রোহিঙ্গাদের ফেরাতে মিয়ানমারকে পরিবেশ সৃষ্টির তাগিদ জাতিসংঘের | daily-sun.com

রোহিঙ্গাদের ফেরাতে মিয়ানমারকে পরিবেশ সৃষ্টির তাগিদ জাতিসংঘের

ডেইলি সান অনলাইন     ২৪ জুলাই, ২০১৮ ১৭:৫৩ টাprinter

রোহিঙ্গাদের ফেরাতে মিয়ানমারকে পরিবেশ সৃষ্টির তাগিদ জাতিসংঘের

 

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকারকে তাগিদ দিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। সোমবার (২৩ জুলাই) রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে নিরাপদে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে পরিষদটি এ তাগিদ দেয় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম থেকে জানা যায়।


জাতিসংঘের সঙ্গে মিয়ানমারের সম্পর্ক বিষয়ক চুক্তি বাস্তবায়নে রোহিঙ্গাদের যথাযথভাবে ফিরিয়ে নিতে দেশটির অগ্রগতির প্রয়োজন রয়েছে বলে নিরাপত্তা পরিষদ বিবৃতিতে জানিয়েছে।


ওই বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারকে সুস্থ পরিবেশ সৃষ্টি করতে তাগিদ দিয়ে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ এবং শরণার্থী ও উন্নয়ন সংস্থাগুলো সহযোগিতা করবে।  রোহিঙ্গারা প্রধানত ‘বৌদ্ধ মিয়ানমার’ ও সামাজিক বৈষম্যমূলক আচরণের মুখোমুখি হয়ে বাস্তুহারা হয়েছেন। এখন তাদের নাগরিকত্ব ও মৌলিক অধিকার অস্বীকার করছে দেশটি। কারণ তারা মনে করছে, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অভিবাসী হিসেবে আছে। যদিও ওই রোহিঙ্গা পরিবারগুলো মিয়ানমারে বসতি স্থাপন করেছিল এবং বেশির ভাগই মিয়ানমার বংশোদ্ভূত।

 


প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ শুরুর পর সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলমান পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তারা কক্সবাজার ও বান্দরবানের ৩২টি শরণার্থী শিবিরে বাস করছে। সম্প্রতি শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক সার-সংক্ষেপে বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্র্রেশন সম্পূর্ণ হয়েছে ১০ লাখ ৯৭ হাজার ৭৭১ জন রোহিঙ্গার।

এদের মধ্যে পুরুষ হচ্ছে ৪৮ শতাংশ এবং মহিলা ৫২ শতাংশ। এছাড়া শিশু রয়েছে ৫৫ শতাংশ, এতিমের সংখ্যা ৩৬ হাজার ৩৭৩ জন, এর মধ্যে ৭ হাজার ৭৭১ জন তাদের বাবা-মাকে হারিয়ে ফেলেছে। ১৮ হাজার মহিলা রয়েছেন গর্ভবতী, এরই মধ্যে শিশুর জন্ম হয়েছে ২৯ হাজার ২৮৯টি। এতে আরও বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের কারণে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের মধ্যে স্থানীয় হাজারও কৃষক তাদের জমির ধান থেকে কোনো ফসল পাননি। অনেকেই তাদের জমি হারিয়েছেন।

 
এছাড়া ইতিমধ্যেই প্রায় ৫ হাজার ৮০০ হেক্টর সংরক্ষিত বন কেটে তৈরি হয়েছে রোহিঙ্গাদের ঘর। এছাড়া রোহিঙ্গাদের জ্বালানির চাহিদা পূরণে প্রতিনিয়ত বনের গাছ কাটা হচ্ছে।


সাড়ে ৪ হাজার একর জায়গার মধ্যে ৩৫ হাজার পায়খানা এবং ৭ হাজার টিউবওয়েল বসানো হয়েছে। ফলে উখিয়ার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার হুমকিতে রয়েছে। এ কারণে পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। হাতির বিচরণ ক্ষেত্র ও করিডরে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে তাদের খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে।

 


Top