হঠাৎ বাড়ি থেকে উচ্ছেদ টলিউড অভিনেতা | daily-sun.com

হঠাৎ বাড়ি থেকে উচ্ছেদ টলিউড অভিনেতা

ডেইলি সান অনলাইন     ১১ জুলাই, ২০১৮ ১১:১৮ টাprinter

হঠাৎ বাড়ি থেকে উচ্ছেদ টলিউড অভিনেতা

২৬ বছরের সংসার এক মুহূর্তে তছনছ। মাত্র দু’ঘণ্টার নোটিসে, সপরিবারে সল্টলেকের ফ্ল্যাটটি খালি করে দিতে হল, কারণ দোরগোড়ায় তখন পুলিশ ফোর্স, উকিল এবং আদালতের এক কর্মী। গত ৬ জুলাই সকালে এমনটাই ঘটে বাংলা টেলিভিশন ও ছবির জনপ্রিয় অভিনেতা সৈকত দাসের সঙ্গে। সৈকত জানালেন, ‘‘আমরা এই বাড়িতে গত ২৬ বছর রয়েছি। আমার বাবা এটা লিজ-হোল্ড পদ্ধতিতে কিনেছিলেন। যে ভদ্রলোকের থেকে এটা কেনা, তিনি এখন আর বেঁচে নেই। হঠাৎই ৬ জুলাই সকাল এগারোটায় আমরা জানতে পারলাম যে সেই ভদ্রলোকের দ্বিতীয় স্ত্রীর নামে এই ফ্ল্যাটটি। আমরা তখনই শুনলাম যে সেই ভদ্রমহিলা নাকি আমাদের নামে মামলা করেছেন ২০১৬ সালে এবং সেই মামলার কোনও সমন আমরা নাকি এতদিন অ্যাকসেপ্ট করিনি। তাই এই মুহূর্তেই আমাদের ফ্ল্য়াট খালি করতে হবে। ’’

 

সল্টলেক সিটি সেন্টারের কাছে ওই ফ্ল্যাটটি তার পরে দু’ঘণ্টার মধ্যে খালি করে দিতে হয় বলে অভিযোগ সৈকতের। তিনি, তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও বাবা-মায়ের সঙ্গে ফুটপাথে এসে দাঁড়ান, এমনটাই জানিয়েছেন এবেলা ওয়েবসাইটকে।

পরিবারের সবাইকে নিয়ে আপাতত সৈকত আশ্রয় নিয়েছেন তাঁর শ্বশুরবাড়িতে। সৈকত বললেন, ‘‘আমি স্থানীয় কাউন্সিলরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম কিন্তু তিনি জানান, যেহেতু এটি আদালতের বিষয়, তাই তিনি এই ব্যাপারে কিছু করতে পারবেন না’’।  শুধু কাউন্সিলর নয়, প্রতিবেশীদেরও কাউকে পাশে পাননি ওই মুহূর্তে এমনটাই জানিয়েছেন সৈকত।

 

গত ৮ জুলাই সম্পূর্ণ ঘটনাটি জানিয়ে তিনি ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন। সেই পোস্টে তিনি এর পিছনে বিরাট বড় একটি দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি এটাও লিখেছেন যে এর পরেও আইনের প্রতি তাঁর আস্থা রয়েছে এবং তিনি এই নিয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। ঘটনাটি নিয়ে অত্যন্ত বিচলিত টলিউডের বহু অভিনেতা-অভিনেত্রীও। ‘‘আমি আর্টিস্ট ফোরামের কাছে আবেদন করেছি। রাহুলদাকেও (অভিনেতা রাহুল চক্রবর্তী) অনুরোধ করেছি যদি বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আনা যায়,’’ জানালেন সৈকত, ‘‘দশ বছরেরও বেশি এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছি। আমার শুভাকাঙ্ক্ষী-বন্ধুরা সবাই আমার পাশে রয়েছেন, সেটাই আমার বড় ভরসার জায়গা। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল, আমার মা-বাবা অত্যন্ত শকড।  সদ্য আমার মাকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে এনেছি, তিনি আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আমার ছেলের এখনও ট্রমা কাটেনি। ’’

 

আকস্মিক এই ঘটনায় বেশ খানিকটা সম্পত্তিক্ষয়ও হয়েছে বলে ফেসবুকে জানিয়েছেন সৈকত। বেশ কিছু মূল্যবান জিনিসপত্র, গয়না এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ইতিমধ্যেই সৈকতের পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। সৈকতের বক্তব্য,‘‘আমাদের কাছে ফ্ল্যাটটি আইনসম্মত ভাবে কেনার সব কাগজপত্রই রয়েছে। তার পরেও কীভাবে এই পরিস্থিতিতে পড়লাম সেটা ভাবতেই আশ্চর্য লাগছে!’’

 

 

 

 


Top