ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস, তলিয়ে যেতে পারে ক্ষুদে ফুটবলারদের সেই গুহা | daily-sun.com

ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস, তলিয়ে যেতে পারে ক্ষুদে ফুটবলারদের সেই গুহা

ডেইলি সান অনলাইন     ৭ জুলাই, ২০১৮ ১৬:৪৩ টাprinter

ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস, তলিয়ে যেতে পারে ক্ষুদে ফুটবলারদের সেই গুহা

 

আগামী কয়েকদিনে তীব্র বৃষ্টিপাত পূর্বাভাস দিয়েছে থাইল্যান্ডের আবহাওয়া বিভাগ। এতে দেশটির উত্তরাঞ্চলের চিয়াং রাই প্রদেশের গুহায় আটকে পড়া ক্ষুদে ফুটবলারদের উদ্ধারে হাতে সময় রয়েছে মাত্র তিন থেকে চারদিন। উদ্ধার অভিযানের ঝুঁকি বিবেচনা করে এ সময়ের মধ্যে কিশোরদের বাইরে নিয়ে আসার পথে যতদ্রুত সম্ভব এগোতে হবে বলে জানিয়েছেন উদ্ধার মিশনের প্রধান।


এদিকে শনিবার গুহার পাশে এক সংবাদ সম্মেলনে চিয়াং রাই প্রদেশের গভর্নর ন্যারংস্যাক ওসোত্তানাকর্ন বলেছেন, ‘গুহার ভেতরে ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার দূরে কিশোররা যে স্থানে আটকা রয়েছে, বৃষ্টি থাকা সত্ত্বেও সেই স্থানের ও উদ্ধারপথের আশপাশের পানি নিষ্কাশন অত্যন্ত সফল হয়েছে। তবে আজও বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী কয়েকদিন তীব্র বৃষ্টিপাত হতে পারে। আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকে বর্ষণ তীব্র হওয়ার আগে ১২ কিশোর ফুটবলার ও তাদের কোচকে উদ্ধারে হাতে অল্প কয়েকদিন রয়েছে।


তিনি বলেন, একটি কর্মপরিকল্পনা ব্যবহার করে উদ্ধার অভিযানের জন্য আগামী তিন থেকে চারদিন হচ্ছে উপযুক্ত সময়।   তিনি আরও বলেন, আমরা যদি বেশি দেরি করে ফেলি, তাহলেও আমরা জানি না কেমন বৃষ্টিপাত হবে।


ন্যারংস্যাক বলেন, ‘গত সপ্তাহে ভারী বর্ষণের কারণে গুহার ভেতরে সকীর্ণ ও অসমতল স্থানগুলোতে সুনামি তৈরি হয়েছিল। গত ২৩ জুন থেকে থাইল্যান্ডের থ্যাম লুয়াং গুহায় আটকা রয়েছে স্থানীয় কিশোর ফুটবল দলের ১২ সদস্য ও তাদের কোচ।

 


শুক্রবার তিনি বলেছিলেন, গুহার ভেতরে অক্সিজেনের মাত্রা ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে; যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। গুহার ভেতরে অক্সিজেনের মাত্রা ২১ শতাংশ থাকলে সেটিকে স্বাস্থ্যের জন্য স্বাভাবিক হিসেবে ধরা হয়।


গভর্নর ন্যারংস্যাক ওসোত্তানাকর্ন বলেন, গুহায় অক্সিজেনের মাত্রা যদি ১২ শতাংশের নিচে নেমে আসে তাহলে কিশোরদের মস্তিষ্কের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে। এতে তারা আতঙ্কগ্রস্ত হতে পারে।


অতিরিক্ত বিপদ হচ্ছে, উদ্ধার কাজে নিয়োজিত শত শত উদ্ধারকারীর শ্বাসত্যাগের কারণে গুহার ভেতরে কার্বন মনো অক্সাইডের পরিমাণ বাড়ছে। আমাদের কাছে যত পরিমাণেই অক্সিজেন থাকুক না কেন, আমরা বাঁচতে পারবো না (অতিরিক্ত কার্বন মনো অক্সাইডে)। কারণ আমাদের রক্ত বিষাক্ত হয়ে যাবে।


ওসোত্তানাকর্ন বলেন, ‘আমি যতটুকু জেনেছি, পানির স্তর সেখানে পৌঁছাতে পারে। এর ফলে তারা যে জায়গায় বসে রয়েছে সেটির আয়তন কমে মাত্র ১০ বর্গমিটার হতে পারে। ’


আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী ভারী বর্ষণ শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত পানির স্তর কমিয়ে আনার কাজ করছেন উদ্ধারকারীরা। কিশোরদের বের করে আনার জন্য উপযুক্ত সময় হচ্ছে পানির স্তর একেবারে শূন্যে নেমে আসা। কিন্তু এটি অসম্ভব, কারণ পানির স্তর শূন্যে নেমে আসবে ডিসেম্বর অথবা জানুয়ারিতে।

 


‘সুতরাং আমরা সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারি না। দ্বিতীয় সর্বোত্তম উপায় হচ্ছে তাদের বের করে আনার জন্য পানির স্তর যথাযথ পর্যায়ে নামিয়ে আনা। তিনি বলেন, পানি বৃদ্ধি এবং বাতাসের অক্সিজেনের ঝুঁকি বিবেচনা করে আমরা যে কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো।


ওসোত্তানাকর্ন বলেন, আজও শিশুরা সুস্থ আছে। তারা কথা বলছে, মজা করছে। তবে তাদের সামান্য কিছু জখম রয়েছে। তারা এখন পর্যন্ত সঠিক খাবার পায়নি; তবে তাদের অতিরিক্ত প্রোটিনযুক্ত বিশেষ খাবার দেয়া হয়েছে।


- সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

 


Top