শনিবার সমাবেশের অনুমতি পায়নি বিএনপি, রবিবার থানায় থানায় বিক্ষোভ | daily-sun.com

শনিবার সমাবেশের অনুমতি পায়নি বিএনপি, রবিবার থানায় থানায় বিক্ষোভ

ডেইলি সান অনলাইন     ৬ জুলাই, ২০১৮ ১৪:৩৬ টাprinter

শনিবার সমাবেশের অনুমতি পায়নি বিএনপি, রবিবার থানায় থানায় বিক্ষোভ

 

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এবং কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ‘সুচিকিৎসা এবং নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে’ শনিবার (৭ জুলাই) নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সমানে সমাবেশের অনুমতি না পাওয়ায় পরের দিন রবিবার (৮ জুলাই) রাজধানীর থানায় থানায় বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছে দলটি। শুক্রবার (৬ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের  কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ এ তথ্য জানান।


তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত করার প্রতিবাদে ও তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে পুলিশ আগামীকাল কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সমনে সমাবেশ করতে না দেয়ার প্রতিবাদে আগামী ৮ জুলাই রবিবার ঢাকা মহানগরীর থানায় থানায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে।


এর আগে বৃহস্পতিবার (৫ জুলাই) দলটির ডাকা প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসূচি শনিবার (৭ জুলাই) পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।  


এছাড়া একই দাবিতে আগামী ৯ জুলাই সোমবার ঢাকাসহ সারাদেশে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। কর্মসূচিটি সেদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। এরইমধ্যে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) এবং গুলিস্তানের ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালনের অনুমতি চেয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে।


এদিকে বৃহস্পতিবার একটি দৈনিকে প্রকাশিত ‘তারেকের টেবিলে বিএনপির ৩০০ আসনের প্রার্থী তালিকা’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদনের সমালোচনা করেন রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের টেবিলে যে ৩০০ প্রার্থীর নামের তালিকা আছে বলে উল্লেখ করেছে তাতে মৃত ব্যক্তিদের নাম এলো কিভাবে।


রিজভী বলেন, প্রতিবেদনটি শুধু হাস্যকরই নয়, এটি সরকারের মিথ্যা প্রপাগান্ডার এক উদ্বেগজনক সংযোজন। আমরা নিশ্চিত যে, বিশেষ সংস্থার নির্দেশেই প্রতিবেদনটি তৈরি ও প্রকাশ করা হয়েছে।

সারাদেশের মানুষ যখন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে সোচ্চার তখন জনদৃষ্টিকে ভিন্ন দিকে সরানোর জন্য আওয়ামী সরকারের নির্দেশে দুরভিসন্ধিমূলক সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছে।


বিএনপির এ নেতা আরও জানান, কয়েক বছর আগে বিএনপির মৃত কয়েকজন সাবেক সংসদ সদস্যের নামও আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য মনোনীত প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন সদ্য প্রয়াত জয়পুরহাট-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোজাহার আলী প্রধান, কুমিল্লা-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মরহুম খোরশেদ আলম, চাঁদপুর-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলমগীর হায়দার খান, রাজশাহী-৬ আসনের মরহুম আজিজুর রহমান প্রমুখ।


রিজভী বলেন, এমন সংবাদ পরিবেশন করিয়ে দেশবাসী ও বিদেশিদের দেখানো হচ্ছে যে, দেশের সর্বাধিক জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।


রিজভী বলেন, শেখ হাসিনার সকল ষড়যন্ত্রে ফাটল ধরতে শুরু করেছে। নীলনকশার নির্বাচনের ছক জনগণের কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে। আবারও একটি একতরফা ভোট ডাকাতির নির্বাচন এদেশের মানুষ হতে দেবে না। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় আটকে রাখা যাবে না। চারদিকে শেখ হাসিনার সরকারবিরোধী আওয়াজ শুরু হয়েছে। বর্তমান সরকারের বিদায় এখন অত্যাসন্ন।


আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে এবং নির্বাচনে আসবে এটি ধরে নিয়েই সবাইকে এখন থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হবে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, আপনি কোন আধ্যাত্মিক ক্ষমতার জোরে জানতে পারলেন যে, আপনার অধীনেই বিএনপি নির্বাচনে আসবে? আপনি তো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে লোহার সিন্দুকে আটকিয়ে রেখেছেন। আর অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনকে তো আপনি পুলিশের রাইফেলের নলের মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছেন।


এ সময় তিনি ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার সমালোচনা করে বলেন, পুলিশও ছাত্রলীগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে। বৃহস্পতিবারও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মারধর করেছে ছাত্রলীগ। আমি আবারও সরকারের প্রতি আহ্বান জানাবো সন্ত্রাসের পথ ছেড়ে, প্রতারণার পথ ছেড়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করুন। হামলাকারীদের গ্রেফতার করুন। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে দিন।


সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদীন ফারুক, আতাউর রহমান ঢালী, বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সহ দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ।

 


Top