দক্ষিণ কোরিয়ায় কুকুর হত্যা অবৈধ ঘোষণা | daily-sun.com

দক্ষিণ কোরিয়ায় কুকুর হত্যা অবৈধ ঘোষণা

ডেইলি সান অনলাইন     ৮ জুলাই, ২০১৮ ১৪:১৫ টাprinter

দক্ষিণ কোরিয়ায় কুকুর হত্যা অবৈধ ঘোষণা

কুকুরের মাংস খাওয়া ও বিক্রির জন্য দক্ষিণ কোরিয়ায় কুকুর হত্যা অবৈধ ঘোষণা করেছে। প্রথমবারের মতো এমনে একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির একটি আদালত।

 

দক্ষিণ কোরিয়ার আদালতটির রায় গঠন করা হয়েছিল চলতি বছরের এপ্রিলে। কিন্তু রায়ের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়েছে জুনের শেষে। অ্যানিম্যাল রাইটস অ্যাকটিভিস্ট সংগঠন কো-এক্সিসটেন্স অব অ্যানিম্যাল রাইটস অন আর্থ (কেয়ার) কুকুর হত্যার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ গঠন করে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে কুকুর হত্যা নিষিদ্ধের রায় দেয় আদালত।

 

ওয়াশিংটন ডিসির অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার ইনস্টিটিউট বলছে, দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রত্যেক বছর প্রায় ২০ লাখ কুকুর হত্যা করা হয়। এছাড়া ১ লাখ মেট্রিক টন কুকুরের মাংস খাওয়া হয়।

 

এতদিন যারা কুকুরের মাংস খাওয়ার পক্ষে ছিলেন না, তাদের জন্য এ রায় আপাতপক্ষে একরকম বিজয় এনে দিয়েছে। তবে দুঃখের বিষয় এই যে বাস্তবে আদালতের রায়টি এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।

 

দ্য হিউম্যান সোসাইটি ইন্টারন্যাশনাল নামে আর একটি সংস্থা বলছে, বিশ্বে মাংসের জন্য প্রত্যেক বছর তিন কোটি কুকুর হত্যা করা হয়।

তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে এ চর্চা অনেকদিন ধরে চলে আসছে।

 

আদালতের রায়ে আরও বলা হয়, ওই ফার্মের মালিক বিল্ডিং ও স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করেছে। দক্ষিণ কোরিয়া সরকার কুকুরের মাংসের জন্য কোনো ফার্ম অনুমোদন দেয় না। ফার্মের মালিককে দুই লাখ ২৬ হাজার টাকা জরিমানা করেন আদালত। এছাড়াও তার আপিল আবেদনের অধিকার খারিজ করে দেওয়া হয়।

 

তবে দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রজন্ম কুকুরের মাংস খাওয়া ও হত্যার বিরুদ্ধে অবস্থান করছেন। তারা কুকুরকে পোষা প্রাণী হিসেবে দেখতেই ভালোবাসেন। এক মতামত জরিপে দেখা যায়, দক্ষিণ কোরিয়ার ৬০ শতাংশ মানুষ কখনো কুকুরের মাংস খায়নি। ৫৭ শতাংশ মানুষ কুকুর বাণিজ্যের বিরোধিতা করেন আর ৪৬ শতাংশ মানুষ কুকুরের মাংস খাওয়া নিষিদ্ধের পক্ষে মত দেন। দক্ষিণ কোরিয়ার মোট জনসংখ্যার অর্ধেক মানুষ মনে করেন, দীর্ঘদিনের এ চর্চা বন্ধ করা উচিত।

 

তবে কুকুরের খামার ও কসাইখানার মালিকরা আদালতের এ রায়ের বিরোধিতা করছেন। তারা সরকারের কাছে কুকুরের মাংস খাওয়ার বৈধতা দাবি করছেন। এছাড়াও কসাইখানাগুলোর লাইসেন্সের দাবিও জানিয়েছেন তারা।


Top