শুক্রবারের সমাবেশের মৌখিক অনুমতি পেল বিএনপি | daily-sun.com

শুক্রবারের সমাবেশের মৌখিক অনুমতি পেল বিএনপি

ডেইলি সান অনলাইন     ১৯ জুলাই, ২০১৮ ১৮:১০ টাprinter

শুক্রবারের সমাবেশের মৌখিক অনুমতি পেল বিএনপি

 

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এবং কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সব মামলা প্রত্যাহার, নিঃশর্ত মুক্তি ও তার প্রতি সরকারের অমানবিক আচরণের প্রতিবাদে দলটির ডাকা শুক্রবারের (২০ জুলাই) বিক্ষোভ সমাবেশের পুলিশের কাছ থেকে মৌখিক অনুমতি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমে এ অনুমতি পাওয়ার কথা জানান।


তিনি বলেন, শুক্রবার বিকাল ৩ টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তি এবং সব রাজবন্দীর মুক্তির দাবিতে ঘোষিত সমাবেশের মৌখিত অনুমতি পাওয়া গেছে। এই সমাবেশ সফল করতে ঢাকা মহানগর বিএনপি উত্তর, দক্ষিণ, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ সব অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।


এর আগে সকালে নয়াপল্টনে সমাবেশের অনুমতির বিষয়ে কথা বলতে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে যায় বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ।


এর আগে ১৫ জুলাই রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ওই দিন তিনি বলেন, দেশনেত্রীর চিকিৎসা না হওয়া, তাকে কারামুক্তি না দেয়া এবং তার সঙ্গে অবর্ণনীয় অমানবিক আচরণ করার প্রতিবাদে আগামী শুক্রবার (২০ জুলাই) বিকেল ৩টায় আমরা একটি বিক্ষোভ সমাবেশের আহ্বান করছি।


তিনি বলেন, এটা আমরা আমাদের পার্টি অফিসের সামনে আহ্বান করছি। আমরা আশা করছি এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ এবং আমাদের সুযোগ দেয়া হবে এইসব গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করার জন্য।


ফখরুল বলেন, দেশনেত্রীকে অবিলম্বে মুক্তি দিন এবং তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।

 

উল্লেখ্য, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামানের আদালত খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।

একইসঙ্গে, খালেদা জিয়ার ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, ড. কামালউদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেন আদালত এবং খালেদা জিয়া ও  তারেক রহমানসহ ছয় আসামির প্রত্যেককে দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা করে অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। এরপর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরোনো কারাগারকে বিশেষ কারাগার ঘোষণা দিয়ে তাকে সেখানেই রাখা হয়েছে। নির্জন এই কারাগারে একমাত্র বন্দি হিসেবে গত ১৬২দিন ধরে কারাভোগ করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

 


এদিকে রায় ঘোষণার ১১ দিন পর ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে রায়ের অনুলিপি হাতে পান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এরপর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ২০ ফেব্রুয়ারি এ আবেদন দায়ের করা হয়। ১২ মার্চ খালেদা জিয়াকে চার মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের দেয়া চার মাসের ওই জামিনাদেশের মেয়াদ গত ১২ জুলাই শেষ হয়। এরপর খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জামিনের বৃদ্ধিতে আবেদন করলে ১২ জুলাই হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ জামিনের মেয়াদ আরও এক সপ্তাহ বাড়িয়ে ১৯ জুলাই করেন।  


এছাড়া আরও বেশ কয়েকটি মামলা চলমান থাকায় এখনই খালেদা জিয়া জামিন পাচ্ছেন না।


দীর্ঘ ৩৬ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এর আগে একবার কারাগারে যেতে হয়েছিল বেগম খালেদা জিয়াকে। ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়। তখন জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার স্পিকারের বাসভবনকে সাবজেল ঘোষণা করে সেখানে রাখা হয়েছিল তাকে। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের এক আদেশে খালেদা জিয়া মুক্তি পান। এরপর তিনি দুর্নীতি মামলায় দ্বিতীয় বার জেলে যান।

 

আরও পড়ুন:

 

খালেদার মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে শুক্রবার বিএনপির বিক্ষোভ


খালেদা জিয়ার জ্বর, কারাগারে দেখা করতে পারেননি বড় বোন

 

 


Top