শত শত খ্রিস্টানের জীবন বাঁচালেন ইমাম সাহেব | daily-sun.com

শত শত খ্রিস্টানের জীবন বাঁচালেন ইমাম সাহেব

ডেইলি সান অনলাইন     ২ জুলাই, ২০১৮ ১৮:১৫ টাprinter

 শত শত খ্রিস্টানের জীবন বাঁচালেন ইমাম সাহেব

নাইজেরিয়ারর একটি মসজিদের ইমাম দেখলেন, তাদের গ্রামে শত শত ভীতসন্ত্রস্ত মানুষ ছুটে আসছে। তখন তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আশ্রয় পেতে ছুটে আসা মানুষদের সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নিলেন।

  এই পরিবারগুলো পালিয়ে আসছিল মূলত খ্রিস্টান অধ্যুষিত একটি প্রতিবেশী গ্রাম থেকে।

 

পালিয়ে আসা এসব লোকজন জানান, প্রায় ৩০০ জনের মতো সশস্ত্র ব্যক্তি তাদের ওপর হামলা চালায়। সন্দেহ করা হচ্ছে, হামলাকারীরা গবাদিপশু পালক এবং তাদের বেশির ভাগই মুসলমান।

৩০ জুন, শনিবার দুপুরে নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলের খ্রিস্টান অধ্যুষিত গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

  

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, আক্রমণকারীরা অকস্মাৎ তাদের গ্রামের ভেতরে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে এবং বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে দেন।

হামলা থেকে যারা বাঁচতে সক্ষম হন, তারা প্রতিবেশী মুসলিম অধ্যুষিত একটি গ্রামের দিকে পালিয়ে যেতে শুরু করেন। এই গ্রামেরই ইমাম তখন তাদেরকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন। পালিয়ে আসা লোকজনকে তিনি একটি গোপন আশ্রয়ে নিয়ে যান। ২৬২ জনকে তিনি আশ্রয় দেন তার নিজের বাড়িতে এবং গ্রামের মসজিদে।

তাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি।

 

ওই ইমাম বলেন, ‘প্রথমে আমি নারীদেরকে লুকিয়ে রাখার জন্যে আমার নিজের বাড়িতে নিয়ে যাই। তারপর পুরুষদের নিয়ে যাই মসজিদে।

নাইজেরিয়ার মধ্যাঞ্চলে প্রায়শই এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে যাযাবর পশুপালকরা স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হযন। মূলত জমিজমা কিংবা চারণভূমি দখল করা নিয়েই এই সংঘর্ষ ঘটে।

 

 

একই সঙ্গে এই অঞ্চলে দুটো গোষ্ঠীর মধ্যে ধর্মীয় উত্তেজনারও সৃষ্টি হয়। পশুপালকরা জাতিগতভাবে ফুলানি গোষ্ঠীর, তাদের বেশির ভাগই মুসলিম আর অন্যদিকে খ্রিস্টানরা বেরম জাতিগোষ্ঠীর।

 

এই অঞ্চলে এ বছরেই জাতিগত সহিংসতায় শত শত লোক নিহত হয়েছে। এক গ্রুপের হামলা, তারপর প্রতিপক্ষ গ্রুপের প্রতিশোধ– এ ধরনের পাল্টাপাল্টি আক্রমণের ঘটনা ঘটছে গত কয়েক বছর ধরেই।

 

২০১৬ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নাইজেরিয়ায় জঙ্গিগোষ্ঠী বোকো হারামের হাতে যত মানুষ নিহত হয়েছে, তার চেয়েও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে গবাদিপশুর চারণভূমি দখলের লড়াইয়ের কারণে।

 

যুক্তরাজ্যভিত্তিক গণমাধ্যম বিবিসির এক সংবাদদাতা বলেন, ‘গ্রামের ওই ইমাম যদি তখন পালিয়ে আসা খ্রিস্টানদের বাঁচাতে এগিয়ে না আসতেন, তাহলে আরও বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটত। কারণ সশস্ত্র ব্যক্তিরা তখন প্রতিবেশী এই গ্রামটিতেও পালিয়ে যাওয়া লোকজনের খোঁজে তল্লাশি চালিয়েছিল। ’

 

গ্রামবাসীদের একজন বলেন, ‘প্রথমে তারা একটি গ্রামে হামলা চালায়। তখন আমরা নিরাপত্তা চৌকিগুলোর দিকে দৌড়াতে শুরু করি। কিন্তু তখন তারা সেদিকেও গুলি চালাতে শুরু করে। তখন নিরাপত্তা বাহিনীর লোকেরাও আমাদের মতো এদিকে-ওদিকে পালাতে শুরু করে।

 

আক্রমণকারীরা এখানেই থেমে যায়নি। যখন তারা জানতে পারে যে, ইমাম গ্রামবাসীদেরকে একটি মসজিদের ভেতরে আশ্রয় দিয়েছেন, তখন তারা তাদেরকে মসজিদের ভেতর থেকে বের করে আনার জন্যে ইমামের কাছে দাবি জানাতে থাকে। কিন্তু মসজিদের ইমাম তখন তাদের দাবি অনুযায়ী কাজ করতে রাজি হননি। শুধু তাই নয়, আক্রমণকারীদেরকে তিনি মসজিদের ভেতরে যাওয়ারও অনুমতি দেননি। ’

 


Top