দিল্লিতে একই পরিবারের ১১ জনের মৃত্যু ঘিরে রহস্যময় ডায়েরি! | daily-sun.com

দিল্লিতে একই পরিবারের ১১ জনের মৃত্যু ঘিরে রহস্যময় ডায়েরি!

ডেইলি সান অনলাইন     ২ জুলাই, ২০১৮ ১৭:৩৮ টাprinter

দিল্লিতে একই পরিবারের ১১ জনের মৃত্যু ঘিরে রহস্যময় ডায়েরি!

দিল্লির একই পরিবারের ১১ জনের মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে নেমে কার্যত ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গিয়েছে পুলিশ। রহস্যের কিনারা হওয়া তো দূরে থাক, উদ্ধার হওয়া এক ডায়েরিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে জল্পনা।

 

গত ১ জুলাই সকালে দিল্লির বুরারি এলাকার একটি বাড়ি থেকে ভাটিয়া পরিবারের ১১ জনের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পায় পুলিশ। মৃতদের মধ্যে সাতজন মহিলা এবং চারজন পুরুষ। মৃতদেহগুলির চোখ এবং মুখে কাপড় বাঁধা ছিল। তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথম দফায় জানতে পারে, এই পরিবারটি প্রায় দু’দশক ধরে এই অঞ্চলের বাসিন্দা। রাজস্থানের চিতোরগড় জেলার সাওয়া গ্রামের এই পরিবারটিই গ্রামের মধ্যে প্রথম দিল্লি চলে আসে। প্রথমে হোটেলের কর্মচারী হিসেবে কাজ শুরু করলেও ধীরে ধীরে প্লাইউড ও মুদির দোকান গড়ে তোলে তারা।

 

তদন্তের দ্বিতীয় ধাপে রহস্য জোরালো হয় কারণ, আপাত স্বচ্ছল পরিবারটির মধ্যে কোনও অশান্তির চিহ্নই ছিল না। ইতিমধ্যে দুই গৃহকর্তা ভবনেশ ভাটিয়া ও ললিত ভাটিয়ার এক বন্ধু তথা প্রতিবেশী এক সর্বভারতীয় সংবাদসংস্থাকে জানান, ‘‘ওরা আত্মঘাতী হতেই পারে না, গতকাল রাতেই আমার কথা হয়েছে ভবনেশের সঙ্গেই। ওর চেহারায় হতাশার লেশমাত্র ছিল না।

’’ ঠিক এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে একটি পারিবারিক ডায়েরি পায় পুলিশ। রহস্য উদঘাটিত হতে থাকে ডায়েরির পাতায় পাতায়।

 

দেখা যাচ্ছে, পুঙ্খানুপুঙ্খ মৃত্যুদৃশ্য আগেই বর্ণিত ডায়েরিতে। লেখা রয়েছে, ‘‘প্রত্যেকের চোখ নিখুঁত ভাবে বাঁধতে হবে। শূন্য ছাড়া যাতে কিছুই যাতে পরিলক্ষিত না হয়। দড়িতে বাঁধা শাড়ি বা ওড়না ব্যবহার করতে হবে। ’’

 

এমনকি এই ‘মারণ ক্রিয়া’-র দিনক্ষণও পূর্ব নির্ধারিত। লেখা হচ্ছে, ‘‘সাতদিন বাদে শ্রদ্ধা ও একাগ্রতার সঙ্গে আচার-ক্রিয়াদি শুরু করতে হবে। এর মধ্যে কেউ এসে গেলে সেদিন পূজা স্থগিত রাখতে হবে। বৃহস্পতিবার বা রবিবার হল আদর্শ দিন, রাত একটাই সময় হিসেবে শ্রেয়। ’’ ১১ জনের মধ্যে ৯ জনকে ৩ জনের এক একটি দল করে, একজনকে জানালায় এবং পরিবারের সবচেয়ে বয়োঃজ্যেষ্ঠ নারায়ণীকে পাশের ঘরে শুইয়ে হত্যার ছক সাজানো হয়।

 

ডায়েরিটিতে শেষ সংযোজন করা হয় গত শুক্রবার। তন্ত্রের বিভিন্ন সংকেতও পাওয়া যায় উদ্ধার হওয়া ডায়েরির পাতায়। শেষ পাতাটিতে লেখা— ‘‘এবার ক্রিয়ার সময়ে সবার মনের অবস্থা একই রকম হওয়া চাই। এই ক্রিয়া সম্পন্ন হলেই পরবর্তী পথ সুগম হবে। ’’

 

সব দেখেশুনে যুক্তিবুদ্ধি গুলিয়ে গেছে পুলিশের। হতাশাজনিত কারণে আত্মহত্যা নয়, সমৃদ্ধ পরিবারের রীতিমতো পরিকল্পনা মাফিক আত্মহত্যা বিশেষ মোক্ষ লাভের আশায়। কী সেই মোক্ষ? তন্ত্রের কোনও পরিচিত শাখায় এমন কোনও ক্রিয়ার উল্লেখ পাওয়া যায় না।  

 

দিল্লি নিবাসী মনস্তত্ত্ববিদ রূপা মুরঘাই এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, ‘‘এমন অনেক গোপন ধর্মীয় সম্প্রদায় রয়েছে, যারা লোকজনের মগজধোলাই করে, তাদের বিশ্বাস করতে বাধ্য করে বেঁচে থাকাটা ততটা সুখকর কিছু নয়। ’’

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের মনস্তত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপিকা নলিনী ডেকা অবশ্য এর পিছনে মাদকচক্রের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না।  

 

 


Top