সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে থাই কিশোরেরা | daily-sun.com

সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে থাই কিশোরেরা

ডেইলি সান অনলাইন     ১৮ জুলাই, ২০১৮ ১৭:২৩ টাprinter

সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে থাই কিশোরেরা

থাইল্যান্ডে এক গুহায় ১৭ দিন আটক থাকার পর উদ্ধার পাওয়া ১২ জন কিশোর এবং তাদের ফুটবল কোচকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের সাথে কথাবার্তা বলার পর তারা যে যার বাড়িতে ফিরে যাবে বলে থাই কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন থাই ১২ খুদে ফুটবলার ও তাদের কোচ আজ বুধবার হাসপাতাল থেকে রিলিজ পেয়েছে।

এদিকে, আজ বিকেলেই তাদের নিয়ে একটি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে। এর পরে আজ সন্ধ্যায় তারা বাড়ি ফিরে যাবে বলে জানা গেছে।

 

থাইল্যান্ডের চিয়াং রাইয়ের থেম লুয়াং গুহায় ১১ থেকে ১৬ বছর বয়সী ওই ১২ কিশোর ফুটবলার ও ২৫ বছর বয়সী তাদের কোচ প্রবল বর্ষণ ও বন্যার কারণে আটকে পড়ে। আর্ন্তজাতিক ও স্থানীয় উদ্ধারকর্মীদের সহায়তা প্রায় ২ সপ্তাহ পর তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়। উদ্ধার হওয়ার পর তারা চিয়াং রাইয়ের একটি হাসপাতালে ছিল।  

 

এদিকে, আজ বুধবার ওই ফুটবল দলকে নিয়ে 'থাইল্যান্ড মুভ ফরোয়ার্ড' নামের  সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সংবাদ সম্মেলনটি থাইল্যান্ডের জাতীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করার জন্য থাই সরকার ৪৫ মিনিট বরাদ্দ করে দিয়েছে বলে জানা গেছে।

 

এর আগে হাসপাতালে কিশোরদের সামনে ডুবুরি সামানের একটি ছবি রাখা হয় বলে জানা গেছে। তাদের জানানো হয়, ইনি হলেন সেই ডুবুরি যিনি তোমাদেরকে উদ্ধার করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন।

এ কথা শোনার পর নিজেদের আর দমিয়ে রাখতে পারেনি কিশোর ছেলেরা।   ছবির সামনে দাঁড়িয়েতারা কান্নায় ভেঙে পড়ে।

 

 

উদ্ধার হওয়ার পর থেকে উত্তর থাইল্যান্ডের চিয়াং রাই-এর এক ক্লিনিকে এই কিশোরদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছিল। খবর পাওয়া যাচ্ছে যে এই কিশোরদের কিছু সময় বৌদ্ধ ভিক্ষু হিসেবে কাজ করতে হবে। থাই রীতি অনুযায়ী, কোন দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়ার পর মানুষ স্বল্প সময়ের জন্য ভিক্ষুর ভূমিকা পালন করেন।

 

 

কিশোর ফুটবলাররা কেন গুহার গভীরে গিয়েছিলো?

 

এই প্রশ্নে অনেক বক্তব্য এসেছে। কিন্তু যারা গুহায় আটকা পড়েছিল, সেই কিশোর ফুটবলার এবং তাদের সাথে থাকা সহকারি কোচের কাছ থেকে সরাসরি এখনও কিছু জানা সম্ভব হয়নি।

 

তাদের প্রধান কোচ নোপারাত কানতাওং বলেছেন, শনিবার তাদের একটি ফুটবল ম্যাচ ছিল। সেটি বাতিল করে তিনি সেদিন প্রশিক্ষণের জন্য সময় নির্ধারণ করেছিলেন।

 

তিনি তাদের গুহায় যাওয়ার জন্য কোনো পরামর্শ দেননি। ফলে তাদের সেখানে যাওয়ার কথা ছিল না। তবে শনিবার কিশোর ফুটবলারদের একজনের জন্মদিন ছিল।

জন্মদিন পালনের জন্য সেদিন স্থানীয় একটি দোকান থেকে এই কিশোররা সাত'শ থাই বাথ দিয়ে খাবার কিনেছিল বলে ঐ দোকানদার জানিয়েছেন।

 

প্রধান কোচ নোপারাত কানতাওং বলেছেন, সহকারি কোচ একাপল এই কিশোর ফুটবলারদের খুব ভালবাসে এবং তাদের জন্য সে সবকিছু করতে পারে।

তিনি ধারণা করছেন, কিশোর ফুটবলাররা সহকারি কোচের কাছে আবদার করে তাকে নিয়ে গুহায় গিয়েছিল। এই এলাকায় গুহাটি সকলের কাছে পরিচিত এবং এই কিশোররাও আগে ঔ গুহায় গিয়েছিল।

 

তারা যে গুহার গভীরে চলে যায়, সে ব্যাপারে ধারণা করা হচ্ছে, তারা যখন গুহায় গেছে, তখন শুকনো ছিল। কিন্তু হঠাৎ অতিবর্ষণে গুহায় পানি বাড়তে থাকায় তারা গভীরে যেতে বাধ্য হয়েছিল।

 


Top