন হয়ে ক্ষমতাসীন দলের অন্যায্য-অন্যায় নির্দেশ পালন করছে। এই কারণে তারা বাংলাদেশে এত রক্ত ঝরিয়েও মাদকের বিস্তার রোধ করতে পারেনি। লোক দেখানো অভিযানে মাদকের শেকড় উপড়ে ফেলা যায় না। যার কারণে ক্ষমতার সাথে সংশ্লিষ্ট বড় বড় মাদক ব্যবসায়ীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।


তিনি বলেন, সারাদেশে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা ধ্বংস হয়ে গেছে। একটু বৃষ্টিতেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন শহর তলিয়ে যায়। জল ও যানযটে মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগ পাচ্ছে। খানাখন্দে ভরা রাস্তাঘাটের বেহাল দশায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।


বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাবন্দি করা হয়েছে। আগামী জাতীয় নির্বাচন একতরফা করতে দেশকে ভোটারশূন্য করার জন্যই সরকার ক্রসফায়ারকে নিজেদের টিকে থাকার একমাত্র অবলম্বন মনে করছে। আমরা সরকারের দূরভিসন্ধিমূলক ক্রসফায়ার বন্ধের জোর দাবি জানাচ্ছি।

 


Top