যতক্ষণ বেঁচে আছি ততক্ষণ মানুষের জন্য কাজ করে যাব: গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী | daily-sun.com

যতক্ষণ বেঁচে আছি ততক্ষণ মানুষের জন্য কাজ করে যাব: গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

ডেইলি সান অনলাইন     ২১ জুলাই, ২০১৮ ২০:১৩ টাprinter

যতক্ষণ বেঁচে আছি ততক্ষণ মানুষের জন্য কাজ করে যাব: গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মৃত্যুকে ভয় পাই না। যতক্ষণ বেঁচে আছি ততক্ষণ মানুষের জন্য কাজ করে যাব।

দেশের ও মানুষের উন্নয়নে বাবা বেহেস্ত থেকে দেখে যেন শান্তি পান। শনিবার (২১ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের দেয়া গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।


তিনি বলেন, আমার রাজনীতি দেশের শোষিত-বঞ্চিত মানুষের জন্য। তাদের ভাগ্য যেদিন গড়তে পারবো, সেদিন নিজেকে স্বার্থক মনে করবো।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার বাবা সারাটা জীবন বাংলার মানুষকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছেন, তাদের জীবনে পরিবর্তন আনার, ক্ষুধার হাত থেকে মুক্ত করার, শোষণের হাত থেকে মুক্ত করার— সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নেই আমি কাজ করছি। আমার জীবনের এই একটাই লক্ষ্য।


তিনি বলেন, নানা ঘাত-প্রতিঘাত এসেছে। কিন্তু আমি একটা লক্ষ্য নিয়েই চলেছি- আমার বাবার স্বপ্ন আমাকে পূরণ করতেই হবে।

 


বক্তৃতার শুরুতেই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান উদ্ধৃত করে শেখ হাসিনা বলেন, 'এ মণিহার আমায় নাহি সাজে..।

' এ সময় তিনি আরও বলেন, 'আমার সংবর্ধনার প্রয়োজন নেই। আমি জনগণের সেবক। জনগণের জন্য কাজ করতে এসেছি। জনগণ কতটুকু পেল সেটাই বড়। এর চেয়ে বেশি কিছু চাওয়া-পাওয়ার নেই আমার নেই। '


'এই সংবর্ধনা আমি উৎসর্গ করছি বাংলার মানুষকে, উৎসর্গ করছি এদেশের জনগণকে', বলেন তিনি।


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, নৌকা ঠেকাতে হবে কেন? শ্রাবণ শেষে বন্যা হবে আপনাদের নৌকায় চড়তেই হবে। তিনি বলেন, দেশের মানুষ নৌকায় ভোট দিয়েছিল বলেই স্বাধীনতা পেয়েছে। নৌকায় ভোট দিয়েছিল বলেই আজ দেশে এতো উন্নয়ন।


দেশের সব অর্জন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েই হয়ে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলেই দেশের জনগণ কিছু পায়, দেশের উন্নয়ন হয়। ২১ বছর এ দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে। '৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরই দেশের উন্নয়ন হয়েছে।


তিনি বলেন, 'মানুষ নৌকায় ভোট দিয়েছে বলেই দেশে দারিদ্র্যের হার ২২ ভাগে নেমে এসেছে। আমরা এটা আরও কমাতে পারবো ইনশাআল্লাহ। '


যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'যুদ্ধাপরাধীদের বিচার জাতির পিতা শুরু করেছিলেন। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে সেই বিচার বন্ধ করে দিয়েছিল। যুদ্ধাপরাধীদের সরকারের উচ্চ পদে চাকরি দিয়েছিল। আমরা ট্রাইব্যুনাল করে সেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে পেরেছি। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কলুষমুক্ত হয়েছে। এই অপরাধীদের যখন আমরা বিচারের মুখোমুখি করতে পেরেছি তখনই যেন আমাদের উন্নয়নের দ্বার খুলে যায়— এটাই আমার উপলব্ধি। '

 


এর আগে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মানে দেয়া মানপত্র পাঠ করা হয়। পরে মানপত্রের বাঁধাই করা একটি স্মারক তার হাতে তুলে দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।


ভারতের আসানসোলের কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি-লিট ডিগ্রি অর্জন, মহাকাশে সফলভাবে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট পাঠানো, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে গ্লোবাল উইমেন্স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড অর্জন ও স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে গণসংবর্ধনা দেয়া হয়।


গণসংবর্ধনার শুরুতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রযুক্তি ব্যবহার করেও উন্নয়নের ভিডিওচিত্র অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির পক্ষ থেকে সরকারের অর্জন ও উন্নয়ন সংবলিত একটি প্রকাশনা সবার হাতে তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী।

 

এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নিতে শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনতার ঢল নামে। দুপুরের মধ্যেই গোটা এলাকা লোকে লোকারণ্যে পরিণত হয়। যতদূর চোখ যায়, মানুষ আর মানুষ। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিশাল বিশাল মিছিল নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা এ উদ্যানে যোগ দেন। ক্ষমতাসীন দলের ব্যানারে আয়োজিত হলেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে।

 

 

 


Top