দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হয়েও এইচএসসিতে কৃতিত্ব! | daily-sun.com

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হয়েও এইচএসসিতে কৃতিত্ব!

ডেইলি সান অনলাইন     ২০ জুলাই, ২০১৮ ২০:৩৭ টাprinter

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হয়েও এইচএসসিতে  কৃতিত্ব!

চোখের আলো না থাকলেও এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করেছেন পাবনার ১৫ জন্মান্ধ শিক্ষার্থী। শ্রুতি লেখকের সহায়তায় অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তারা এই সফলতা অর্জন করেছেন।

 

পাবনার মানবকল্যাণ ট্রাস্টের সহায়তায় ও আশ্রয়ে থেকে পাবনা সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজ, শহীদ এম মনসুর আলী কলেজ ও জাগির হোসেন একাডেমি কেন্দ্র থেকে এবার এইচএসসি পরীক্ষা দেন এই শিক্ষার্থীরা।  

 

 তারা হলেন নরসিংদী জেলার শিহাবুদ্দিন ভুইয়া (জিপিএ-৪.৮৩), টাঙ্গাইলের আবদুল্লাহ আলআমিন (জিপিএ-৪.০৮), পাবনার মনিরুল ইসলাম (জিপিএ- ৫), গোপালগঞ্জের ইখতেয়ার মৃধা (জিপিএ-৪.০৮), জামালপুরের গোলাপ মল্লিক (জিপিএ-৪.৬৭), ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার শাহাদত হোসেন (জিপিএ-৩.৯২), পঞ্চগড় জেলার রোকনুজ্জামান (জিপিএ-৩.৫০), দিনাজপুরের আব্দুল আজিজ (জিপিএ-৪.২৫), কুড়িগ্রামের ইমরান হোসেন (জিপিএ-৩.৫০), টাঙ্গাইল জেলার আবুল কালাম আজাদ (জিপিএ-৪.১৭), রাজশাহীর মনিরুজ্জামান (জিপিএ-৪.১৭), ময়মনসিংহ জেলার মোজাম্মেল হক (জিপিএ-৪.৪২), নরসিন্দীর মো. আব্দুল্লাহ (জিপিএ-৪.০৮), জয়পুরহাটের মোহাম্মদ আলী (জিপিএ-৪.৮৩) ও বরিশালের হুমায়ুন কবির (জিপিএ-৪.২৫)।

 

 

শিক্ষার্থী শাহাবুদ্দিন ভুইয়া  বলেন, অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শ্রুতি লেখকের সহায়তায় একই প্রশ্নে আমাদের পরীক্ষা দিতে হয়। অনেক সময় আমরা সঠিক উত্তর বলে দিলেও শ্রুতিলেখক লিখতে ভুল করে ফেলেন। এতে মার্কস কমে যায়।  

তিনি জানান, শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়ে দেশের সমস্ত অন্ধদের সাহায্য করাই তার মূল লক্ষ্য।  

 

শাহাবুদ্দিন বলেন, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীরা প্রশ্নপত্রের উত্তর মুখে বলে শ্রুতি লেখকদের শোনান এবং শ্রুতি লেখকরা সেটি লিখে আবার তাদের পড়ে শোনান। একারণে তাদের জন্য তিনঘন্টার অতিরিক্ত মাত্র ২৫ মিনিট বেশি সময় বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে আমাদের জন্য এ সময়  যথেষ্ট নয়।

 

পাবনা মানবকল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আবুল হোসেন বলেন, অন্ধদের লেখাপড়ার জন্য প্রয়োজন ব্রেইল পদ্ধতি। অথচ দেশের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই সুযোগ নেই। এখন পরীক্ষার জন্য প্রয়োজন শ্রুতি লেখকের। দরিদ্র এসব অন্ধদের শ্রুতিলেখক সম্মানী তো দূরের কথা, লেখাপড়ার জন্য নূন্যতম আর্থিক ব্যয় করারও সক্ষমতা নেই। তারপরও থেমে থাকেনি এসব সংগ্রামী দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর শিক্ষা জীবন।  

 

পাবনার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ পাবিপ্রবির কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. এম আবদুল আলীম বলেন, এ সব অন্ধ শিক্ষার্থীদের চ্যালেঞ্জকে আমাদের সহায়তা করা উচিৎ। তাদের এই ফলাফল প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। মানবকল্যাণ ট্রাস্টকে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া হলে সারাদেশের দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের সর্বোৎকৃষ্ট শিক্ষালয় হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।  

পাবনার জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অন্ধ শিক্ষার্থীদের ফলাফল আশাব্যাঞ্জক। সরকার তাদের সম্ভাব্য সহায়তা করবে।   

 

 

সুত্রঃ সমকাল 


Top