ফ্রান্সে আনন্দ মিছিল রূপ নিল দাঙ্গা ও লুটপাটে! | daily-sun.com

ফ্রান্সে আনন্দ মিছিল রূপ নিল দাঙ্গা ও লুটপাটে!

ডেইলি সান অনলাইন     ১৬ জুলাই, ২০১৮ ১৯:৪৫ টাprinter

ফ্রান্সে আনন্দ মিছিল রূপ নিল দাঙ্গা ও লুটপাটে!

২০ বছর পর আবারও বিশ্বকাপ জিতেছে ফ্রান্স। তাই আনন্দে দিশেহারা ছিলেন অনেক ফরাসি সমর্থক।

প্যারিসের শঁজেলিজে-তে বিশ্বকাপ জয় উৎযাপনে হাজির হয়েছিলেন ৯০ হাজার মানুষ। কিন্তু কিছু উচ্ছৃঙ্খল মানুষের কারণে শুরু হয়ে যায় দাঙ্গা।

অতি উৎসাহী এবং উচ্ছৃঙ্খল কিছু মানুষ বিভিন্ন ভবনের জানালা ভেঙে ফেলে। কিছু দোকানে লুটপাটও চালিয়েছে তারা।

 

খেলা শেষ হওয়ার সাথে সাথে ফ্রান্সের জাতীয় পতাকার রঙে রঙিন হয়ে ওঠে আইফেল টাওয়ার। সেখানে ভেসে উঠছিল ১৯৯৮ এবং ২০১৮, যে দুই সালে ফ্রান্স বিশ্বকাপ জিতেছে। বিশ্বকাপ জয়ের উন্মাদনা এত বেশি ছিল যে, অনেকে নগ্ন হয়ে কেবল পতাকা শরীরে জড়িয়ে ছিলেন। বিভিন্ন জায়গায় স্মোক বোমা ছোড়া হয়েছিল, যা থেকে ছড়িয়ে পড়ছিল ফ্রান্সের পতাকার তিনটি রঙ। গাড়িতে বাজছিল হর্ন আর পতাকা হাতে অনেকেই নেমে পড়েছিলেন রাস্তায়।

কেবল প্যারিস নয়, পুরো ফ্রান্স জুড়েই ছড়িয়ে পড়েছিল উন্মাদনা।

 

খেলা দেখার সময় কিশোর ও তরুণদের সবচেয়ে পছন্দের জায়গা ছিল শঁজেলিজে। ফ্রান্স ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে পরাজিত করার পর সেখানে তরুণদের ভিড় আরেও বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে প্রায় ৯০ হাজার তরুণ-কিশোর-কিশোরী জড়ো হন সেখানে।

 

 

তাদের মধ্যে একজন ১৯ বছরের গোফ্রি হ্যামশিক বললেন, গত কয়েক বছর ধরে ফ্রান্স অনেক ধরনের সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেমন সন্ত্রাসী হামলা। কিন্তু এই একটা জিনিস আমাদের সবাইকে এক করেছে। এই দেশে ভিন্ন ধরনের সংস্কৃতির মানুষ রয়েছে। কিন্তু ফুটবলে কোনো ধর্ম নেই, ভেদাভেদ নেই। তাই এটা সবার মধ্যে ভালো একটা অনুভূতি ছড়িয়ে দেয়।

 

সবকিছু ভালোই চলছিল। কিন্তু এক পর্যায়ে অতি উৎসাহী কিছু তরুণ বেশ কয়েকটি দোকানের কাঁচ ভাঙা শুরু করে, বিভিন্ন ভবনের দিকে বোতল ছুড়তে থাকে, আশেপাশে থাকা অস্থায়ী বেড়াগুলো ভেঙে ফেলে। তাই মধ্যরাতে এলাকাটি হঠাৎ করেই রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় ৪ হাজার পুলিশ। পানি, কামান আর কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

 

 

আগামী কয়েকদিন ধরে ফ্রান্সে এই উন্মাদনা অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আজ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট ভবন এলিজে প্রাসাদে চ্যাম্পিয়ন দলটিকে সংবর্ধনা দেবেন প্রেসিডেন্ট মাঁক্রো। সূত্র: ডয়চে ভেলে

 


Top