২০২০-২১ পালন হবে মুজিব বর্ষ: প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা | daily-sun.com

২০২০-২১ পালন হবে মুজিব বর্ষ: প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা

ডেইলি সান অনলাইন     ৭ জুলাই, ২০১৮ ১০:৪৫ টাprinter

২০২০-২১ পালন হবে মুজিব বর্ষ: প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে আগামী ২০২০-২১ সালকে ‘মুজিব বর্ষ’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০২০ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী থেকে শুরু হয়ে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস পর্যন্ত এই মুজিব বর্ষ পালিত হবে। গতকাল শুক্রবার (৬ জুন) বিকেলে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের এক যৌথ সভার সূচনা বক্তব্যে এ ঘোষণা দেন শেখ হাসিনা। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।


শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ব্যাপকভাবে পালন করতে চায়। সারা দেশে বিভাগ, জেলা, উপজেলা, এমনকি ওয়ার্ড পর্যায় থেকেও কর্মসূচি পালন করতে চায়। সরকার ও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মুজিব বর্ষে দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি পালন হবে। ’ 


তিনি বলেন, ‘সমাজের সর্বস্তরের মানুষ নিয়েই এসব কর্মসূচি পালন করা হবে। কৃষক, শ্রমিক, কামার, কুমার, জেলেসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়েও বহুমুখী কর্মসূচি করা হবে। খেলাধুলা নাটক, আর্টসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণীর আয়োজন করা হবে। ২০২০ সালে বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তি পর্যন্ত বছরব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ২০২০-২১ সাল মুজিব বর্ষ হিসেবে পালিত হবে।

এই সময় জাতীয় ও দলীয় অন্য দিবসগুলোও পৃথকভাবে পালন হবে। ’


স্বাধীনতাসংগ্রামে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের অবদানের কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। তাঁরই দীর্ঘ আন্দোলনের ফসল এ স্বাধীনতা। তাঁর রক্তের ঋণ আমাদের শোধ করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর আত্মত্যাগের কারণে বাংলাদেশের মানুষ আজ সুখে-শান্তিতে বাস করছে। বাংলাদেশ আজ ক্ষুধামুক্ত হয়েছে। আমরা আজ নির্যাতিত শোষিত মানুষের পাশে আছি। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্ত—শাসিত ও শোষিত। আমি শোষিত মানুষের পক্ষে। শোষিত মানুষকে মুক্তি দেওয়ার লক্ষ নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ’


দেশের একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গৃহহীনদের ঘর করে দিতে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ হচ্ছে গ্রামের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা, সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। উন্নয়নগুলো তৃণমূল পর্যন্ত নিয়ে যাচ্ছি। বাংলাদেশকে আমরা স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলব। ’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। অনেকেই বলেন—উন্নয়নশীল দেশ হওয়াটা ভালো না, দেশের মানুষের সর্বনাশ করা। কিভাবে মানুষের সর্বনাশ হয় সেটা আমি জানি না। কিন্তু আমরা উন্নয়শীল দেশ না হয়ে ভিক্ষার ঝুলি হাতে নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াব, অন্যের কৃপায় চলব, এটাও তো হতে পারে না। ’ তিনি বলেন, ‘আমরা সব সময় চেয়েছি কারো কাছে হাত পেতে নয়, নিজেদের সম্পদ দিয়ে স্বাবলম্বী হিসেবে এগিয়ে যাব। নিজেদের পায়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াব। এ লক্ষ নিয়েই আমরা চলছি। মানুষের মধ্যে এই সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে চলমান। স্যাটেলাইট মহাকাশে। আমরা আধুনিক জ্ঞানসম্পন্ন জাতি গড়ে তুলতে চায়। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে উন্নীত হওয়াটা অনেকের পছন্দ না। কাদের এটা পছন্দ না এটা বুঝতে হবে। যারা কঙ্কালসার মানুষ দেখিয়ে বিদেশ থেকে টাকা এনে উচ্চ হারে ঋণ দিয়ে সুদ খাবে, নিজেদের সম্পদশালী করবে, সেই পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আজ সাধারণ মানুষ উন্নয়নের সুফল পাচ্ছে। সেখানে সর্বনাশ কিভাবে হয় জানি না। সর্বনাশ সাধারণ মানুষের নয়, যারা জনগণের রক্ত চুষে খায় তাদের হতে পারে। ’


শেখ হাসিনা বলেন, ‘সোনার বাংলা গড়তে জাতির পিতার যে আজীবনের স্বপ্ন ছিল সেটা পূরণের দিকে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ব ইনশা আল্লাহ। ’


বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আরো কয়েকটি বই প্রকাশ করার কাজ চলছে জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘১৯৪৭ সাল থেকে তৎকালীন পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার ৪৭টা ফাইল নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। ৩০ থেকে ৪০ হাজার পাতাকে ৯ হাজার পাতায় নামিয়ে নিয়ে এসে ১৪টি খণ্ডে তা প্রকাশ করা হবে। এর মধ্যে একটি ভলিউমের কাজ প্রায় শেষ, শিগগির ছাপানো হবে। এই রিপোর্টগুলো পড়লে বাংলাদেশের ইতিহাস জানার বাকি থাকবে না। ’ এ ছাড়া আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ও ১৯৫২ সালে বঙ্গবন্ধুর চীন সফর নিয়ে পৃথক দুটি বই প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি। শেখ হাসিনার বক্তব্যের পর রুদ্ধদ্বার যৌথ সভাটি শুরু হয়। এতে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বেশির ভাগ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।


‘মুজিব বর্ষ’ পালনে দুটি কমিটি গঠন: বৈঠকের সূত্রগুলো জানায়, বছরব্যাপী এই কর্মসূচি পালনে জাতীয় অধ্যাপক ও নজরুল গবেষক রফিকুল ইসলামকে প্রধান করে একটি উচ্চপর্যায়ের নাগরিক কমিটি গঠন করা হয়। এতে সদস্যসচিব থাকছেন সাবেক মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। আর আওয়ামী লীগের বছরব্যাপী কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। মুজিব বর্ষ পালন উপলক্ষে আরো বেশ কয়েকটি উপকমিটি গঠন করা হবে।


সূত্রগুলো জানায়, বৈঠকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে গৃহীত বছরব্যাপী নানা কর্মসূচি ও আয়োজনে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও রাজনীতিবিদদের আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তাব উঠলে শেখ হাসিনা সম্মতি দেন। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি ও অস্থায়ী জাদুঘর নির্মাণের প্রস্তাব বিবেচনায় নেওয়া হয়।

 


Top