নারী আসনের মেয়াদ ২৫ বছর বাড়িয়ে সংবিধান সংশোধন | daily-sun.com

নারী আসনের মেয়াদ ২৫ বছর বাড়িয়ে সংবিধান সংশোধন

ডেইলি সান অনলাইন     ৮ জুলাই, ২০১৮ ২০:০৪ টাprinter

নারী আসনের মেয়াদ ২৫ বছর বাড়িয়ে সংবিধান সংশোধন

 

জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের বিধান আরও ২৫ বছর বাড়িয়ে সংসদে ‘সংবিধান (সপ্তদশ সংশোধন) বিল-২০১৮’ পাস হয়েছে। রবিবার (৮ জুলাই) বিকালে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশকৃত আকারে বিলটি পাস করার প্রস্তাব করেন।

বিলের ওপর প্রায় দুই ঘণ্টা আলোচনা শেষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বিরোধীদলীয় সদস্যরা বিলটিকে সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করলেও আইনমন্ত্রী তা নাকচ করে দেন।

 
এছাড়া ২৫ বছরের জন্য বিলটি পাস করার বিরোধিতা করেন বিরোধী দলের সদস্যরা। পরে প্রক্রিয়া শেষে সংবিধান সংশোধন করা সংক্রান্ত বিলটি পাস হয়।


এসময় সংসদের সভাপতিত্বে ছিলেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, জাতীয় পার্টির প্রেসিডেন্ট হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদসহ অধিকাংশ এমপি সংসদে উপস্থিত ছিলেন।


এরআগে পর্যায়ক্রমে সংবিধানের ৬৫(৩) অনুচ্ছেদ আরও চারবার সংশোধনীর মাধ্যমে নারী আসনের মেয়াদ ও সংখ্যা বাড়ানো হয়। চলতি সংসদের মেয়াদান্তে এই বিধান অব্যাহত রাখতে এই সংশোধনী বিল পাস করা হয়।


বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যমান নারী আসনের মেয়াদ শেষ হবে।

ফলে সপ্তদশ সংবিধান সংশোধনী বিল পাস হওয়ায় পরবর্তী সংসদ থেকে তার মেয়াদ ২৫ বছর হবে।


বিলের সংশোধনীর পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়ে ২৯৮টি এবং বিলের বিপক্ষে কোনো ‘না’ ভোট পড়েনি। ফলে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশকৃত আকারে বিলটি পাস হয়। এর আগে সংশোধনীসমূহের ওপর হ্যাঁ ভোট পড়ে ২৯৫টি।


বিলে বলা হয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদের (৩) দফার পরিবর্তে নিম্নরূপ (৩) দফা প্রতিস্থাপিত হবে। ‘(৩) সংবিধান (সপ্তদশ সংশোধনী) আইন, ২০১৮ প্রবর্তনকালে বিদ্যমান সংসদের অব্যাবহতি পরবর্তী সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে শুরু করিয়া ২৫ বৎসরকাল অতিবাহিত হইবার অব্যাবহিত পরবর্তীকালে সংসদ ভাঙ্গিয়া না যাওয়া পর্যন্ত পঞ্চাশটি আসন কেবল মহিলা-সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত থাকিবে এবং তাহারা আইনানুয়ায়ী পূর্বোক্ত সদস্যদের দ্বারা সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির ভিত্তিতে একক হস্তান্তযোগ্য ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হইবেন। তবে শর্ত থাকে যে এই দফার কোন কিছুই এই অনুচ্ছেদের (২) দফার অধীন কোন আসনে কোন মহিলার নির্বাচন নিবৃত্ত করিবে না। ’


বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় আইন প্রণয়নে মহিলাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে তদানীন্তন গণপরিষদ কৃর্তক প্রণীত ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের ৬৫(৩) অনুচ্ছেদ এর বিধানে জাতীয় সংসদে মহিলা সদস্যদের জন্য সংবিধান প্রবর্তনের সময় হতে পরবর্তী দশ বছরের মেয়াদে ১৫টি নারী আসন সংরক্ষিত রাখার বিধান যুক্ত হয়।


পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালে ১৫ বছরের জন্য সংসদে মহিলা সদস্যদের আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৩০ করা হয়। ১৯৯০ সালে সংবিধানের দশম সংশোধনীর মাধ্যমে আরও দশ বছরের জন্য ৩০ জন মহিলা সদস্যদের আসন সংরক্ষণ করা হয়। ২০০৪ সালে চতুর্দশ সংশোধনীর মাধ্যমে আরও দশ বছরের জন্য আইনটি অব্যাহত রাখা হয় এবং মহিলা সদস্যদের আসন বাড়িয়ে ৪৫ জন করা হয়।


২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে পরবর্তী দশ বছরের জন্য আইনটি অব্যাহত রাখা হয় এবং মহিলা সদস্যদের আসন বাড়িয়ে ৫০ করা হয়। সে অনুযায়ী ৩৫০ জন সংসদ সদস্য নিয়ে জাতীয় সংসদ গঠিত হয়। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংখ্যানুপাতে (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের হার পদ্ধতিতে) সংসদের সংরক্ষিত আসন বণ্টন হয়। সর্বশেষ এই বিধানের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারি। সে কারণেই সংসদে নারী আসন ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে এই সংশোধনী আনা হয়।


সর্বশেষ ২০১৬ সালে সংবিধানের সর্বশেষ সংশোধন হয়েছিল। ওই সংশোধনে উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালত ওই সংশোধনী অবৈধ বলে রায় দেয়।

 


Top