স্থানীয় সন্ত্রাসী রমজানের পরিকল্পনায় আওয়ামী লীগ নেতা ফরহাদ খুন হন | daily-sun.com

স্থানীয় সন্ত্রাসী রমজানের পরিকল্পনায় আওয়ামী লীগ নেতা ফরহাদ খুন হন

ডেইলি সান অনলাইন     ১৪ জুলাই, ২০১৮ ১৬:৪৯ টাprinter

স্থানীয় সন্ত্রাসী রমজানের পরিকল্পনায় আওয়ামী লীগ নেতা ফরহাদ খুন হন

 

রাজধানীর বাড্ডা এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা ফরহাদ হোসেনকে খুনের পরিকল্পনায় ছিলেন স্থানীয় শীর্ষ সন্ত্রাসী রমজান। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, অটোরিকশাস্ট্যান্ড ও ডিস ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ আদায় এবং সেই অর্থ ভাগবাটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরেই খুন হন ফরহাদ হোসেন।

শনিবার (১৪ জুলাই) দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আবদুল বাতেন।


তিনি বলেন, বাড্ডার শীর্ষ সন্ত্রাসী রমজান, মেহেদী ওরফে কলিন্স ও আশিকের পরিকল্পনায় খুন হন ফরহাদ। তারা সবাই এখন বিদেশে পলাতক।


এদিকে ফরহাদ হোসেন হত্যা মামলার মূলহোতাসহ পাঁচ ভাড়াটে কিলারকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। শুক্রবার (১৩ জুলাই) দিবাগত রাতে রাজধানীর মিরপুর ও গুলশান এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪টি পিস্তল, ৪টি ম্যাগাজিন ও ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে ডিবি উত্তরের টিম।


গ্রেফতার হওয়া পাঁচজন হলেন- জাকির হোসেন, আরিফ মিয়া, আবুল কালাম আজাদ ওরফে অনির, বদরুল হুদা ওরফে সৌরভ ও মো. বিল্লাল হোসেন ওরফে রনি।


ফরহাদ হত্যার ঘটনায় বাড্ডা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের পরে গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগ মামলটির তদন্ত শুরু করে। গত ১০ জুলাই হত্যা মামলার অন্যতম আসামি জহুরুল ইসলাম ওরফে সুজনকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি আদালতে ওই হত্যায় জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তার দেয়া তথ্যে উঠে আসে ঘটনার নেপথ্যে জড়িতদের নাম।

 


অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আবদুল বাতেন বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, অটোরিকশাস্ট্যান্ড ও ডিস ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অর্থ ভাগবাটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে ফরহাদ খুন হন। গ্রেফতার সুজন আদালতে এমন স্বীকারোক্তি দেন।


পরবর্তীতে ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা গোয়েন্দা পুলিশকে জানায়, হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন আগে মূল পরিকল্পনাকারী রমজান ভারতে চলে যান। রমজান তার আপন ছোট ভাই সুজন এবং অপর দুই সহযোগী- জাকির ও আরিফের ওপর হত্যাকাণ্ড সংঘটনের দায়িত্ব দেন। অপরদিকে শীর্ষ সন্ত্রাসী মেহেদীর সামরিক কমান্ডার অমিত তাদের ভাড়াটে শ্যুটার নুর ইসলাম, অনির, সৌরভ ও সাদকে গুলি করার দায়িত্ব দেন।


পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৫ জুন সকালের দিকে অমিতসহ ভাড়াটে খুনিরা উত্তর বাড্ডার সুবাস্তু টাওয়ারের সামনে সমবেত হন। অমিতের নির্দেশনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হয় যে, নুর ইসলাম, অনির ও সৌরভ মূল কিলিং মিশনে অংশ নেবে। আর অমিতের সঙ্গে ব্যাকআপ হিসেবে থাকবে সাদ ওরফে সাদমান। দুপুর ১২টার দিকে রমজানের ছোট ভাই সুজন কিলিং মিশনে অংশগ্রহণকারী তিন শ্যুটার ও ব্যাকআপ সাদকে জাকিরের সঙ্গে অস্ত্র গ্রহণের জন্য একটা রিকশাগ্যারেজে পাঠান। চারজনকেই অস্ত্র বুঝিয়ে দেন শীর্ষ সন্ত্রাসী মেহেদীর অন্যতম আস্থাভাজন পুলক ওরফে পলক। এরপর জাকির তাদের নিয়ে আরিফের কাছে পৌঁছে দেন। পরিকল্পনা মাফিক আরিফ শ্যুটারদের মসজিদের কাছে নিয়ে গিয়ে বাইরে থেকে টার্গেট ফরহাদকে চিনিয়ে দেন। নামাজ শেষে ফরহাদ মসজিদ থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্যুটাররা জনসম্মুখে উপর্যপুরি গুলি করে পালিয়ে যান।


তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে শ্যুটাররা তাদের অস্ত্রগুলো শীর্ষ সন্ত্রাসী মেহেদীর সামরিক কমান্ডার অমিতের কাছে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য পল্লবী এলাকায় যান। সেখানে অমিত তার অপর সহযোগী সুজনের মাধ্যমে অস্ত্রগুলো গ্রহণ করেন। হত্যাকাণ্ডের পর অমিত তাৎক্ষণিক এক লাখ টাকা শ্যুটারদের মাঝে বণ্টন করে দেন।


হত্যাকাণ্ডের পরপরই দেশত্যাগ করেন রমজানের ছোট ভাই সুজন, জানান আব্দুল বাতেন।

 


সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, বাড্ডার শীর্ষ সন্ত্রাসী রমজান ও আশিক বর্তমানে ভারত এবং মেহেদী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। ফরহাদ খুনের পর আরও এক ব্যবসায়ীকে খুন করার পরিকল্পনা করেছিলেন রমজান। তবে ডিবি পুলিশের তৎপরতা ও অভিযানের কারণে তা ভেস্তে যায়।


এদিকে ৪ জুলাই দিনগত রাত ৩টার দিকে রাজধানীর বাড্ডায় ডিবি পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন নুরুল ইসলাম ওরফে কিলার সানি (২৮) ও শীর্ষ সন্ত্রাসী মেহেদীর সামরিক কমান্ডার অমিত ওরফে কিলার দাদা (৩৫)। ওই দু‘জনই ফরহাদ হোসেন  হত্যার সন্দেহভাজন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তর) উপ-কমিশনার মশিউর রহমান।


ওই দিন তিনি বলেছিলেন, সিসিটিভির ফুটেজে ফরহাদ হত্যার পর দু’জনকে অস্ত্র হাতে পালিয়ে যেতে দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেই লাল গেঞ্জি পরিহিত যুবকটি ছিল সানি। অন্য যুবক অমিত ভারতে পালিয়ে থাকা সন্ত্রাসী আশিক ও আমেরিকায় পালিয়ে থাকা সন্ত্রাসী মেহেদীর সহযোগী বলে তথ্য মিলেছে।


উল্লেখ্য, গত ১৫ জুন দুপুরে রাজধানীর উত্তর বাড্ডার আলীর মোড় এলাকার পূর্বাঞ্চল ১ নম্বর লেন সংলগ্ন বায়তুস সালাম জামে মসজিদে জুমার নামাজ পড়েন বাড্ডা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন। নামাজ শেষে বেরিয়ে আসার পরই দুইজন দুর্বৃত্ত তাকে প্রকাশ্যে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় মুসুল্লিদের সহযোগিতায় তাকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 


Top