বাকি ৫ ক্ষুদে ফুটবলারের উদ্ধার প্রক্রিয়া শুরু | daily-sun.com

বাকি ৫ ক্ষুদে ফুটবলারের উদ্ধার প্রক্রিয়া শুরু

ডেইলি সান অনলাইন     ১০ জুলাই, ২০১৮ ১১:৪৪ টাprinter

বাকি ৫ ক্ষুদে ফুটবলারের উদ্ধার প্রক্রিয়া শুরু

 

থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলের থ্যাম লুয়াং গুহায় দুই সপ্তাহ ধরে আটকা থাকা ক্ষুদে ফুটবলারদের মধ্যে থেকে দুই দিনে ৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ক্ষুদে ফুটবল দলের বাকি চারজন এবং তাদের কোচকে উদ্ধারে ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান সমাপ্ত করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন ডুবুরিরা। গত ২৩ জুন থেকে গুহাটিতে ১২ কিশোর এবং তাদের কোচ আটকা পড়ে ছিলেন।


রবিবার (৮ জুলাই) কিশোর ফুটবল দলের ১২ সদস্য এবং তাদের কোচকে উদ্ধারে প্রথম অভিযান শুরু হয়। দু’দিনের অভিযানে মোট আট কিশোরকে উদ্ধার করা হয়। সোমবার গুহার ভেতর থেকে চার কিশোরকে বের করে আনার পর দ্বিতীয় দিনের মতো উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়। গুহার প্রবেশপথ থেকে চার কিলোমিটার দূরে আটকা রয়েছে শেষ চার কিশোর ও তাদের কোচ একাপল চ্যান্তাওং।


ওই চার কিশোর এবং তাদের কোচের শারীরিক অবস্থা ভালো আছে বলে জানানো হয়েছে। তারা দীর্ঘ প্রায় ৪ কিলোমিটার সংকীর্ণ ও উঁচু-নিচু জলমগ্ন পথ পাড়ি দিতে প্রস্তুত আছে।

 

যেভাবে উদ্ধার করা হচ্ছে


ওই কিশোর দলটি গুহায় আটকা পড়ার পর থেকেই তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি কাড়ে। বিভিন্ন দেশে থেকে অভিজ্ঞ ডুবুরিরা উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন।

ব্রিটিশ ডুবুরি ও মার্কিন বিমান বাহিনীর সদস্যরা, অস্ট্রেলিয়ার চিকিৎসক পানির নিচে কাজ করতে পারা রোবট এবং বেলজিয়ামের এক নাগরিকও উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে অভিযানে যুক্ত হয়েছেন।

 

গুহার ভেতরে নিখোঁজ হওয়ার দশদিন পর ওই ১২ কিশোর এবং তাদের কোচের সন্ধান পান ডুবুরিরা। যে আটজন কিশোরকে এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে তাদের জনসম্মুখে আনা হয়নি। তবে তারা শারীরিক অবস্থা ভালো আছে বলে জানানো হয়েছে। সোমবার যে চারজনকে উদ্ধার করা হয়েছে তাদের নিকটবর্তী চিয়াং রাই শহরের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


রবিবার যে চারজনকে উদ্ধার করা হয়েছে তাদেরও হাসপাতালে রাখা হয়েছে। তারা এখনও তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে পারেনি। থাই কর্তৃপক্ষ বলছে, উদ্ধার হওয়া কিশোরদের জাওভাত খেতে দেয়া হচ্ছে। দশদিন ধরে না খেয়ে থাকার কারণে তাদের এখন ভারী খাবার দেয়া হচ্ছে না।


এদিকে যে গুহাটিতে ওই কিশোর ফুটবলার ও তাদের কোচ হারিয়ে আটকা পড়েছে সেটি নিয়ে অনেক লোক-কাহিনী রয়েছে। স্থানীয় লোকজনের মুখে মুখে যেসব কাহিনী চালু রয়েছে তার মধ্যে একটি হচ্ছে; এর নাম কীভাবে 'থাম লুয়াং- খুন নাম নাং নন' হলো?

 
'থাম লুয়াং- খুন নাম নাং নন' অর্থ হলো - "পাহাড়ের ভেতরে বিশাল এই গুহায় ঘুমিয়ে আছেন একজন নারী। এই পাহাড়েই জন্ম হয়েছে এক নদীর। "

 


গল্পটিতে বলা হয়েছে যে দক্ষিণ চীনের চিয়াং রুং শহরের এক রাজকন্যা একজন অশ্বারোহী পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কের পর গর্ভবতী হয়ে পড়েন। তারা তখন সমাজের ভয়ে ভীত হয়ে শহর থেকে পালিয়ে দক্ষিণের দিকে চলে আসেন।

 

যখন তারা এই পাহাড়ি এলাকায় এসে পৌঁছান তখন রাজকন্যার স্বামী তাকে বলেন সেখানে বিশ্রাম নিতে। স্বামী তখন খাবারের সন্ধানে বের হয়ে যান। তখন রাজকন্যার পিতার লোকেরা তাকে দেখতে পায় এবং তাকে হত্যা করে।


রাজকন্যা সেখানে কয়েকদিন অবস্থান করে তার স্বামীর জন্যে অপেক্ষা করতে থাকে। তিনি যখন নিশ্চিত হন যে তার স্বামী আর ফিরে আসবে না। তিনি তখন নিজের চুলের একটি ক্লিপ নিজের পেটের ভেতরে ঢুকিয়ে আত্মহত্যা করেন।


তারপর তার মৃতদেহ তখন একটি পর্বতে পরিণত হয় এবং তার শরীর থেকে যে রক্ত ঝরেছিল সেটা প্রবাহিত হয়ে 'নাম মায়ে সাই' নামের এক নদীর জন্ম হয়।

 
ওই রাজকন্যা ভৌতিক নারী হিসেবে গুহাটিতে অবস্থান করছেন বলে লোক-কাহিনীতে উল্লেখ করা হয়।

 

 

 

 

 


Top