রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে আসছেন জাতিসংঘ ও কানাডার বিশেষ দূত | daily-sun.com

রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে আসছেন জাতিসংঘ ও কানাডার বিশেষ দূত

ডেইলি সান অনলাইন     ৭ জুলাই, ২০১৮ ১৩:৫৬ টাprinter

রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে আসছেন জাতিসংঘ ও কানাডার বিশেষ দূত

 

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের বাস্তব অবস্থা দেখতে এবার আসছেন মিয়ানমারে নিয়োজিত জাতিসংঘের বিশেষ দূত ক্রিস্টিন স্ক্রানার বার্গেনার ও কানাডার বিশেষ দূত বব রে। চলতি সপ্তাহে তারা বাংলাদেশ সফরে আসবেন বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।


 সূত্রটি জানায়, রবিবার (৮ জুলাই) সকালে দুই দিনের সফরে বাংলাদেশে আসবেন বব রে। অন্যদিকে আগামী ১২ জুলাই তিন দিনের সফরে বার্গেনারের আসার কথা রয়েছে।


তারা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা করবেন ও কক্সবাজারে রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবির পরিদর্শনে যাবেন।

 
এদের মধ্যে বব রে ঢাকায় আসার পরই রোহিঙ্গাদের দুর্দশা স্বচক্ষে দেখতে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।


কানাডার এই বিশেষ দূত গত বছরের নভেম্বরে প্রথম বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন। চলতি বছরের মে মাসে দ্বিতীয় সফর করেন। এটা হবে বাংলাদেশে তার তৃতীয় সফর।


গত বছরের অক্টোবরে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো মিয়ানমারের বিশেষ দূত হিসেবে বব রে-কে নিয়োগ দেন। এর পর থেকে রাখাইন রাজ্যের সংকট নিরসনে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।


এদিকে গত ২৬ এপ্রিল জাতিসংঘের বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর ১২ জুলাই প্রথম বাংলাদেশে সফর করবেন বার্গেনার।

 


গত মাসে তিনি মিয়ানমার সফরে যান। সেখানে তিনি রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা অধ্যুসিত মংডুতে গিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করেন। নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গাদের ফেলে আসা গ্রামগুলোও তিনি স্বচক্ষে দেখে এসেছেন।


ঢাকায় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। তিনি কক্সবাজারের গিয়ে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন ও আশ্রয় শিবির পরিদর্শনে যাবেন।

 
রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে জাতিসংঘ ও মিয়ানমারের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে কাজ করছেন বার্গেনার। নৃতাত্ত্বিক ও ধর্মীয়ভাবে বিভক্ত রাজ্যটিতে বিভেদ নিরসনেও তিনি সহায়তা করছেন। এছাড়াও মিয়ানমারে শান্তি ফিরিয়ে আনতে চেষ্টায় সহায়তা করছেন বার্গেনার।

 

এদিকে ১২ জুলাই তারিখেই আসছেন মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ সাবু। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু শিবিরে মালয়েশিয়ার অর্থায়নে পরিচালিত ফিল্ড হসপিটাল পরিদর্শনে আসছেন তিনি।  

 


প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ শুরুর পর সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলমান পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তারা কক্সবাজার ও বান্দরবানের ৩২টি শরণার্থী শিবিরে বাস করছে। সম্প্রতি শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক সার-সংক্ষেপে বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্র্রেশন সম্পূর্ণ হয়েছে ১০ লাখ ৯৭ হাজার ৭৭১ জন রোহিঙ্গার। এদের মধ্যে পুরুষ হচ্ছে ৪৮ শতাংশ এবং মহিলা ৫২ শতাংশ। এছাড়া শিশু রয়েছে ৫৫ শতাংশ, এতিমের সংখ্যা ৩৬ হাজার ৩৭৩ জন, এর মধ্যে ৭ হাজার ৭৭১ জন তাদের বাবা-মাকে হারিয়ে ফেলেছে। ১৮ হাজার মহিলা রয়েছেন গর্ভবতী, এরই মধ্যে শিশুর জন্ম হয়েছে ২৯ হাজার ২৮৯টি। এতে আরও বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের কারণে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের মধ্যে স্থানীয় হাজারও কৃষক তাদের জমির ধান থেকে কোনো ফসল পাননি। অনেকেই তাদের জমি হারিয়েছেন।

 
এছাড়া ইতিমধ্যেই প্রায় ৫ হাজার ৮০০ হেক্টর সংরক্ষিত বন কেটে তৈরি হয়েছে রোহিঙ্গাদের ঘর। এছাড়া রোহিঙ্গাদের জ্বালানির চাহিদা পূরণে প্রতিনিয়ত বনের গাছ কাটা হচ্ছে।


সাড়ে ৪ হাজার একর জায়গার মধ্যে ৩৫ হাজার পায়খানা এবং ৭ হাজার টিউবওয়েল বসানো হয়েছে। ফলে উখিয়ার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার হুমকিতে রয়েছে। এ কারণে পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। হাতির বিচরণ ক্ষেত্র ও করিডরে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে তাদের খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে।

 


Top