লাল ফিতার দৌরাত্ম্য প্রশাসনে যেন না থাকে: প্রধানমন্ত্রী | daily-sun.com

লাল ফিতার দৌরাত্ম্য প্রশাসনে যেন না থাকে: প্রধানমন্ত্রী

ডেইলি সান অনলাইন     ২৩ জুলাই, ২০১৮ ১৪:২৯ টাprinter

লাল ফিতার দৌরাত্ম্য প্রশাসনে যেন না থাকে: প্রধানমন্ত্রী

- ফাইল ফটো

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেছেন, সরকারি চাকরি বলে যা খুশি তাই করবেন না। লাল ফিতা/সাদা ফিতার দৌরাত্ম্য প্রশাসনে যেন না থাকে।

প্রশাসনে এমনভাবে কাজ করবেন যেন আপনাদের সন্তানরা এদেশে ভালোভাবে বসবাস করতে পারে। সোমবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস উদযাপন ও জনপ্রশাসন পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।


এদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে জনপ্রশাসনে উদ্ভাবনী ধারণাকে কাজে লাগিয়ে নাগরিক সেবা সহজীকরণের স্বীকৃতিস্বরূপ ৩৯ ব্যক্তি ও ৩ প্রতিষ্ঠানকে ‘জনপ্রশাসন পদক-২০১৮’ এই পদক ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


তিনি আরও বলেন, আমাদের সময় শেষ। আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন। জনগণ ভোট দিলে আছি, না দিলে নেই। এ জন্য কোনো আক্ষেপ নেই। তবে দেশটাকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে দিয়েছি সেটা যেন অব্যাহত থাকে।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের এ দেশ দিয়ে গেছেন বলেই আপনারা রাষ্ট্রের উচ্চ পদে আসীন হচ্ছেন।

পাকিস্তান আমলে প্রশাসনে বাঙালীদের কী অবস্থা ছিল তা দেখেছেন।


তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ ও ডিগ্রির জন্য আপনাদের অনেক সময় বিদেশ পাঠানো হয়। ডিগ্রি নিজের জন্য নয়, দেশের মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাবেন। মানুষের জীবনমানের যেন উন্নয়ন হয় সে কাজে লাগাবেন।


শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর দেশের উন্নয়নের জন্য আত্মনিয়োগ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। দেশ অনেক দূর এগিয়েছিল। কিন্তু ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট সব শেষ করে দিয়েছে। এর পর যারা ক্ষমতায় এসেছেন তারা নিজেদের ভাগ্য বদলে কাজ করেছেন। ফলে দেশের উন্নয়ন হয়নি। সরকারি কর্মকর্তারা যারা কাজ করতে চেয়েছেন তাদেরও কাজ করতে দেয়া হয়নি।


তিনি বলেন, দেশ চালানোর জন্য ভিশন লাগে। লক্ষ্য স্থির করতে হয়। এই লক্ষ্য স্থির করে কাজ করেছি বলে আমরা দেশকে এগিয়ে নিতে পারছি। আগামী ২০৪১ সালে বাংলাদেশকে কেমন দেখতে চাই সেই লক্ষ্য স্থির করে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।


জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহমদ।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ও জেলা পর্যায়ে প্রশাসনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ, উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন ও অবদানের জন্য পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে পদক, সার্টিফিকেট ও চেক তুলে দেন। আর তাকে শ্রদ্ধার নিদর্শন স্বরূপ ক্রেস্ট প্রদান করেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের কর্মস্পৃহা বৃদ্ধির জন্য এবং কাজের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির জন্যই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ পদক শুধু কর্মকর্তাদের উৎসাহই দিচ্ছে না বরং এ পদক্ষেপ প্রশাসনে সেবার মানও বৃদ্ধি করেছে। এই পদক প্রদান কর্মকর্তাদের মধ্য উৎসাহ সৃষ্টি করেছে। ’ এ সময় পদকপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।


জনপ্রশাসন পদক পেলেন ৪২ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান: 


নতুন প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধুর ভাষণচর্চার উদ্যোগ নেওয়ায় জাতীয় পর্যায়ে এবার ব্যক্তিগত শ্রেণীতে জনপ্রশাসন পদক পান ময়মনসিংহের ভালুকার সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব কামরুল আহসান তালুকদার। একই শ্রেণীতে পদক পান গাজীপুরের শ্রীপুরের ইউএনও রেহেনা আকতার, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের ইউএনও মোহাম্মদ মাহমুদুল হক ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সাবিরুল ইসলাম।


বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ময়মনসিংহের ত্রিশালের ইউএনও মো. আবুজাফর রিপন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. এরশাদ উদ্দিন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জিল্লুর রহমান আনম, সহকারী প্রোগ্রামার মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম ও উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস দলগত পদক পান।


একই পদক পান নাটোরের ডিসি শাহিনা খাতুন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. রাজ্জাকুল ইসলাম, নাটোর সদরের ইউএনও মোছা. জেসমিন আকতার বানু, নাটোর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর অনিন্দ্য মণ্ডল; চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শওকত ওসমান, সদরের সাবেক ইউএনও মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম মজুমদার, ইউএনও বৈশাখী বড়ুয়া; ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গার ইউএনও মো. আবদুল মান্নান, শিক্ষা অফিসার মো. আবদুর রহমান, সহকারী প্রোগ্রামার মো. লিয়াজ মাহমুদ লিমন। আর প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এ পদক পায় গ্রিসের বাংলাদেশ দূতাবাস।


জাতীয় পর্যায়ে কারিগরিতে ব্যক্তিগত পদক পান নীলফামারী জলঢাকা উপজেলার সাবরেজিস্ট্রার শাহজাহান আলী, চাঁদপুরের সাবেক ডিসি মো. মাজেদুর রহমান খান এবং রাজশাহী জেলার দুর্গাপুরের ইউএনও মো. আনোয়ার সাদাত। এই ক্যাটাগরিতে দলগত পদক পান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) এনএম জিয়াউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই সার্ভিসের সাবেক পরিচালক (বর্তমান পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব) কবির বিন আনোয়ার, পরিচালক আবদুল মান্নান, মোহাম্মদ লুৎফর রহমান ও এটুআইয়ের ন্যাশনাল কনসালটেন্ট খালিদ মেহেদী হাসান।


একই পদক পান ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) মো. মাহফুজুর রহমান, ভূমি সংস্কার বোর্ডের সহকারী কমিশনার রেজাউল কবীর, এটুআই ন্যাশনাল কনসালটেন্ট মোহাম্মদ এনামুল হক, কুড়িগ্রাম জেলার সাবেক প্রশাসক ও প্রকল্প পরিচালক এবিএম আজাদ, এম নুরুল আমিন, আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস, কুড়িগ্রামের সাবেক সহকারী কমিশনার মো. আবদুল ওয়ারেছ আনছারী, সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার (সার্বিক) রফিকুল ইসলাম সেলিম, জেলা সদর উপজেলার ইউএনও মো. আল আমিন পাল পারভেজ।


আর প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই পদক পায় বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড ও বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক)।

 


Top