দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও রোমাঞ্চকর জয়ে বেলজিয়াম শেষ আটে | daily-sun.com

দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও রোমাঞ্চকর জয়ে বেলজিয়াম শেষ আটে

ডেইলি সান অনলাইন     ৩ জুলাই, ২০১৮ ০৩:১৫ টাprinter

দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও রোমাঞ্চকর জয়ে বেলজিয়াম শেষ আটে

প্রথমার্ধ গোলশূন্য। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই জাপান পর পর দুই গোল বেলজিয়ামের জালে জড়িয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপে আরও একটি রূপকথা রচনার আভাস দেখিয়েছিল।

আশা জাগিয়েছিল প্রথমবার বিশ্বকাপের কোয়র্টার ফাইনালে খেলার।

 

কিন্তু ইউরোপের ‘রেড ডেভিল’রা সব ভণ্ডুল করে দিয়ে নির্ধারিত (৯০+৪) সময়েই বিজয় ছিনিয়ে নেয়। ইনজুরি সময়ের শেষ দশ সেকেন্ডে একটি কাউন্টার অ্যাটাক থেকে জয়সূচক জয় করে বেলজিয়ামের ডিফেন্ডার ছাদলি।

 

প্রথমার্ধে সমান তালেই লড়াই করেছে জাপান। গোল করার সুযোগ তৈরি করেও ব্যর্থ হচ্ছিল বেলজিয়াম। কিন্তু ম্যাচের প্রথম গোলের সুযোগটা পায় জাপান।

 

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে যেন অপ্রতিরোধ্য জাপান। চার মিনিটের ঝলকে দুই গোলে এগিয়ে যায় দলটি। ৪৮ মিনিটে জান ভেট্রোনঘেনের ভুলে ডান প্রান্তে ফাঁকায় বল পেয়ে যায় গেনকি হারাগুচি।

আর তা থেকে বল পেয়ে ডান পায়ের জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করে সে।

 

রের মিনিটেই সমতায় ফিরতে পারত বেলজিয়াম। হ্যাজার্ডের দুর্দান্ত শট বারপোস্টে লেগে ফিরে আসে।

 

৫২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে জাপান। কাগাওয়ার কাছ থেকে বল পেয়ে ডি বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার নিখুঁত মাপা এক শটে বল জালে জড়ায় তাকাশি ইনুই।

 

দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে কিছুক্ষণ খেই হারিয়ে ফেলে বেলজিয়াম। সে সুযোগে আরও তেঁতে ওঠে জাপান। বেশ কিছু আক্রমণ করে তারা। তবে নিজেদের গোছাতে খুব বেশি সময় নেয়নি বেলজিয়াম। মাঝে কিছু আক্রমণ করেছিল বটে। তবে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসে ৬৯ মিনিটে।

 

অবিশ্বাস্য এক হেডে দায় মোচন করে ভেট্রোনঘেন। ডি বক্সে মধ্যে দুরূহ কোণে ফাঁকায় হেড দেওয়ার সুযোগ পায় সে। জাপানি ডিফেন্ডার বাধা দেওয়ার জন্যও এগিয়ে আসেনি। ভেবেছিল এমন কোণ থেকে ডি বক্সে সতীর্থদের পাস দিবে সে। কিন্তু তার হাওয়ায় ভাসানো মাপা হেড দ্বিতীয় বারে লেগে জালে জড়ালে কিছুটা স্বস্তি ফেরে রেড ডেভিলদের।

 

এক গোল শোধ করে নিজেদের ফিরে পায় বেলজিয়াম। পাঁচ মিনিট পরই সমতায় ফেরে তারা। হ্যাজার্ডের ক্রস থেকে ফাঁকায় দারুণ হেডে লক্ষ্যভেদ করে বদলি খেলোয়াড় ফেলানি। ৭৮ মিনিটে লুকাকুর হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

 

৮৬ মিনিটেও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল বেলজিয়ামের। কিন্তু জাপানি গোলরক্ষক ইজি কাওয়াশিমার অতিমানবীয় তৎপরতায় তা ব্যর্থ হয়।

 

তাও একবার নয় দুইবার। প্রথমবার ছাদলির জোরালো হেড বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ফিরিয়ে দেয়। ফিরতি বল পেয়ে ছাদলি ক্রস দেয় ডি বক্সে। সেখানে একেবারে ফাঁকায় লুকাকু। কিন্তু তার হেড আবারও দারুণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেয় কাওয়াশিমা।

 

ম্যাচের যোগ করা সময়ে এগিয়ে যেতে পারত জাপান। কিন্তু হোন্ডোর দূরপাল্লার শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে কর্নারের বিনিময়ে ফিরিয়ে দেন বেলজিয়ান গোলরক্ষক কর্তোয়া।

 

এই কর্নারেই কপাল পুড়লো জাপানের। কর্নার থেকে বল হারিয়ে কাউন্টার অ্যাটাকে উল্টো গোল খেয়ে বসে তারা। টমাস মিউনারের ক্রস থেকে ফাঁকায় বল পেয়ে বল জালে জড়ায় ছাদলি।

 

কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের প্রতিপক্ষ ব্রাজিল। সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামী ৬ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও বেলজিয়াম।


Top