রোহিঙ্গা শিবিরের অবকাঠামো উন্নয়নে ১০ কোটি ডলার দিচ্ছে এডিবি | daily-sun.com

রোহিঙ্গা শিবিরের অবকাঠামো উন্নয়নে ১০ কোটি ডলার দিচ্ছে এডিবি

ডেইলি সান অনলাইন     ৬ জুলাই, ২০১৮ ১৮:১৫ টাprinter

রোহিঙ্গা শিবিরের অবকাঠামো উন্নয়নে ১০ কোটি ডলার দিচ্ছে এডিবি

 

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে জোরপুর্বব বাস্তুচ্যুত হয়ে কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জন্য অবকাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশকে ১০ কোটি ডলার অনুদান দেবে এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। শুক্রবার (৬ জুলাই) এ অনুদান দেয়ার কথা জানিয়ে এডিবি প্রেসিডেন্ট তাকেহিকো নাকাও বলেছেন, এতো ব্যাপক মাত্রায় মানবিক সাহায্যের কারণে আমরা কক্সবাজারে বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা করতে বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে গভীরভাবে কাজ করছি।


কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের অবকাঠামো উন্নয়নে সবমিলিয়ে ২০ কোটি ডলার অনুমোদন দেবে এডিবি। খবর রয়টার্সের।


গেলো মে মাসে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় এডিবির বার্ষিক বৈঠকে রোহিঙ্গাদের জন্য অনুদান চেয়ে এডিবি প্রধানের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।


সহায়তা প্রকল্পের প্রথম অংশ দিয়ে উখিয়া ও টেকনাফে শরণার্থীদের জন্য মৌলিক অবকাঠামো নির্মাণ ও বিভিন্ন সেবার উন্নয়ন করা হবে।


এডিবি প্রধান নাকাও বলেছেন, প্রকল্পের প্রথম ধাপে খাদ্যাভাব ও অন্যান্য ঝুঁকি কমাতে অবকাঠামোসহ বিভিন্ন সেবার উন্নয়নে কাজে লাগানো হবে।


মৌলিক খাদ্য মজুদ, বণ্টনকেন্দ্র, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জরুরি প্রবেশ সুবিধার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সড়ক সংস্কার করা হবে।

 


এছাড়া ঘূর্ণিঝড় ও মৌসুমী ঝড়প্রবণ অঞ্চলে দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বাড়াতেও এ প্রকল্প কাজ করবে। এজন্য আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, ভূমিধস ঠেকাতে সুরক্ষা বাঁধ ও পয়ঃনিষ্কাশন নেটওয়ার্ক তৈরি করা হবে।


এর আগে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের সহায়তায় ৪৮ কোটি ডলার অর্থ সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও সামাজিক সুরক্ষা চাহিদা মেটাতে এ সহায়তা দেয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।


প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ শুরুর পর সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলমান পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তারা কক্সবাজার ও বান্দরবানের ৩২টি শরণার্থী শিবিরে বাস করছে। সম্প্রতি শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক সার-সংক্ষেপে বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্র্রেশন সম্পূর্ণ হয়েছে ১০ লাখ ৯৭ হাজার ৭৭১ জন রোহিঙ্গার। এদের মধ্যে পুরুষ হচ্ছে ৪৮ শতাংশ এবং মহিলা ৫২ শতাংশ। এছাড়া শিশু রয়েছে ৫৫ শতাংশ, এতিমের সংখ্যা ৩৬ হাজার ৩৭৩ জন, এর মধ্যে ৭ হাজার ৭৭১ জন তাদের বাবা-মাকে হারিয়ে ফেলেছে। ১৮ হাজার মহিলা রয়েছেন গর্ভবতী, এরই মধ্যে শিশুর জন্ম হয়েছে ২৯ হাজার ২৮৯টি। এতে আরও বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের কারণে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের মধ্যে স্থানীয় হাজারও কৃষক তাদের জমির ধান থেকে কোনো ফসল পাননি। অনেকেই তাদের জমি হারিয়েছেন।

 


এছাড়া ইতিমধ্যেই প্রায় ৫ হাজার ৮০০ হেক্টর সংরক্ষিত বন কেটে তৈরি হয়েছে রোহিঙ্গাদের ঘর। এছাড়া রোহিঙ্গাদের জ্বালানির চাহিদা পূরণে প্রতিনিয়ত বনের গাছ কাটা হচ্ছে।


সাড়ে ৪ হাজার একর জায়গার মধ্যে ৩৫ হাজার পায়খানা এবং ৭ হাজার টিউবওয়েল বসানো হয়েছে। ফলে উখিয়ার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার হুমকিতে রয়েছে। এ কারণে পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। হাতির বিচরণ ক্ষেত্র ও করিডরে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে তাদের খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে।

 


Top