দেশে পৌঁছেছে জবি সাবেক শিক্ষক রাজীব মীরের মরদেহ | daily-sun.com

দেশে পৌঁছেছে জবি সাবেক শিক্ষক রাজীব মীরের মরদেহ

ডেইলি সান অনলাইন     ২২ জুলাই, ২০১৮ ১৪:০৩ টাprinter

দেশে পৌঁছেছে জবি সাবেক শিক্ষক রাজীব মীরের মরদেহ

 

চট্টগ্রাম ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক, লেখক রাজীব মীরের মরদেহ দেশে এসে পৌঁছেছে। রবিবার (২২ জুলাই) দুপুর পৌনে ১২টায় তাঁর লাশ বহনকারী একটি ফ্লাইট শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।

রাজীব মীরের বন্ধু সালেহ রনক সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।  


তিনি জানান, রাজীর মীরের মরদেহ নিয়ে তার পরিবার শনিবার (২১ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টা ২৫মিনিটে শ্রীলঙ্কান বিমানের একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।  


তিনি আরও জানান, তার প্রথম নামাজে জানাজা রবিবার বাদ যোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। পরে ভোলার নিজ গ্রামে তাকে দাফন করা হবে।


উল্লেখ্য, শুক্রবার (২০ জুলাই) দিনগত রাতে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের রাজধানী চেন্নাইয়ে গ্লিনিগলস গ্লোবাল হেলথ সিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। সেখানে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন রাজীব মীর।  


মৃত্যুকালে রাজীব মীরের বয়স হয়েছিল ৪৩ বছর। তিনি মা-বাবা, বোন, স্ত্রী সুমনা খান ও ১৪ মাস বয়সী একমাত্র মেয়ে বিভোরসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

 


রাজীব মীর বেশ কয়েক মাস ধরে লিভার সিরোসিসে ভুগছিলেন।

চলতি সপ্তাহে অপারেশনে তার লিভার পরিবর্তনের কথা ছিল। এর আগে গত ১৭ জুলাই রাতে রাজীব মীর স্ট্রোক করেন। এর পর লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। শুক্রবার রাত ১টা ৩৭ মিনিটে রাজীব মীরের লাইফ সাপোর্ট খুলে দিয়ে তাকে ক্লিনিক্যালি ডেড ঘোষণা করেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

 
রাজীব মীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের আগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন রাজীব মীর। বিভাগের এক শিক্ষার্থীর অভিযোগে ভিত্তিতে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পর গতবছর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রাজীব মীরকে চাকরিচ্যুত করে। পরে এর বিরুদ্ধে তিনি হাইকোর্টে রিট করেন।


আদালত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে চার সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শাতে বললেও এখন পর্যন্ত তারা এর জবাব দেননি। রাজীব মীর নিরুপায় হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর রাষ্ট্রপতির কাছেও চাকরি ফিরে পাওয়ার আবেদন করেন।


রাজীব মীরের ভালো নাম মীর মোশারেফ হোসেন। তিনি ১৯৭৬ সালে ভোলা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ২০১৬ সালে সুমনা খানকে বিয়ে করেন রাজীব মীর। তিনি একজন লেখক, গবেষক এবং বিভিন্ন মানবাধিকার আন্দোলনে সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তার প্রকাশিত বইগুলোর মধ্যে কাব্যগ্রন্থ ‘প্রেমে পড়েছে পাথর’, ‘মুক্তিযুদ্ধের কিশোর ইতিহাস: ভোলা জেলা’, জেন্ডার সাংবাদিকতা, মুক্তির ভাষা, সংবাদপত্রে শাহবাগ, তোমার জন্য লিখি অন্যতম।

 


Top