ব্রাজিলের হেক্সা বিশ্বকাপ মিশনকে থামিয়ে দিল রেড ডেভিল বেলজিয়াম | daily-sun.com

ব্রাজিলের হেক্সা বিশ্বকাপ মিশনকে থামিয়ে দিল রেড ডেভিল বেলজিয়াম

ডেইলি সান অনলাইন     ৭ জুলাই, ২০১৮ ০২:১০ টাprinter

ব্রাজিলের হেক্সা বিশ্বকাপ মিশনকে থামিয়ে দিল রেড ডেভিল বেলজিয়াম

ফার্নানদিনিহোর আত্মঘাতী গোল এবং বেলজিয়ান ফরোয়ার্ড ক্যাভিন ব্রুনির গোলে রাশিয়া বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। সেই সাথে বিশ্বকাপ জয়ের হেক্সা মিশনও শেষ হলো সেলেকাওদের।

 

রাশিয়ার কাজান এরিনায় শুক্রবার দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে রোবার্তো মার্টিনেজের শিষ্যরা ২-১ গোলে নেইমারের ব্রাজিলকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের সেমিফাইনালে উত্তীর্ণ হয়েছে। এর আগে ১৯৮৬ সালে সেমিফাইনাল খেলেছিল বেলজিয়াম।  আগামী ১০ জুলাই (বুধবার) তারা ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে।

 

শুক্রবার দিনের অপর ম্যাচে ফ্রান্স ২-০ গোলে হারিয়েছে উরুগুয়েকে। উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের বিদায়ের মধ্য দিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপ আসর থেকে ল্যাটিন আমেরিকাও বিদায় নিল। এখন রাশিয়াসহ ইউরোপের দেশগুলোই টিকে রইলো এবং বিশ্বকাপও ইউরোপেই থেকে গেল।

 

এর আগে, গত ৩০ জুন, দ্বিতীয় রাউন্ডে বিদায় নিয়েছে আর্জেন্টিনা, বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতা থেকে ব্রাজিলও ছিটকে পড়ায় বাংলাদেশে বিশ্বকাপের উত্তেজনাও স্তিমিত হলো।

 

কাজান অ্যারেনায় এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই টান টান উত্তেজনা ছিল। দুই দলই আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ চালায়।

তবে আক্রমণে এগিয়ে ছিল ব্রাজিলই। ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতা এবং বেলজিয়াম গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়ার দুর্দান্ত বেশ কিছু সেভে হারতে হয় তাদেরই।

 

ম্যাচের ৭ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত ব্রাজিল। কর্নার থেকে ডি বক্সের মাঝে থেকে থিয়াগো সিলভার নেওয়া শট বারে লেগে ফিরে আসে। পরের মিনিটে গোল পেতে পারতো বেলজিয়ামও। নাসের ছাদলির শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৯ মিনিটে আবার দারুণ সুযোগ আসে ব্রাজিলের। ডি বক্সের মাঝে জটলায় ঠিকভাবে বলে পা লাগাতে পারেনি নেইমার। কর্নারে রক্ষা করে বেলজিয়ান ডিফেন্ডার। সেই কর্নার থেকে ফাঁকায় বল পেয়ে গিয়েছিল পুলিনহো। তবে জোরালো শট নিতে না পারায় তা সহজেই ফিরিয়ে দেয় বেলজিয়ান ডিফেন্ডার।

 

১২ মিনিটে ফাঁকায় শট নিয়েছিলেন কুতিনহো। এবারও দারুণ দক্ষতায় তা লুফে নেয় বেলজিয়ামের গোলরক্ষক কর্তোয়া। ধারার বিপরীতে পরের মিনিটে গোল পেয়ে যায় বেলজিয়াম। কর্নার থেকে হেড নিয়েছিল ভিনসেন্ট কম্পানি। তবে বারের দিকে যাওয়ার পথে ফের্নান্দিনহোর গায়ে লেগে দিক বদলে জড়ায় জালে। ১৪ মিনিটে আবারো বেলজিয়ান ডি বক্সে জটলা তৈরি হয়। শেষ মুহূর্তে তা ফিরিয়ে দেয় বেলজিয়ান গোলরক্ষক।

 

