আবিষ্কৃত হল প্রাচীনতম রুটির টুকরো! | daily-sun.com

আবিষ্কৃত হল প্রাচীনতম রুটির টুকরো!

ডেইলি সান অনলাইন     ২০ জুলাই, ২০১৮ ১৫:৩০ টাprinter

আবিষ্কৃত হল প্রাচীনতম রুটির টুকরো!

এতদিন ধারণা ছিল যে, মানুষ যখন থেকে কৃষিকাজ শুরু করে, মোটামুটি তখন থেকেই রুটি-পাঁউরুটি বানানে শেখে তারা। অর্থাৎ, আনুমানিক সাড়ে ১০ হাজার বছর ধরে মানুষ খেয়ে আসছে রুটি-পাঁউরুটি।

 

 

সম্প্রতি, মধ্য প্রাচ্যের জর্ডানের একটি পাথরের বাড়িতে পাওয়া গিয়েছে পাঁউরুটির পুড়ে যাওয়া টুকরো। বাড়িটির উনুনের চারপাশের পুড়ে যাওয়া কিছু গাছের রেডিও-কার্বন পরীক্ষা করে দেখা গিযেছে, রুটির টুকরোগুলি প্রায় ১৪,৪০০ বছরের পুরনো। ফলে, গবেষণারত বৈজ্ঞানিকরা মনে করছেন, কৃষিকাজ শুরু হওয়ার প্রায় ৪ হাজার বছর আগে থেকেই মানুষ রুটি জাতীয় খাবার খেত।  

 

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর এক প্রতিবেদন অনুয়ায়ী, বিশ্বের সব থেকে এই রুটি তৈরির তথ্য প্রকাশিত হয়েছে মার্কিন সায়েন্স জার্নাল ‘প্রসিডিংস অফ দ্য ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস’-এ।

 

নাতুফিয়ান যুগের রুটি তৈরির সেই স্থান

 

 

কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক আমাইয়া আরাঞ্জ ওতাগুই জানিয়েছেন, রুটি-পাঁউরুটি কোনও থিতু হওয়া জনগোষ্ঠীর খাবার ছিল না। বরং এই খাবার খেত প্যালিওলিথিক যুগের শিকারিরা। যারা শিকারের পাশাপাশি, ফল-মূল জমিয়ে রাখত দৈনন্দিন জীবনযাপনের জন্য। এদের পরিচয় ‘হান্টার গ্যাদারার’ হিসেবেই।  

 

 

আটা, জল, আর উত্তাপ (ড্রাই হিট)— এই তিনটি বস্তু দিয়ে সহজেই তৈরি করা যায় রুটি বা পাঁউরুটি।

এবং এতে যথেষ্ট পুষ্টিও পায় মানবদেহ।  

ইজরায়েলের বার-ইলান বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্কিও-বটানিস্ট, ইহুদ ওয়েইস জানিয়েছেন, প্যালিওলিথিক যুগের যে মানব সম্প্রদায় রুটি বানানোর ওই পাথরের জায়গাটি তৈরি করেছিল, তারা ছিল ‘নাতুফিয়ান’। প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে নিজেদের স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য তাদের কাছে রুটি ছিল সহজলভ্য খাবার।

 

তবে, গবেষকরা এ ব্যাপারে নিশ্চিত নন যে, এই জাতীয় রুটি বা পাঁউরুটি প্রতিদিনের খাবার ছিল কি না। অনেক গবেষক আবার এমনও মনে করছেন যে, নাতুফিয়ানরা আমোদ-উল্লাসের সময়েই এমন রুটি খেত। তাও আবার ‘বিয়ার’ জাতীয় পানীয়ের সঙ্গে।

 


Top