খালেদার মুক্তির দাবিতে নায়পল্টনে নেতাকর্মীদের ঢল, ২৩ শর্ত মেনেই প্রস্তুতি | daily-sun.com

খালেদার মুক্তির দাবিতে নায়পল্টনে নেতাকর্মীদের ঢল, ২৩ শর্ত মেনেই প্রস্তুতি

ডেইলি সান অনলাইন     ২০ জুলাই, ২০১৮ ১৬:০২ টাprinter

খালেদার মুক্তির দাবিতে নায়পল্টনে নেতাকর্মীদের ঢল, ২৩ শর্ত মেনেই প্রস্তুতি

 

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এবং কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সব মামলা প্রত্যাহার, নিঃশর্ত মুক্তি ও তার প্রতি সরকারের অমানবিক আচরণের প্রতিবাদে দলটির ডাকা বিক্ষোভ সমাবেশ নির্ধারিত সময়ের আগেই নয়াপল্টনে নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছে।


আজ শুক্রবার (২০ জুলাই) বিকেল ৩টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও জুমার নামাজের পর থেকেই নেতাকর্মীরা অবস্থান নিতে থাকেন।

নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে সমাবেশস্থলে আসছেন।  


দলের চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে এই বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, যুগ্ম-মহাসচিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেবেন।  

 


গত ১৫ জুলাই সংবাদ সম্মেলনে সমাবেশের এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেদিন তিনি বলেছিলেন, দেশনেত্রীকে চিকিৎসা ও মুক্তি না দেয়া এবং তার সঙ্গে অমানবিক আচরণ করার প্রতিবাদে শুক্রবার (২০ জুলাই) ঢাকাসহ সারা দেশে জেলা ও উপজেলা সদরে বিক্ষোভ সমাবেশ হবে। ঢাকায় বেলা ৩টায় নয়াপল্টনে আমাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ আহ্বান করছি।

 

জানা গেছে, ঢকা মহানগর পুলিশের ২৩টি শর্ত সাপেক্ষে বেলা ২টা থেকে বিকাল ৫টার মধ্যে বিএনপিকে ‘শান্তিপূর্ণ সমাবেশ’ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।


বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের বলেন, লিখিত অনুমতি পাওয়ার পর আমরা সময় পেয়েছি কম। তারপরও সমাবেশের সকল প্রস্তুতি শেষ করেছি।

 


তবে সমাবেশের অনুমতি পেলেও সময় স্বল্পতার কারণে মঞ্চ তৈরির সুযোগ পায়নি বিএনপির। ফলে খোলা ট্রাকের ওপর দাঁড়িয়েই দলের শীর্ষ বক্তৃতা দেবেন বলে বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

 


উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামানের আদালত খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একইসঙ্গে, খালেদা জিয়ার ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, ড. কামালউদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত এবং খালেদা জিয়া ও  তারেক রহমানসহ ছয় আসামির প্রত্যেককে দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা করে অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। এরপর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরোনো কারাগারকে বিশেষ কারাগার ঘোষণা দিয়ে তাকে সেখানেই রাখা হয়েছে। নির্জন এই কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে গত ১৬৩দিন ধরে কারাভোগ করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।  

 
এদিকে রায় ঘোষণার ১১ দিন পর ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে রায়ের অনুলিপি হাতে পান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এরপর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ২০ ফেব্রুয়ারি এ আবেদন দায়ের করা হয়। ১২ মার্চ খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের দেয়া চার মাসের ওই জামিনাদেশের মেয়াদ গত ১২ জুলাই শেষ হয়। এরপর খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জামিনের বৃদ্ধিতে আবেদন করলে ১২ জুলাই হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ জামিনের মেয়াদ আরও এক সপ্তাহ বাড়িয়ে ১৯ জুলাই করেন।    


এছাড়া আরও বেশ কয়েকটি মামলা চলমান থাকায় এখনই খালেদা জিয়া জামিন পাচ্ছেন না।

 


দীর্ঘ ৩৬ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এর আগে একবার কারাগারে যেতে হয়েছিল বেগম খালেদা জিয়াকে। ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়। তখন জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার স্পিকারের বাসভবনকে সাবজেল ঘোষণা করে সেখানে রাখা হয়েছিল তাকে। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের এক আদেশে খালেদা জিয়া মুক্তি পান। এরপর তিনি দুর্নীতি মামলায় দ্বিতীয় বার জেলে যান।

 

আরও পড়ুন:

 

শুক্রবারের সমাবেশের মৌখিক অনুমতি পেল বিএনপি

 

খালেদার মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে শুক্রবার বিএনপির বিক্ষোভ


খালেদা জিয়ার জ্বর, কারাগারে দেখা করতে পারেননি বড় বোন

 

 


Top