শতভাগ পাস ও শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান কমেছে: শিক্ষামন্ত্রী | daily-sun.com

শতভাগ পাস ও শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান কমেছে: শিক্ষামন্ত্রী

ডেইলি সান অনলাইন     ১৯ জুলাই, ২০১৮ ১২:৪৬ টাprinter

শতভাগ পাস ও শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান কমেছে: শিক্ষামন্ত্রী

 

এবার শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠান এবং কেউ পাস করেনি এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেন, গত বছর শতভাগ পাস করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৫৩২টি।

এবার সেই সংখ্যা ৪০০-তে নেমে এসেছে। অর্থাৎ শতভাগ পাস করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমেছে ১৩২টি। অন্যদিকে এ বছর ৫৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করতে পারেনি। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৭২টি। অর্থাৎ এ ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৭টি কমেছে।


বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) সকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে ২০১৮ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ এবং ফলের পরিসংখ্যান হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী।


এবার সারা দেশে ১০টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় দুই হাজার ৫৪১টি কেন্দ্রে মোট ১৩ লাখ ১১ হাজার ৪৫৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে সাধারণ আট বোর্ডে শিক্ষার্থী ছিল ১০ লাখ ৯২ হাজার ৬০৭ জন। মাদ্রাসা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ১২৭ জন।

কারিগরি বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৫৪ পরীক্ষার্থী ছিল। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৮ লাখ ৫৮ হাজার ৮০১ জন। শাতাংশিক হিসেবে যা ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। গত বছর পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৯১ ভাগ। সেবার পাস করেছিল আট লাখ এক হাজার ৭১১ জন। এ বছর পাসের হার কমেছে ২ দশমিক ২৭ ভাগ। অর্থাৎ গতবারের চেয়ে এবার ৫৭ হাজার ৯০ জন কম পাস করেছে।


শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, গত বছর জিপিএ ৫ পেয়েছিল ৩৭ হাজার ৯৬৯ জন। এ বছর জিপিএ ৫ পেয়েছে ২৯ হাজার ২৬২ জন। অর্থাৎ, কমেছে আট হাজার ৭০৭ জন।


এর আগে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ প্রধানমন্ত্রীর হাতে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল তুলে দেন। পরে প্রধানমন্ত্রী কম্পিউটারের বার্টন টিপে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ফলাফল উন্মোক্ত করেন।


অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, শিক্ষা সচিব মো. সোহরাব হোসেন, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী। এরপর প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নেত্রকোনাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সেখান থেকে শিক্ষার্থীরাও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীও তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জানতে চান তারা লেখাপড়া শিখে কী করবে। শিক্ষার্থীরা তাদের অনুভুতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন।


যদিও দুপুর ১টায় শিক্ষামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করবেন। এরপর দুপুর ২টায় শিক্ষার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে নিজ কলেজ ও মাদ্রাসা থেকে ফল জানতে পারবে। এছাড়া এসএমএস ও অনলাইনে ফল জানা যাবে।


চলতি বছর ২ এপ্রিল থেকে ১৪ মে এইচএসসির লিখিত পরীক্ষা চলে। আর ১৪ থেকে ২৩ মের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় ব্যবহারিক পরীক্ষা। পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৫৮ দিনে এবার  ফল প্রকাশ করা হচ্ছে।


দুপুর দেড়টা থেকেই পরীক্ষার্থীরা নিজেদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ফল জানতে পারবেন। এর পাশাপাশি শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট (http://www.educationboard.gov.bd) থেকেও ফল জানা যাবে।


গত বেশ কয়েক বছর ধরে পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে ফাঁস নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা ছিল তুঙ্গে। কিন্তু এবার প্রশ্ন ফাঁসের কোনো ধরনের অভিযোগ প্রায় ছিল না বলেই চলে।

 


Top