১৮ মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার শট নিয়েছিল কুতিনহো। তবে সে বল ধরতে কোনো পরীক্ষা দিতে হয়নি কর্তোয়াকে। ২৫ মিনিটে দূরপাল্লার শট নিয়েছিল মার্সেলোও। এবারও দারুণভাবে তা রুখে দেয় বেলজিয়ান গোলরক্ষক। ছয় মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করে রেড ডেভিলরা। কাউন্টার অ্যাটাকে রোমেলু লুকাকু ক্রস দেয় ডি ব্রুইনকে। দুই ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে দূরপাল্লার শটে দারুণ এক গোল দেয় ম্যানসিটির এই তারকা।

 

গোল শোধে মরিয়া ব্রাজিল ৩৫ মিনিটে ভালো সুযোগ পেয়েছিল। মার্সেলোর ক্রস থেকে জেসুসের নেওয়া শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পরের মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে দারুণ শট নিয়েছিল কুতিনহোও। তবে বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণ দক্ষতায় দলকে রক্ষা করে কর্তোয়া।

 

৪০তম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়াতে পারত বেলজিয়াম। ফ্রি কিক থেকে ডি ব্রুইনের শট ঝাঁপিয়ে পড়ে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করে অ্যালিসন বেকার। ওই কর্নার থেকে বল পেয়ে দারুণ এক ব্যাকহিল করেছিল কম্পানি। এবারও দারুণভাবে তা ফিরিয়ে দেয় অ্যালিসন।

 

গোল শোধ করতে দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই মরিয়া হয়ে খেলতে থাকে ব্রাজিল। ডগলাস কস্তা, রবার্তো ফিরমিনো ও রেনাতো অগাস্তোরা বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নেমে চেপে ধরে বেলজিয়ামকে।

 

৫১ মিনিটে মার্সেলোর দারুণ এক ক্রসে ফিরমিনো পা ছোঁয়াতে পারলে ব্যবধান কমত তখনই। তিন মিনিট পর পুলিনহোর দূরপাল্লার শট ফিরিয়ে দেয় কর্তোয়া। ৬১ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর সহজ এক সুযোগ মিস করে বেলজিয়াম। ডি ব্রুইনের পাস থেকে ফাঁকায় দারুণ এক শট নিয়েছিল হ্যাজার্ড। কিন্তু অল্পের জন্য লক্ষ্যে থাকেনি। পরের মিনিটে গোল পেতে পারতো ব্রাজিলও। কিন্তু পারেনি ওই কর্তোয়ার জন্য। কস্তার শট দারুণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেয় সে।

 

৭০ মিনিটে কস্তার দূরপাল্লার চেষ্টা সহজেই রুখে দেয় কর্তোয়া। চার মিনিট পর আবারও কস্তা। আবারও তাকে বিমুখ করে বেলজিয়ান গোলরক্ষক। ফিরতি বলে চেষ্টা করেছিল নেইমারও। কিন্তু তাকেও হতাশ হতে হয় কর্তোয়ার দক্ষতায়। দুই মিনিট পর অবশ্য ব্রাজিলিয়ান শিবিরে কিছুটা স্বস্তি এনে দেয় বদলি খেলোয়াড় অগাস্তো। গোলে অবশ্য অবদান ছিল বেশি কুতিনহোরই। দারুণ এক ক্রস দেয় অগাস্তোকে। ফাঁকায় দারুণ এক হেড নিয়ে বল জালে জড়ায় সে।

 

৮০ মিনিটে সমতায় ফিরতে পারত ব্রাজিল। ফাঁকায় পেয়েও লক্ষ্যে শট নিতে পারেনি অগাস্তো। তিন মিনিট পর নেইমারের ক্রস থেকে ফাঁকায় পেয়েছিল কুতিনহো। কিন্তু তার শট বার পোস্টের অনেক উপর দিয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। অতিরিক্ত সময়ে আবারো ব্রাজিলকে হতাশ করে কর্তোয়া। নেইমারের মাপা শট বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণ ভাবে ফিরিয়ে দিলে হতাশা বাড়ে ব্রাজিলের। শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানেই ম্যাচ জিতে নেয় বেলজিয়াম।


Top