অনাস্থা ভোটে টিকে গেল মোদি সরকার | daily-sun.com

অনাস্থা ভোটে টিকে গেল মোদি সরকার

ডেইলি সান অনলাইন     ২১ জুলাই, ২০১৮ ১১:৫৬ টাprinter

অনাস্থা ভোটে টিকে গেল মোদি সরকার

- অনাস্থা ভোটের আগে বক্তব্য দিচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

 

ভারতের লোকসভায় অনাস্থা ভোটে জয় পেল ক্ষমতাসীন এনডিএ জোট। এতে মোদি সরকারের ক্ষমতা আরো মজবুত হলো।

তবে বিপক্ষকে ধূলিসাৎ করে যে নিরঙ্কুশ জয় পেতে মোদি সাধারণভাবে অভ্যস্ত, ঠিক তেমনটা ঘটল না শুক্রবার।


শেষ পর্যন্ত অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন ১২৬ জন সাংসদ। অন্যদিকে  বিপক্ষে ভোট দেন ৩২৫ সাংসদ। এ দিন রাতেই মোদি টুইট করেন, ‘লোকসভা ও ১২৫ কোটি ভারতীয়ের সমর্থন এনডিএ-র সঙ্গে রয়েছে। যে সব দল আমাদের সমর্থন করেছে, তাদের ধন্যবাদ। দেশ বদলের এবং যুব প্রজন্মের স্বপ্নপূরণের প্রয়াস অব্যাহত থাকবে। ’


অনাস্থা প্রস্তাবের আগে প্রায় ১২ ঘণ্টা তর্ক-বিতর্ক হয় পার্লামেন্টে। এরপর নিম্নকক্ষ লোকসভায় প্রস্তাবের পক্ষে-বিপক্ষে ভোটাভুটি হয় রাত ১১টা ১৫ মিনিটে। এর আগে ভাষণ দেন নরেন্দ্র মোদি।

বক্তব্য দেন রাহুল গান্ধীও।


এদিন সকালে আচমকা আলিঙ্গনে যে লড়াইটা বিজেপি শিবিরে পৌঁছে দিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী, নিজের বক্তৃতায় মোদি তার জবাব দেবেন— এমনটাই আশা ছিল শাসক পক্ষের। কিন্তু রাত ৯টার পর প্রধানমন্ত্রী যখন বলতে উঠলেন, তখন দেখা গেল, মোদি ঠিক মোদিতে নেই। রাজনীতির ময়দানে সাধারণভাবে নিজের নিয়মে খেলতে পছন্দ করেন মোদি। কিন্তু গতকাল তাকে খেলতে হলো রাহুলের ঠিক করে দেওয়া পথে এবং প্রতি পদে বোঝা গেল, তিনি ঠিক স্বচ্ছন্দ নন।

 


আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এদিনের অনাস্থা ভোটের পেছনে বিরোধীদের মূল লক্ষ্য ছিল, নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়াটা যাচাই করে নেওয়া। নিজের বক্তৃতায় সেই চেষ্টাকেই আক্রমণ করেছেন মোদি। বিরোধী ঐক্য ভাঙার লক্ষ্যে তার দাবি, অনাস্থা প্রস্তাব তার সরকারের বিরুদ্ধে নয়, আসলে কংগ্রেসের মাধ্যমে দেখতে চাইছে তাদের প্রতি শরিকদের আস্থা রয়েছে কি না। সেই সঙ্গে মোদির ইঙ্গিত, বিরোধী জোটে রাহুল একমাত্র নেতা নন। তার কথায়, ‘বাকিদের মধ্যে নিজেকে নেতা হিসেবে প্রমাণ করার পরীক্ষা করলেন একজন। ’


অতীতে দেবগৌড়া, ইন্দ্রকুমার গুজরালের মতো নেতাদের সঙ্গে কংগ্রেস কী রকম ব্যবহার করেছে, সেই উদাহরণও তুলে ধরেন মোদি। অন্য বিরোধী নেতাদের বোঝাতে চান, কংগ্রেসের সঙ্গে থাকলে অপমান সহ্য করেই চলতে হবে। মোদির অভিযোগ, ‘একটি পরিবারের চোখে চোখ রেখে’ কথা বলার সাহস যারাই দেখিয়েছেন— নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু থেকে শুরু করে মোরারজি দেশাই, চন্দ্রশেখর, শরদ পওয়ার, প্রণব মুখোপাধ্যায়— সকলকেই অপমানিত হতে হয়েছে।


কটাক্ষের সুরে রাহুলের আলিঙ্গনের জবাব দিলেন, কিন্তু সেটা ঠিক প্রধানমন্ত্রীসুলভ হলো না। তারপরও প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে যা বললেন, সেটা তার সরকারের বহুশ্রুত সাফল্যগাথা— বিরোধী দল এবং নেটদুনিয়ার একটা বড় অংশের মতে ‘ঘুমপাড়ানি’। ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন এমনকি বিজেপি সংসদ সদস্যরাও।


অন্যদিকে, ম্রিয়মান মোদিকে দেখে উচ্ছ্বসিত বিরোধীরা। মোদির বক্তৃতা কেমন লাগল, এই প্রশ্নের জবাবে সংসদ ছাড়ার সময় তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে রাহুল বলে গেলেন ‘দুর্বল’। সোনিয়াও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতায় নতুন কিছু নেই। সব পুরনো। ’


আর সদ্য এনডিএ ছেড়ে অনাস্থা প্রস্তাব আনা টিডিপির শীর্ষ নেতা, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুর মন্তব্য, ‘দুর্ভাগ্য, প্রধানমন্ত্রী দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করেছেন। ’

 


 শাসক শিবিরের বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রীকে আলিঙ্গন করে আর ‘চোখ মেরে’ নিম্নরুচির পরিচয় দিয়েছেন রাহুল। এক ভারতীয় সংস্কৃতির পরিচয় নয়। প্রধানমন্ত্রীর পদের মর্যাদা না রেখে রাহুল আসলে নিজের পায়েই কুড়াল মেরেছেন। তার আচরণ শিশুসুলভ।


প্রসঙ্গত, ভারতের ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবটি তোলে তেলেগু দেশম পার্টি (টিডিপি)। শুক্রবার বিতর্ক ও ভোটাভুটির দিন ধার্য করা হয়। অনাস্থা প্রস্তাব আনা টিডিপি আগে ক্ষমতাসীন জোটেই ছিল। গত মার্চে ক্ষমতাসীন এনডিএ জোট থেকে বেরিয়ে যায় টিডিপি।

 


Top