বগুড়ায় ভুল চিকিৎসায় স্কুলছাত্রের মৃত্যুর অভিযোগ | daily-sun.com

বগুড়ায় ভুল চিকিৎসায় স্কুলছাত্রের মৃত্যুর অভিযোগ

ডেইলি সান অনলাইন     ১৯ জুলাই, ২০১৮ ১৩:৩৯ টাprinter

বগুড়ায় ভুল চিকিৎসায় স্কুলছাত্রের মৃত্যুর অভিযোগ

 

বগুড়া শহরের বেসরকারি একটি ক্লিনিকে ভুল অপারেশনে সাকিব হাসান (১৫) নামে সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৮ জুলাই) রাতে শহরের শেরপুর সড়কে সাতানী বাড়ি সংলগ্ন ডলফিন ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে এবং ঘটনার পর থেকে ক্লিনিক মালিক জন মণ্ডল ও চিকিৎসক একে পাল, নার্স ও অন্যরা গাঢাকা দিয়েছেন।


নিহত স্কুলছাত্র সাকিব হাসান বগুড়া শহরের ফুলদীঘি পূর্বপাড়ার বাসিন্দা পরিবহন শ্রমিক আবদুল আজিজ লিটনের ছেলে। সে ফয়জুল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণিতে পড়তো।


জানা গেছে, সাকিব হাসান কিছুদিন ধরে পেটব্যথা অনুভব করছিল। তাকে ক্লিনিকে নিলে চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, তার পেটে অ্যাপেন্ডিসাইটিস হয়েছে; অবিলম্বে তার অপারেশন করাতে হবে।


নিহতের বাবা আব্দুল আজিজ লিটন জানান, তার ছেলে সাকিব হাসান পেটের ব্যাথায় ভুগছিলেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার পেটে অ্যাপেন্ডিসাইটিস ধরা পড়ে। পরে এক প্রতিবেশীর পরামর্শে বুধবার বিকেলে ছেলেকে তিনি অস্ত্রোপচারের জন্য ওই ক্লিনিকে ভর্তি করান। সে অনুযায়ী রাত ৮টার দিকে ছেলেকে ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়।


বগুড়া মিশন হাসপাতালের চিকিৎসক একে পাল অপারেশন করেন।

রাত পৌনে ৯টার দিকে অপারেশন থিয়েটার থেকে যখন বের করা হয়, তখন সাকিব অচেতন ছিল। কিছুক্ষণ পর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালে তারা সাকিবকে শহরে কানুচগাড়ি এলাকায় তেসলা নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে নেবার পরামর্শ দেন। সেখানে নেয়া হলে চিকিৎসক সাকিবকে মৃত ঘোষণা করেন।


এরপর সাকিবকে আবার ডলফিন ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে আনা হয়। বাবা-মায়ের অভিযোগ, চিকিৎসকের ভুল অপারেশনে তাদের ছেলের মৃত্যু হয়েছে। তারা ছেলের হত্যার বিচার দাবি করে বলেন, জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।  


এদিকে ঘটনার পর থেকেই ক্লিনিকের মালিক জন মণ্ডল ও কর্মকর্তারা পলাতক থাকায় এ ব্যাপারে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করেও অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. একে পালের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।


অবস্থা বেগতিক দেখে ক্লিনিক মালিক জন মণ্ডল, ডা. একে পাল, নার্স ও কর্মচারিরা পালিয়ে যান। ফোন বন্ধ রাখায় মালিক ও চিকিৎসকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি-তদন্ত) কামরুজ্জামান বলেন, অপারেশনের পর স্কুলছাত্র সাকিব হাসানের মৃত্যু হলে স্বজন ও এলাকাবাসীরা হামলা চালিয়ে ক্লিনিকে ভাংচুর করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাক্ষেপে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 


Top