ভারতীয়দের কাছে বেশি বিশ্বাসের সেনাবাহিনী, কম আমলা ও রাজনীতিক | daily-sun.com

ভারতীয়দের কাছে বেশি বিশ্বাসের সেনাবাহিনী, কম আমলা ও রাজনীতিক

ডেইলি সান অনলাইন     ২১ জুলাই, ২০১৮ ১৪:৫১ টাprinter

ভারতীয়দের কাছে বেশি বিশ্বাসের সেনাবাহিনী, কম আমলা ও রাজনীতিক

 

ভারতের জনগণ সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করে দেশের সামরিক বাহিনীকে। এরপরেই রয়েছে দেশের সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট।

চলতি বছর পরিচালিত এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। ১৬টি নির্বাচিত ও অনির্বাচিত প্রতিষ্ঠান ও অফিসের মধ্যে যে জরিপ চালানো হয়েছে, সেখানে মানুষের সবচেয়ে কম আস্থা হলো রাজনৈতিক দলগুলোর উপর।


ভারতের আটটি রাজ্যে এই জরিপ চালানো হয়েছে। জরিপ চালিয়েছে আজিম প্রেমজি ইউনিভার্সিটি (এপিইউ) এবং লোকনীতি (সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব ডেভলপিং সোসাইটিজ)।

 
২২টি নির্বাচনী এলাকার ১৬,৬৮০ অংশগ্রহণকারীর মধ্যে এই জরিপ চালানো হয়েছে। প্রায় ৭৭% অংশগ্রহণকারী বলেছে, তাদের আস্থা সবচেয়ে বেশি সামরিক বাহিনীর উপর। সুপ্রিম কোর্টের উপর আস্থা রয়েছে ৫৪.৮% মানুষের এবং হাইকোর্টে আস্থা রয়েছে ৪৮% ভারতীয়ের।


প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, পার্লামেন্ট, বিধানসভা, পঞ্চায়েৎ/মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশানের ব্যাপারে আস্থা জানিয়েছে গড়ে ৪০% অংশগ্রহণকারী।


তবে রাজ্য অনুযায়ী এই বিভিন্ন বিষয়ের উপর আস্থার ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে।


সবগুলোর রাজ্যের চিত্র একরকম নয়: মহারাষ্ট্রে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলো – পার্লামেন্ট, বিধানসভা, পঞ্চায়েৎ/এমসি – এগুলোর উপর আস্থা ৬০ শতাংশের উপরে। অন্যদিকে, অন্ধ্রপ্রদেশে এগুলোর উপর আস্থা সবচেয়ে কম। পার্লামেন্ট ও বিধানসভার উপর আস্থা সেখানে ৪% ও ২%।


অন্ধ্র প্রদেশের তুলনায় নির্বাচিত অফিসগুলোর উপর মহারাষ্ট্রের মানুষের আস্থা প্রায় ৫৩ শতাংশ বেশি। এরপরেই রয়েছে ঝাড়খন্ড (৫২.৫%) এবং ছত্তিশগড় (৪৯.৫%)।


রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা শূন্যের কোঠায়: রাজনৈতিক দলগুলোর উপর আস্থা সবচেয়ে কম, গড়ে ১.৭৫%। একমাত্র ব্যতিক্রম মহারাষ্ট্র। সেখানে রাজনৈতিক দলের উপর আস্থা ৩১%। অন্যান্য সাতটি রাজ্যে আস্থার মাত্রা হয় একের ঘরে নয়তো নেগেটিভ পর্যায়ে। ১৬টি ক্যাটেগরির মধ্যে সবচেয়ে কম আস্থা রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর উপর।


২০১৬ সালে ৭৩% ভারতীয় সরকারের ব্যাপারে তাদের আস্থা জানিয়েছে। ওই বছর আমেরিকান সরকারের ব্যাপারে মার্কিনীদের আস্থা ছিল ৩০%। অর্গানাইজেশান ফর ইকোনমিক কোঅপারেশান অ্যান্ড ডেভলপমেন্টের রিপোর্টে এ তথ্য উঠে আসে। কিন্তু এই আস্থার হারও কমেছে। ২০০৭ সালে সরকারের উপর আস্থা ছিল ৮২% মানুষের।


আটটি রাজ্য পার্লামেন্টের উপর আস্থা ৩৬.৬% মানুষের। ২০১৩ সালে সিএসডিএস পরিচালিত এক জরিপে দেখা গিয়েছিল ৫৬% মানুষের আস্থা রয়েছে পার্লামেন্টের উপর। ২০০৫ সালে এই হার ছিল ৪৩%।


আদালতে আস্থা আছে, তবে অতীতের তুলনায় অনেক কম: বিচার ব্যবস্থার উপর জনগণের যথেষ্ট আস্থা রয়েছে বলে জরিপে উঠে এসেছে। সবচেয়ে বেশি আস্থা সুপ্রিম কোর্টের উপর। এরপর হাইকোর্ট ও জেলা আদালত পর্যায়ে আস্থার হার ক্রমান্বয়ে কমে এসেছে। একমাত্র ব্যতিক্রম অন্ধ্রপ্রদেশ। সেখানে ২৮% মানুষ জেলা আদালতের উপর আস্থার কথা জানিয়েছে। সেখানে সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের উপর আস্থা রয়েছে ২১% ও ২০% মানুষের।


অন্যান্য সাতটি রাজ্যে সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের উপর আস্থার হার গড়ে যথাক্রমে ৬০% ও ৫২%।


রাজনৈতিক দলগুলোর পর সর্বনিম্ন আস্থা সরকারি কর্মকর্তা আর পুলিশের উপর: রাজনৈতিক দলের পর সবচেয়ে কম আস্থার জায়গায় রয়েছে পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তারা।


সরকারি কর্মকর্তাদের উপর আস্থা মাত্র ৪.৮% মানুষের। পুলিশের ব্যাপারে এই হার ০.৯ শতাংশ বেশি। এই দুই সেক্টরে যে রাজনীতিকীকরণ করা হয়েছে, তারই বহিপ্রকাশ এই আস্থার ঘাটতি। সেই সাথে রয়েছে স্বচ্ছতার অভাব এবং গত এক দশক ধরে চলে আসা ব্যাপক দুর্নীতি।


ভারতে ২০১৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত আড়াই বছরের মধ্যে ১৬২৯টি দুর্নীতির ঘটনা রেকর্ডভুক্ত হয়েছে। এসব দুর্নীতিতে জড়িত রয়েছে প্রায় ৯৯৬০ জন মানুষ। ১৭৬টি দেশের মধ্যে দুর্নীতিগ্রস্থ দেশ হিসেবে ভারতের অবস্থান ৭৯তম। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল যে ‘করাপশান পার্সেপশান ইনডেক্স ২০১৬’ প্রকাশ করে, সেখানে ভারতের অবস্থান ছিল ৪০তম।


লেখক: শ্রীহারি পালিয়াথ


সূত্র: ইন্ডিয়াস্পেন্ড অবলম্বনে সাউথ এশিয়ান মনিটর ডট কম

 


Top