হলি আর্টিজানে হামলায় অভিযোগপত্র আদালতে | daily-sun.com

হলি আর্টিজানে হামলায় অভিযোগপত্র আদালতে

ডেইলি সান অনলাইন     ২৩ জুলাই, ২০১৮ ১৮:১৪ টাprinter

হলি আর্টিজানে হামলায় অভিযোগপত্র আদালতে

 

গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনার মামলায় আটজনের বিরুদ্ধের অভিযোগপত্র আদালতে জমা দিয়েছে পুলিশ। সোমবার (২৩ জুলাই) বিকেলে পৌনে ৪টার দিকে গুলশান থানার আদালতের জিআর শাখায় এই চার্জশিটটি দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের ওসি হুমায়ুন কবীর।


এর আগে দুপুরে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজানে হামলার ঘটনার তদন্তে ২১ জনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। যাদের মধ্যে ৮ জন বিভিন্ন অভিযানে নিহত ও ৫ জন হলি আর্টিসানে নিহত হয়েছেন। এছাড়া জীবিত ৮ জনের মধ্যে ৬ জন কারাগারে ও ২ জন পলাতক রয়েছেন।


তিনি আরও জানান, এই আটজনকে চার্জশিটে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়েছে।


সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, হলি আর্টিসানের খসড়া চার্জশিট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। সেখানে অনুমোদিত হলে আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

 

হলি আর্টিজান হামলার মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামি রাকিবুল হাসান রিগ্যান, বড় মিজান ও রাজীব গান্ধী (বাম দিক থেকে)


কারাগারে থাকা ছয় আসামি হলেন- জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, রাকিবুল হাসান রিগান, রাশেদুল ইসলাম ওরফে র‌্যাশ, সোহেল মাহফুজ, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান এবং হাদিসুর রহমান সাগর।


এছাড়া পলাতক দুই আসামি হলেন- শহীদুল ইসলাম খালেদ ও মামুনুর রশিদ রিপন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রে গ্রেফতারি পরোয়ানা চাওয়া হয়েছে।


বিভিন্ন ‘জঙ্গি আস্তানায়’ অভিযানে নিহত আটজন হলেন- তামীম আহমেদ চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মারজান, তানভীর কাদেরী, মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম ওরফে মুরাদ, রায়হান কবির তারেক, সারোয়ান জাহান মানিক, বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট ও মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান।


হামলার পর দিন সকালে হলি আর্টিজান বেকারি থেকে গ্রেফতার নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিমের নাম আসেনি এতে। অভিযানে নিহত হলি আর্টিজানের পাচক সাইফুল ইসলামকে শুরুতে সন্দেহের তালিকায় রাখা হলেও তার সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানান মনিরুল ইসলাম।

 
তিনি বলেন, তদন্তে দেখা গেছে- আসামিরা পাঁচ মাস আগে থেকেই হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল- দেশকে অস্থিতিশীল করা, বাংলাদেশকে একটি জঙ্গিরাষ্ট্র বানানো ও সরকারকে চাপের মুখে ফেলে দেয়া।

 


উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ দেশি-বিদেশি ২২ নাগরিক প্রাণ হারান। তাদের মধ্যে তিনজন বাংলাদেশি, একজন ভারতীয়, নয়জন ইতালীয় এবং সাতজন জাপানি নাগরিক।


প্রায় ১২ ঘণ্টার ওই ‘জিম্মি সংকট’ শেষ হয় সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযান ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’ দিয়ে।


অভিযানে পাঁচ জঙ্গি ও রেস্টুরেন্টের বাবুর্চি সাইফুল ইসলাম চৌকিদার নিহত হন। নিহত জঙ্গিরা হলেন নিবরাস ইসলাম, মীর সামিহ মোবাশ্বের, রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, খায়রুল ইসলাম পায়েল ও শফিকুল ইসলাম উজ্জল ওরফে বিকাশ।


ওই ঘটনার পরই দেশব্যাপী জঙ্গিবিরোধী অভিযান জোরদার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসব অভিযানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় সরাসরি জড়িত হিসেবে চিহ্নিত ২১ জনের মধ্যে বিভিন্ন সময় ১৩ জন নিহত হন।

 

 


Top