মিরপুরে গুপ্তধনের খোঁজ আপাতত স্থগিত, বাড়িটি পুলিশ হেফাজতে | daily-sun.com

মিরপুরে গুপ্তধনের খোঁজ আপাতত স্থগিত, বাড়িটি পুলিশ হেফাজতে

ডেইলি সান অনলাইন     ২২ জুলাই, ২০১৮ ১৭:১৩ টাprinter

মিরপুরে গুপ্তধনের খোঁজ আপাতত স্থগিত, বাড়িটি পুলিশ হেফাজতে

 

রাজধানীর মিরপুরে বাড়ির নিচে গুপ্তধন উদ্ধার অভিযান আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়ার পর আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হবে।

  ততদিন পর্যন্ত বাড়িটি পুলিশের হেফাজতে থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ।  


রবিবার (২২ জুলাই) দুপুরে বাড়িটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বাড়িটি বিশেষজ্ঞদের দ্বারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে চিঠি দেয়া হবে। বিশেষজ্ঞরা বিষয়টি নিশ্চিত করলে আবারও উদ্ধার কাজ শুরু করা হবে। সে পর্যন্ত বাড়িটি পুলিশ হেফাজতে থাকবে।


তিনি আরও বলেন, বাড়িটি অনেক পুরোনো ও ঝুকিপূর্ণ। ঘরের মধ্যে খননের ফলে ভেঙ্গে পড়ার সম্ভবনা রয়েছে। ইতোমধ্যেই চার ফিট খনন করা হয়েছে। জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদফতরের একজন ইঞ্জিনিয়ার খনন করা স্থান পরিদর্শন করেছেন। তার পরামর্শেই উদ্ধার কাজ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

তবে দ্রুতই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।


কেন আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে খনন কাজ শুরু করা হলো না? -সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বাড়ির নিচে গুপ্তধন রয়েছে -এমন সংবাদ এলাকাবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ায় সকলের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বিরাজ করছিল। এ কারণে পুলিশের সহায়তা প্রাথমিকভাবে গুপ্তধন উদ্ধারে কাজ শুরু করা হয়। যেহেতু চার ফিট মাটি খনন করার পরও কিছু পাওয়ায় যায়নি, সে কারণে এখন বিশেষজ্ঞদের পারামর্শ নেয়া প্রয়োজন।

 


প্রসঙ্গত, গতকাল শনিবার (২১ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের ১৬ নম্বর সড়কের ১৬ নম্বর বাড়িতে কোটি টাকা মূল্যের গুপ্তধন রয়েছে এমন গুঞ্জনে তা উদ্ধারে খননকাজ শুরু হয়। টানা ৬ ঘণ্টায় সাড়ে ৪ ফুট পর্যন্ত খননের পরও গুপ্তধনের কোনো সন্ধান না পেয়ে অভিযান স্থগিত করা হয়। আজ রবিবার দ্বিতীয় দিনে সকাল থেকে গুপ্তধন উদ্ধার কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে বৃষ্টির কারণে দুপুর দেড়টার দিকে দায়িত্বরত জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং এসব তথ্য জানান।


যেভাবে গুপ্তধনের গুঞ্জন উঠে: মিরপুরের ওই বাড়ির নিচে যে গুপ্তধন আছে এ তথ্য প্রথম ছড়ায় কক্সবাজারের টেকনাফ থানা এলাকার বাসিন্দা মো. তৈয়বের মাধ্যমে। তিনিই ১০ জুলাই গুপ্তধন বিষয়ে মিরপুর থানায় প্রথম সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে যেকোন ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তার জন্য গত ১৪ জুলাই মিরপুর থানায় আরেকটি জিডি করেন বাড়ির মালিক মনিরুল আলম। এরপরই বাড়িটিতে বসানো হয় পুলিশ পাহারা। আদালতের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বাড়িটি খনন করা হয়।


প্রথম জিডিতে তৈয়ব উল্লেখ করেন, মিরপুরের ওই বাড়ির নিচে গুপ্তধন রয়েছে। বাড়িটির মূল মালিকের নাম দিলশাদ খান। তিনি ১৯৭১ সালে পাকিস্তান চলে যান। বাংলাদেশে সৈয়দ আলম নামে দিলশানের দূর সম্পর্কের এক আত্মীয় রয়েছে। তিনিও পাকিস্তানেই থাকেন, মাঝেমধ্যে বাংলাদেশে আসেন। এই আলমের কাছ থেকেই তৈয়ব জানতে পারেন মিরপুরের ওই বাড়িটির নিচে দুই মণের বেশি স্বর্ণালঙ্কার ও দামি জিনিসপত্র রয়েছে।


এরপর তৈয়ব ও আলম মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা সেই গুপ্তধন বের করতে টেকনাফ থেকে ঢাকায় আসেন। কিন্তু ঢাকায় আসার পরে তৈয়বকে কিছু না বলেই আলম একাই সেই গুপ্তধন খুঁজতে বাড়ির মালিকের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করেন। সে কারণে তৈয়ব মিরপুর থানায় হাজির হয়ে জিডির মাধ্যমে বিষয়টি পুলিশকে জানায়।


তৈয়বের বিষয়ে জানতে চাইলে মিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দাদন ফকির বলেন, তৈয়ব নামের ওই ব্যক্তির জিডি করেই চলে গেছেন। এরপর আর তাকে পাওয়া যায়নি। তবে, জিডির কপিতে দেওয়া তার ঠিকানা সঠিক কিনা, সেটা যাচাই করতে টেকনাফ থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।


তৈয়বের বিষয়ে জানতে চাইলে ওই বাড়ির বর্তমান মালিক মনিরুল আলম জানান, তৈয়ব নামের সেই ব্যক্তির সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগই হয়নি। তিনি কোথায় আছেন, সে সম্পর্কে কিছুই জানেন না তিনি।


তবে তিনি জানান, গুপ্তধনের গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর গত ১৩ জুলাই গভীর রাতে ৩-৪ জন অজ্ঞাত লোক জোর করে বাড়িটিতে প্রবেশের চেষ্টা করে বলে কেয়ারটেকাররা জানায়। পরে থানায় গিয়ে তিনি নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করেন।


মনিরুল বলেন, এলাকায় যে গুজব ছড়িয়েছে, তাতে নিরাপত্তার জন্য ও মানুষের মনের সন্দেহ দূর করতেই আমি পুলিশের কাছে আবেদন করেছিলাম বাড়িটি খনন করতে। যদি কিছু পাওয়া যায়, তা সরকারের কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।


তিনি আরো জানান, ২০১০ সালে সেলিম নামের এক ব্যক্তির কাছে থেকে তিনি বাড়িটি কিনেছেন। তবে এই বাড়ির মূল মালিক কে, সেটা তার জানা নেই। প্রথম মালিক জাতীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত অধিদফতর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্লট আকারে বাড়িটি কিনেছিলেন। পরে কয়েক হাত বদল হয়ে তিনি কিনেন।

 


Top