শতভাগ পাস ৪০০টিতে, ৫৫ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সবাই ফেল | daily-sun.com

শতভাগ পাস ৪০০টিতে, ৫৫ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সবাই ফেল

ডেইলি সান অনলাইন     ১৯ জুলাই, ২০১৮ ১৬:৪৯ টাprinter

শতভাগ পাস ৪০০টিতে, ৫৫ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সবাই ফেল

 

এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ৪০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সবাই পাস করেছে। অপরদিকে ৫৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কেউই পাস করতে পারেনি।

এবার গত বছরের তুলনায় শতভাগ পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৩২টি কমেছে। শূন্য পাস শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও কমেছে ১৭টি।


গত বছর ৭২টি প্রতিষ্ঠানের কেউ পাস করতে পারেনি ও ৫৩২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সবাই পাস করেছিল।


বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ ফলাফল প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে তার হাতে ফলাফলের অনুলিপি হস্তান্তর করেন শিক্ষামন্ত্রী। এরপর সংশ্লিষ্ট বোর্ডের চেয়ারম্যানরা তাদের স্ব স্ব বোর্ডের ফলাফল প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। পরে প্রধানমন্ত্রী কম্পিউটারের বার্টন টিপে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ফলাফল উন্মোক্ত করেন।


এবার সারা দেশে ১০টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় দুই হাজার ৫৪১টি কেন্দ্রে মোট ১৩ লাখ ১১ হাজার ৪৫৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে সাধারণ আট বোর্ডে শিক্ষার্থী ছিল ১০ লাখ ৯২ হাজার ৬০৭ জন।

মাদ্রাসা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ১২৭ জন। কারিগরি বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৫৪ পরীক্ষার্থী ছিল। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৮ লাখ ৫৮ হাজার ৮০১ জন। শাতাংশিক হিসেবে যা ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। গত বছর পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৯১ শতাংশ।   সে হিসেবে এবার পাসের হার কমেছে ২.২৭ শতাংশ।

 
এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৯ হাজার ২৬২ জন। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৩৭ হাজার ৭২৬ জন। সেই হিসাবে এবার উচ্চ মাধ্যমিকে পূর্ণাঙ্গ জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৮ হাজার ৪৬৪ জন।


এবার মোট ৮ হাজার ৯৪৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা দিয়েছে। আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে শূন্য পাস প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩৫টি। এরমধ্যে ঢাকা বোর্ডে ৬, রাজশাহী বোর্ডে ৬, কুমিল্লায় ২, যশোরে ৪, চট্টগ্রামে একটি, বরিশালে ২, সিলেটে ২ ও দিনাজপুর বোর্ডে ১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।


এছাড়া মাদরাসা বোর্ডের ১৩টি ও কারিগরি বোর্ডে ৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।


শতভাগ পাস প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানেও রয়েছে ঢাকা বোর্ড। এ বোর্ডে ৩৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সবাই পাস করেছে। এছাড়া যশোর বোর্ডে ৬, রাজশাহী বোর্ডে ১৯, কুমিল্লা বোর্ডে ১৪, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৫, বরিশাল বোর্ডে ৫, সিলেট বোর্ডে ১০ ও দিনাজপুর বোর্ডে ১৪টি শতভাগ পাস প্রতিষ্ঠান রয়েছে।


মাদরাসা বোর্ডে ২৮৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সবাই পাস করেছে। আর কারিগরি বোর্ডে কোনো শূন্য পাস শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই।


গণভবনে ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, শিক্ষা সচিব মো. সোহরাব হোসেন, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী। এরপর প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নেত্রকোনাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সেখান থেকে শিক্ষার্থীরাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীও তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জানতে চান তারা লেখাপড়া শিখে কী করবে। শিক্ষার্থীরা তাদের অনুভুতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন।


চলতি বছর ২ এপ্রিল থেকে ১৪ মে এইচএসসির লিখিত পরীক্ষা চলে। আর ১৪ থেকে ২৩ মের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় ব্যবহারিক পরীক্ষা। পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৫৮ দিনে এবার  ফল প্রকাশ করা হয়।


তবে দুপুর দেড়টা থেকেই পরীক্ষার্থীরা নিজেদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ফল জানতে পারছেন। এর পাশাপাশি শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট (http://www.educationboard.gov.bd) থেকেও ফল জানা যাচ্ছে।


গত বেশ কয়েক বছর ধরে পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে ফাঁস নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা ছিল তুঙ্গে। কিন্তু এবার প্রশ্ন ফাঁসের কোনো ধরনের অভিযোগ প্রায় ছিল না বলেই চলে।


এবার এক নজরে দেখে নেয়া যাক এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল: 

 

 


Top