ম্যারাডোনার বর্ণবাদী মন্তব্য | daily-sun.com

ম্যারাডোনার বর্ণবাদী মন্তব্য

ডেইলি সান অনলাইন     ৯ জুলাই, ২০১৮ ১৬:৩৩ টাprinter

ম্যারাডোনার বর্ণবাদী মন্তব্য

আর্জন্টিনার ফুটবল ঈশ্বর দিয়াগো ম্যারাডোনা উচিত কথার জন্য বিখ্যাত। কাউকে ছেড়ে কথা বলেন না। তবে মাঝে মধ্যে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। হয়তো অধিক নেশার কারণেই। তখন তার খেয়াল থাকে না যে, মুখ দিয়ে কী শব্দ বেরুচ্ছে! কয়দিন আগেই বিশ্বকাপের মাঝেই স্টেডিয়ামে বর্ণবাদী আচরণ করেন। এবার ইউরোপের কালো ফুটবলারদের নিয়ে তিনি যা মন্তব্য করেছেন, সেটা নিন্দার যোগ্য!

 

ল্যাটিন আমেরিকা এবং আফ্রিকার দেশগুলো রাশিয়া বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ায় আসরটি এখন হয়ে গেছে 'ইউরো কাপ'। মানে সেমিফাইনালের চারটি দলই ইউরোপের। কিন্তু, ৩টি দলেই আছে বেশ কিছু আফ্রিকান বংশোদ্ভুত খেলোয়াড়। ফ্রান্সের যেমন এমবাপে, পগবা, বেলজিয়ামের লুকাকুর মতো তারকারা সবাই আফ্রিকান বংশোদ্ভুত। আরও স্পষ্ট করে বললেন, ফ্রান্সের ২৩ সদস্যের ১৪ জনই আফ্রিকান বংশোদ্ভূত; আর ইংল্যান্ড ও বেলজিয়ামেও আছে ৪৮ শতাংশ!

 

এই পরিসংখ্যানই খেপিয়ে দিয়েছে ৮৬'র বিশ্বকাপজয়ী ম্যারাডোনাকে। তিনি বেশ রেগেমেগে বলেছেন, 'আফ্রিকান খেলোয়াড়দের নাগরিকত্বের লোভ দেখিয়ে ইউরোপে নিয়ে যাওয়া হয়।

আর এতে খেলোয়াড়েরাও সম্মত হয়। কারণ তারা উন্নত জীবন যাপনের সুযোগ পায়। সঙ্গে পেয়ে যায় নিজেদের প্রমাণের সুযোগ ও দিনে চার বেলার খাবারের নিশ্চয়তা। '

 

বলা বাহুল্য যে, ম্যারাডোনার এমন মন্তব্যে ঝড় উঠেছে ফুটবল বিশ্বে। উন্নত জীবনের খোঁজে শুধু আফ্রিকা নয়; সারা বিশ্ব থেকেই মানুষ ইউরোপের দিকে ছুটছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে জঙ্গিদের হামলা থেকে বাঁচতে শরণার্থীরা ছুটে যায়। এক ফ্রান্স দলেই আলজেরিয়া, ক্যামেরুন, কঙ্গো, সেনেগাল, নাইজেরিয়ার বংশোদ্ভুত খেলোয়াড় আছে। তাদের পরিবার যুগের পর যুগ ইউরোপে থেকে আসছে। সেখানকার নাগরিক হিসেবেই পরিচয় দেয়। কিন্তু ম্যারাডোনা তাদের সেই পুরনো ক্ষতে আবারও আঘাত করে ফেললেন!

 


Top