বেলুচিস্তানের বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ১৩২, আইএসের দায় স্বীকার | daily-sun.com

বেলুচিস্তানের বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ১৩২, আইএসের দায় স্বীকার

ডেইলি সান অনলাইন     ১৪ জুলাই, ২০১৮ ১২:০৯ টাprinter

বেলুচিস্তানের বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ১৩২, আইএসের দায় স্বীকার

 

পাকিস্তানে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট পৃথক দুটি বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে একজন প্রার্থীও রয়েছেন।

এ ছাড়া আহত হয়েছে দুই শতাধিক। শুক্রবার (১৩ জুলাই) দেশটির বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া এলাকায় এসব হামলার ঘটনা ঘটে। বেলুচিস্তানের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট (আইএস)।


পাকিস্তানি গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, বেলুচিস্তানের মুস্তাং এলাকায় একটি নির্বাচনী সমাবেশে আত্মঘাতী হামলায় প্রদেশের নির্বাচনী এলাকা-৩৫ এর প্রার্থীসহ ১২৮ জন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছে দুই শতাধিক।


ডন নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত প্রার্থীর নাম নওয়াবজাদা সিরাজ রাইসানি। তিনি সেখানকার প্রাদেশিক আসন পিবি-৩৫ এ বেলুচিস্তান আওয়ামী পার্টির (বিএপি) হয়ে লড়ছিলেন।


এর কয়েক ঘণ্টা আগে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নু এলাকায় একটি মোটরসাইকেল বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে মুত্তাহিদা মজলিস-ই-আমল দলের প্রার্থী আকরাম খান দুররানি বেঁচে গেলেও চারজন নিহত হয়।

এ ছাড়া অন্তত ৩০ জন আহত হয়।

 


স্থানীয় গণমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেলুচিস্তানের ওই আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করেছে নিষিদ্ধঘোষিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের ‘গাজি ফোর্স’। আর এক্সপ্রেস ট্রিবিউন বলেছে, ইসলামিক স্টেট ওই হামলার দায় স্বীকার করেছে।


নিহত সিরাজ রাইসানির ভাই লস্করি রাইসানি বলেছেন, ‘আমার ভাই ‘শহিদ’ হয়েছেন। ’ তিনি নিজেও এই নির্বাচনে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আর তাদের ভাই নবাব আসলাম রাইসানি ২০০৮ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত বেলুচিস্তানের মুখমন্ত্রী ছিলেন।


২০১১ সালে এই মুস্তাং জেলাতেই গ্রেনেড হামলায় নিহত হয় সিরাজ রাইসানির কিশোর ছেলে। সিরাজ রাইসানির গাড়িতে ওই গ্রেনেড হামলা হয়েছিল। ঘটনার সময় তিনি নিজেও গাড়ির ভেতরে ছিলেন। কিন্তু ভাগ্যক্রমে  বেঁচে যান কিন্তু নিহত হয় তার কিশোর ছেলে।


বেলুচিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আঘা উমর বাঙ্গুলজাই বলেছেন, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২ হয়েছে। সিরাজ রাইসানিকে কুয়েত্তার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায় বলেও জানান তিনি।

 


প্রদেশের তথ্যমন্ত্রী মালিক খুররম শেহজাদ নিশ্চিত করেছেন যে, এটি আত্মঘাতী হামলা ছিল। ডন বলছে, হামলায় অন্তত ৮ কেজি বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে। আর ট্রিবিউন বলছে, ১৫ কেজির মতো বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে। আর আত্মঘাতী হামলাকারী সমাবেশ মঞ্চের খুব কাছাকাছি ছিল বলে বেঁচে যাওয়া প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে জানিয়েছে ডন।


এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে পেশোয়ারে আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টির (এএনপি) নির্বাচনী সমাবেশে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে ২২ জন নিহত হন। ওই হামলায় এএনপির নেতা ও নির্বাচনের প্রার্থী হারুন বিলার প্রাণ হারান।   আহত হয় অন্তত ৬০ জন। পরে ওই হামলার দায় স্বীকার করে কট্টরপন্থী সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান, পাকিস্তান (টিটিপি)। এই টিটিপিই ২০১২ সালে হারুন বিলারের বাবা বশির বিলারকে হত্যা করে বলে দাবি করে।


পাকিস্তানজুড়ে সহিংসতা: আগামী ২৫ জুলাই পাকিস্তানের জাতীয় ও প্রাদেশিক নির্বাচন। ইতিমধ্যে সেখানে বেশ কিছু নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনা ঘটে গেছে। যার বেশির ভাগই বোমা হামলা বা আত্মঘাতী বিস্ফোরণের মতো ঘটনা। শুক্রবার ও গত মঙ্গলবারের বড় দুটো ঘটনা ছাড়াও ঘটে গেছে বেশ কিছু প্রাণহানির ঘটনা।

 


শুক্রবার সকালে বান্নু জেলায় বোমা হামলা হয় খাইবার পাখতুন খাওয়া প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী আকরাম খান দুররানির নির্বাচনী প্রচারণায়। তবে এ হামলায় দুররানির তেমন কিছু না হলেও চার ব্যক্তি নিহত ও ৩২ জন আহত হন।


এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে খুজদার জেলায় বিএপির নির্বাচনী দপ্তরে বোমা হামলা হয়। এতে দুই ব্যক্তি আহত হন।


৭ জুলাই বান্নু জেলায় মুত্তাহিদা মজলিশ-ই-আমলের নির্বাচনী প্রচারণায় বোমা হামলা হয়। এতে দলটির প্রার্থীসহ অন্তত সাতজন আহত হন। এ ছাড়া এ মাসের শুরুর দিকে উত্তর ওয়াজিরিস্তানে হামলা হয় পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের কার্যালয়ে। এতে ১০ জন আহত হন।

 

 

 


Top