রূপপুর পারমাণবিক প্লান্টে জোরদার হবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি | daily-sun.com

রূপপুর পারমাণবিক প্লান্টে জোরদার হবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি

ডেইলি সান অনলাইন     ১৩ জুলাই, ২০১৮ ১৪:০১ টাprinter

রূপপুর পারমাণবিক প্লান্টে জোরদার হবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি

 

বাংলাদেশের রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরু করার পর রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ব পারমাণবিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান রোজাটম এখন সেখানে দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ কাজ শুরু করতে যাচ্ছে। খবর স্পুটনিক।


বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন স্পুটনিককে বলেন, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর উদ্বোধন করেন। এখন পর্যন্ত শিডিউল অনুযায়ী কাজ চলছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এর নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারবো বলে আমরা আশাবাদি। সম্পন্ন হওয়ার পর এটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই প্রকল্প দেশের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেবে। ’

 
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ শুরু হওয়ার পর ঈশ্বরদী এলাকার অবস্থা আমূল বদলে গেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। শুধু স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের জন্য কর্মসুযোগ সৃষ্টি করেছে এই প্রকল্প।


রূপপুর হাইস্কুলের হেডমাস্টার মোহাম্মদ শাজাহান আলী এই পত্রিকাকে বলেন, ‘ঈশ্বরদীর আশেপাশে যে উন্নয়ন কাজ চলছে তা আমরা অবাক চোখে দেখছি। বিশেষ করে আবাসিক এলাকার উন্নয়ন ঘটছে।

এ ধরণের চিত্তাকর্ষক কাঠামো আমরা শুধু টিভিতেই দেখেছি। আমাদের বাড়ির পাশে এমন একটি আধুনিক শহর গড়ে উঠতে দেখে আমরা গর্বিত। রূপপুর প্রকল্পে অনেক স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে, অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে।


রূপপুরের প্রথম প্রকল্পের কাজ চলছে এবং দ্বিতীয়টিরও লাইসেন্স দেয়া হছে। দুটি কেন্দ্র থেকে ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। শিডিউল অনুযায়ী প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক চুল্লির মূল নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


বাংলাদেশ আনবিক শক্তি কমিশন জানিয়েছে যে তারা কাজের অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট।


কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান এ আলি জুলকারনাইন এই পত্রিকাকে বলেন, ‘পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। এ ধরনের বড় একটি প্রকল্প দেশবাসীর ভাগ্য বদলে দিতে পারে। এই প্রকল্পের উন্নয়নে অনেক কোম্পানি জড়িত। এটি ব্যক্তি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্যও ব্যবসায়ের সুযোগ তৈরি করেছে। ’


অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জোরদারে বাংলাদেশ বেশ কিছু এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে আরো ৩,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা তৈরি হবে। রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র এই চাহিদা মেটাতে পারে।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ফিজিক্স সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক এম সৈয়দ বলেন, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের বেশিরভাগ এলাকার বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাবে। এর নির্মাণকাজও সময় মেনে এগিয়ে চলছে। বিদ্যুৎ ছাড়া শিল্প হবে না, প্রবৃদ্ধির হার বাড়বে না। পর্যাপ্ত বিদ্যুতের অভাবে দেশের পোশাক শিল্প ভুগছে। তাই যত দ্রুত সম্ভব আমাদের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করতে হবে এবং আরএনপিপি এই চাহিদা মেটাতে সহায়ক হবে। ’


রোজাটম বাংলাদেশকে দুটি ১,২০০ মেগাওয়াট ভিভিইআর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সরবরাহ করছে। ২০২৩ সালে প্রথমটি বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।


এই কেন্দ্র নির্মাণে সহযোগিতার ব্যাপারে বাংলাদেশ ও রাশিয়া সরকার ২০১১ সালের ২ নভেম্বর চুক্তি সই করে। বিদেশের কাছে বিদ্যুৎকেন্দ্র সরবরাহ সংখ্যার দিক দিয়ে রোজাটম বিশ্বে শীর্ষে।


- সূত্র: স্পুটনিক অবলম্বনে সাউথ এশিয়ান মনিটর ডট কম

 


Top