রোহিঙ্গাদের জন্য মাত্র ২৬ শতাংশ তহবিল এসেছে জাতিসংঘের জেআরপি থেকে: ইয়াংহি লি | daily-sun.com

রোহিঙ্গাদের জন্য মাত্র ২৬ শতাংশ তহবিল এসেছে জাতিসংঘের জেআরপি থেকে: ইয়াংহি লি

ডেইলি সান অনলাইন     ৯ জুলাই, ২০১৮ ১২:৩২ টাprinter

রোহিঙ্গাদের জন্য মাত্র ২৬ শতাংশ তহবিল এসেছে জাতিসংঘের জেআরপি থেকে: ইয়াংহি লি

 

রোহিঙ্গাদের নিয়ে গঠিত জাতিসংঘের জয়েন্ট রেসপন্স বা যৗথ সাড়া দান কর্মসূচি (জেআরপি) থেকে মাত্র ২৬ শতাংশ তহবিল এসেছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত প্রফেসর ইয়াংহি লি। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনে রাখা উচিত, কক্সবাজারের স্থানীয়রা তাদের সীমিত সম্পদ রোহিঙ্গাদের সঙ্গে শেয়ার করছেন।

তাই দাতাদের দ্রুত অর্থ ছাড় দেয়া উচিত। কক্সবাজারের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প সফর শেষে রবিবার (৮ জুলাই) রাজধানীর স্থানীয় একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রফেসর ইয়াংহি লি।


তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নিয়ে সংকট ক্রমেই বাড়ছে। জাতিসংঘের সঙ্গে চুক্তির পরও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার সরকার কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এ অবস্থায় তাদের জন্য জরুরি আরও অর্থ সহায়তার প্রয়োজন। এক্ষেত্রে দাতা সংস্থাগুলোকে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিয়ে অর্থ ছাড় করতে হবে।


ইয়াংহি লি বলেন, বর্তমানে রোহিঙ্গাদের জন্য তিনটি বিষয় জরুরি। এগুলো হল- প্রাথমিক শিক্ষা, জীবিকা নির্বাহের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে দেশে ফেরত পাঠানো।


গত ১ সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশে সফরে আছেন জাতিসংঘের এই বিশেষ দূত।

এ সময়ে তিনি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনসহ বাংলাদেশের সরকারের বিভিন্ন প্রতিনিধি, দাতা সংস্থা এবং এনজিওদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।  


তিনি বলেন, মিয়ানমার সরকার এখনও অত্যাচার-নির্যাতন অব্যাহত রেখেছে। বিষয়টি নিয়ে মিয়ানমার যেতে চেয়েছিলাম কিন্তু দেশটির সরকার অনুমতি দেয়নি। তিনি বলেন, মিয়ানমার সরকার শুরু থেকে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করে আসছে। এখনও সেটি অব্যাহত রেখেছে। এক্ষেত্রে তারা মানবাধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সব ধরনের আইন লঙ্ঘন করে আসছে।


সম্প্রতি মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসেছে এমন কয়েকজন রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলার বরাত দিয়ে ইয়াংহি লি বলেন, তারা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদের গ্রামে ঢুকে তাদের ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কার্ড গ্রহণ করতে বলেছেন, অন্যথায় দেশ থেকে চলে যেতে হবে বলে জানিয়েছেন। ইয়াংহি লি জানান একজন রোহিঙ্গা নারী তদের বলেছেন, ‘তার ১২ বছরের ছেলেকে মিয়ানমার বাহিনীর সদস্যরা কেটে টুকরো টুকরো করেছে। ’


প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ শুরুর পর সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলমান পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তারা কক্সবাজার ও বান্দরবানের ৩২টি শরণার্থী শিবিরে বাস করছে। সম্প্রতি শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক সার-সংক্ষেপে বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্র্রেশন সম্পূর্ণ হয়েছে ১০ লাখ ৯৭ হাজার ৭৭১ জন রোহিঙ্গার। এদের মধ্যে পুরুষ হচ্ছে ৪৮ শতাংশ এবং মহিলা ৫২ শতাংশ। এছাড়া শিশু রয়েছে ৫৫ শতাংশ, এতিমের সংখ্যা ৩৬ হাজার ৩৭৩ জন, এর মধ্যে ৭ হাজার ৭৭১ জন তাদের বাবা-মাকে হারিয়ে ফেলেছে। ১৮ হাজার মহিলা রয়েছেন গর্ভবতী, এরই মধ্যে শিশুর জন্ম হয়েছে ২৯ হাজার ২৮৯টি। এতে আরও বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের কারণে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের মধ্যে স্থানীয় হাজারও কৃষক তাদের জমির ধান থেকে কোনো ফসল পাননি। অনেকেই তাদের জমি হারিয়েছেন।

 
এছাড়া ইতিমধ্যেই প্রায় ৫ হাজার ৮০০ হেক্টর সংরক্ষিত বন কেটে তৈরি হয়েছে রোহিঙ্গাদের ঘর। এছাড়া রোহিঙ্গাদের জ্বালানির চাহিদা পূরণে প্রতিনিয়ত বনের গাছ কাটা হচ্ছে।


সাড়ে ৪ হাজার একর জায়গার মধ্যে ৩৫ হাজার পায়খানা এবং ৭ হাজার টিউবওয়েল বসানো হয়েছে। ফলে উখিয়ার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার হুমকিতে রয়েছে। এ কারণে পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। হাতির বিচরণ ক্ষেত্র ও করিডরে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে তাদের খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে।

 


Top