খুলনা ও গাজীপুরে নীতি বাস্তবায়ন করছেন সিইসি: রিজভী | daily-sun.com

খুলনা ও গাজীপুরে নীতি বাস্তবায়ন করছেন সিইসি: রিজভী

ডেইলি সান অনলাইন     ১৩ জুলাই, ২০১৮ ১৫:০২ টাprinter

খুলনা ও গাজীপুরে নীতি বাস্তবায়ন করছেন সিইসি: রিজভী

 

বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট এই তিন সিটিতেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার খুলনা ও গাজীপুরে অনুসৃত নীতি বাস্তবায়ন করছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, এই ইসির অধীনে কখনওই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

শুক্রবার (১৩ জুলাই) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার‌্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী।


তিনি বলেন, বিনা ওয়ারেন্টে কাউকে গ্রেফতার করা যাবে না- এমন নির্দেশনা থেকে সরে এসেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল বৃহস্পতিবার ইসির সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বৈঠক শেষে সিইসি এ কথা জানান। এ সিদ্ধান্ত সরকারের হুমকির মুখে ইসির প্রতিরোধহীন আত্মসমর্পণ। আগামী নির্বাচনগুলোতে সরকার খুলনা-গাজীপুর মার্কা নতুন মডেলের ভোট সন্ত্রাসের নির্বাচন নির্বিঘ্ন করতেই ইসি তার আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছে।


রিজভী বলেন, যে দেশে আইনের শাসন নেই, সেদেশে আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর সদস্যদের ভোটারদের সঙ্গে নয়, বরং সরকারের সঙ্গেই তাল মিলিয়ে চলতে হয়। সুতরাং আগামী নির্বাচনগুলো কোন রঙ ও রূপে আত্ম প্রকাশ করবে, তা এখনই খুব সহজে অনুমান করা যায়।


বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করে বলেন, তিন সিটিতেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্লজ্জভাবে সরকারি দলের প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মামলা-হামলার হুমকির মুখে নেতাকর্মীদের সিটি কর্পোরেশন নিজ এলাকার বাইরে অন্যত্র পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে।

আর গ্রেফতারের হিড়িকতো চলছেই। রাজশাহীতে ধানের শীষের প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল নির্বাচনী অনাচারে লিপ্ত কাশিয়াডাঙ্গা থানার ওসি ও গোয়েন্দা পুলিশের ওসির প্রত্যাহার চাইলেও নির্বাচন কমিশনের স্থানীয় কর্মকর্তারা অভিযোগে কান না দিয়ে আকাশের দিকে চেয়ে থাকেন। রাজশাহীতে সারা শহরজুড়ে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা এমনভাবে পোস্টার সেঁটেছে যে, সেখানে অন্য কারও পোস্টার লাগানোর কোনো জায়গাই নেই। সিলেটে ধানের শীষের প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীকে প্রচার-প্রচারণা থেকে বিরত থেকে থানার সামনে অনশন করতে হচ্ছে গ্রেফতারকৃত নেতা-কর্মীদের মুক্তির জন্য।


তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, বরিশাল ও রাজশাহীতে সরকারি দলের পক্ষ থেকে কালো টাকার ছড়াছড়ি চলছে। অস্বাভাবিক টাকা খরচ দৃশ্যমান হলেও সেখানে নির্বাচনী কর্মকর্তারা মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছেন। বরিশালে বিএনপির সমর্থকদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেয়া হচ্ছে। ধানের শীষের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলছে, মাইক ভাঙচুর করছে, সমর্থকদের মারধর করছে। খুলনা ও গাজীপুরে অনুসৃত নীতি বাস্তবায়ন করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এই ইসির অধীনে কখনওই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।


কোটা সংস্কার আন্দোলন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশ্যে যে কোনো ঘোষণা মানেই সেটি আইনের সমতুল্য এবং তা কার্যকর হতে হবে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা কোটা বাতিল চায়নি, তারা কোটা সংস্কার চেয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর গতকালের বক্তব্যে এটা এখন সুস্পষ্ট যে, তিনি ছাত্র আন্দোলনকে বিভ্রান্ত করতেই সেদিন প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিলেন। মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেদিন আমরা বলেছিলাম, কোটা বাতিলের ঘোষণা একটা ধাপ্পাবাজি। আন্দোলনে ছাত্র নেতাদেরকে ধোঁকা দেয়ার জন্যই দিনে প্রধানমন্ত্রী ম্যাকিয়াভেলি চাতুর্যের আশ্রয় নিয়েছিলেন। ঈদের পর আবারও ছাত্র আন্দোলন শুরু হলে প্রধানমন্ত্রী বেছে নিয়েছেন দমন-পীড়নের নিষ্ঠুর পথ।


সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে দলের যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 


Top